স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: পুলিশের কনস্টেবল হওয়ার জন্য পরীক্ষা দিতে এসে, খোদ পুলিশের সঙ্গেই বিশৃঙ্খলায় জড়িয়ে পড়লেন চাকরি প্রার্থীরা৷ অভিযোগ, পরীক্ষার্থীরা যেমন পুলিশের সঙ্গে বচসা এবং হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন৷ তেমনই অন্যদিকে, পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশও হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে৷

শেষমেষ পুলিশের হস্তক্ষেপেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে৷ এই ঘটনায় অবশ্য পুলিশের তরফে কোনও প্রকার হাতাহাতি কিংবা বচসার কথা অস্বীকার করা হয়েছে৷ তবে, মুচিপাড়া থানার এক অফিসার বলেন, ‘‘পরীক্ষার্থীরা ব্যাগ পাচ্ছিল না বলে প্রথমে কিছুটা বিশৃঙ্খলা ছড়িয়েছিল৷ পরে অনেকে ব্যাগ পেয়েও গিয়েছেন৷’’ যদিও, পুলিশ সূত্রের খবর, এই ঘটনায় মুচিপাড়া থানায় বেশ কয়েকজন পরীক্ষার্থী ব্যাগ না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন৷

Advertisement

রবিবার সকাল ১০টা থেকে শিয়ালদহ সুরেন্দ্রনাথ ল’ কলেজে কলকাতা পুলিশের কনস্টেবল পদে নিয়োগের জন্য লিখিত পরীক্ষা ছিল৷ প্রায় দু’ হাজার চাকরি প্রার্থী পরীক্ষা দিতে এসেছিলেন৷ আগে থেকে বলে দেওয়া হয়েছিল যে, পরীক্ষার সময় ব্যাগ, মোবাইল ফোন সহ বেশ কিছু জিনিস সঙ্গে রাখতে পারবেন না প্রার্থীরা৷ যে কারণে, পরীক্ষায় বসার আগে এই ধরনের বিভিন্ন জিনিস হলের বাইরে রেখে দিতে হয়৷ তবে, যে সব প্রার্থী অভিভাবকদের সঙ্গে এসেছিলেন, তাঁরা অবশ্য ব্যাগ, মোবাইল ফোন সহ অন্য বিভিন্ন জিনিস তাঁদের অভিভাবকদের কাছেই রাখেন৷

সূত্রের খবর, দুপুর ১টা নাগাদ পরীক্ষা দিয়ে হল থেকে বেরিয়ে এসে অনেক প্রার্থী দেখেন যে, তাঁদের ব্যাগ উলট-পালট হয়ে রয়েছে৷ নিজেদের ব্যাগ ও অন্য বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জিনিস খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগও করেন অনেকে৷ এই নিয়ে বিশৃঙ্খলা শুরু হয়৷ তখন সাদা পোশাকে কিছু পুলিশকর্মী পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলে, তাঁদের সঙ্গে ওই সব পরীক্ষার্থীর অনেকে বচসায় জড়িয়ে পড়েন৷ পুলিশকর্মীদের গায়ে ব্যাগ ছুঁড়ে মারার অভিযোগও ওঠে৷ তখন পুলিশকর্মীরাও পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ৷ এরই মাঝে কিছু পরীক্ষার্থী কলেজের ফুল গাছের টব, নোটিশ বোর্ডের কাঁচ ভাঙচুর করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে৷ পরিস্থিতি সামলা দিতে মুচিপাড়া থানার বিরাট পুলিশবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছয়৷ বিক্ষুব্ধ ওই সব পরীক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ৷

----
--