তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: ‘মাছে ভাতে’ মধ্যবিত্ত বাঙালির রবিবারের দুপুর মানেই মাংস পাতে চাই। এক প্রকার নিশ্চিত করেই বলা যায় রবিবার মানেই সিংহভাগ বাঙালির মধ্যাহ্ন ভোজে থাকে ভাত আর মাংস। কিন্তু দোকান থেকে কেনা সেই মাংসই যদি হয় পচা। তাহলে খাদ্যপ্রিয় বাঙালি কি করবে?

ফের আরও একবার পচা মাংস বিক্রিকে কেন্দ্র করে উত্তাল হল বাঁকুড়ার সোনামুখির রাধামোহনপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার নিত্যানন্দপুর বাজার। এই ঘটনায় অভিযুক্ত মাংস বিক্রেতা রুই দাসকে ইতিমধ্যেই পুলিশ আটক করেছে। সম্প্রতি রাজ্যের বিভিন্ন এলাকার পাশাপাশি বাঁকুড়া শহরেরও পচা মাংস বিক্রির অভিযোগ উঠেছিল। সেই অভিযোগের পর পুরসভা অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েক কুইন্ট্যাল পচা ও বাসি মাংসও উদ্ধার করেছিল। কিন্তু এবার বাঁকুড়ারই এক গ্রামে পাওয়া গেল পচা মাংস৷ তবে গ্রাম এলাকায় এই ধরণের ঘটনা প্রথম বলেই দাবি অনেকের৷

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে খবর, নিত্যানন্দপুর এলাকার বাসিন্দা রুই দাস ওই বাজারে অনেক দিন থেকেই মাংসের ব্যবসা করছেন। বেশ কয়েকবার পচা মাংস বিষয়ে অভিযোগ জানালে ওই ব্যাবসায়ী তা অস্বীকার করেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। রবিবার ফের পচা মাংস বিক্রি করলে সাধারণ মানুষ তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন। খবর দেওয়া হয় সোনামুখী থানায়। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছে সোনামুখী থানার পুলিশ কয়েক কেজি পচা মাংস উদ্ধার করে৷ সেই সঙ্গে অভিযুক্তকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় বলেও জানা গিয়েছে।

এই প্রসঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দা সঞ্জয় সম্মাদার বলেন, ‘‘নিত্য আনন্দের নিত্যানন্দপুরে এই ধরণের ঘটনা প্রথমবার। এতদিন টিভি আর খবরের কাগজে এই ধরনের খবর দেখে এসেছি। কিন্তু আমাদের গ্রামে এই ধরনের ঘটনা প্রত্যক্ষ করতে হবে কখনও ভাবিনি৷’’ পাশাপাশি এলাকাবাসী দীপঙ্কর মিস্ত্রী, দুলাল সরকার, সীতাংশু সমাজপতিরাও ওই ব্যবসায়ীর বিরদ্ধে একই অভিযোগ করেন। তাঁরা বলেন, ‘‘এর আগে আমরা ওই ব্যক্তির দোকান থেকে মাংস কিনে ঠকেছি। বারবার বলা সত্বেও কোনও ভ্রুক্ষেপ করেনি৷ তবে এদিন হাতানাতে পাকড়াও করেছি আমরা৷’’ এই ব্যবসায়ীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন এলাকাবাসী৷

যদিও অভিযুক্ত রুইদাস তার বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, আমি পচা বা বাসি মাংস বিক্রি করিনা। একই সঙ্গে তিনি বলেন, এলাকার স্বপন বাড়ৈ নামে এক ব্যক্তির পোলট্রি ফার্ম থেকে মুরগী এনে তিনি তা কেটে বিক্রি করেন বলে দাবী করেন। পুলিশ সূত্রে ঘটনার তদন্ত চলছে বলে জানানো হয়েছে।

----
--