‘সস্তার’ পেট্রোলেও মিলবে না বাজার দর কমার ‘স্বর্গ সুখ’

সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা : পেট্রোল ডিজেলের দাম কমায় বাজারের দাম কমবে না। এমনটাই দাবি পাইকারি থেকে খুচরো সবজি বিক্রেতাদের। ২০১৮-১৯ সালের কেন্দ্রীয় বাজেটের দিকে চোখ ছিল মধ্যবিত্তদের। বিশেষ নজর ছিল ছিল পেট্রোল , ডিজেলের দামের দিকে। দাম কমেও সাধারণের কোনও লাভ হবে না বলেই জানাচ্ছেন কলকাতার সবজি ব্যবসায়ীরা। ব্যাপক হারে পেট্রোল , ডিজেলের দাম কমলেই তা সাধারন মানুষের লাভজনক হতে পারত ব অলে জানাচ্ছেন তাঁরা।

সারা বছর বাজার দর বেড়ে যাওয়া বা কমা নিয়ে মধ্যবিত্ত গৃহস্থের রোজকার চিন্তা। বাড়লেই কপালে ভাঁজ, একমাত্র কমলেই কমে চিন্তার ভাঁজ। খরচা আছে , আয় কম। দিন চলবে কি ভাবে? এছাড়া অফিসে বসের চাপ নিত্যসঙ্গী। সবসময়েই ব্লাড প্রেসার হাই। তাই ২০১৮-১৯ বাজেটের দিকে অর্থাৎ অরুণ জেটলির স্যুটকেসের দিকে নজর ছিল মধ্যবিত্তের। তিনি যদি বলেন জ্বালানির দাম কমবে, তাহলে ভাঁড়ারের খরচা কমবে। বাজেট শেষ হতেই জানা যায় পেট্রোলের দাম ২ টাকা কমেছে। অল্প কমেছে ডিজেলের দামও। কিন্তু এই অল্প দাম কমায় বাজার দরের কোনওরকম পরিবর্তন হবে না বলেই জানাচ্ছেন পাইকারি থেকে খুচরো ব্যবসায়ী প্রত্যেকে।

জানুয়ারি মাসে ব্যাপক হারে বেড়ে যায় পেট্রোল ও ডিজেলের দাম। দাম চড়তে চড়তে ২৮ জানুয়ারি পেট্রোলের দাম গিয়ে ঠেকে ৭৫ টাকা ৪৭ পয়সা প্রতি লিটার। ডিজেলের দাম হয় ৬৬ টাকা ৫২ পয়সা প্রতি লিটার ।
২০১৮-২০১৯ অর্থবর্ষ প্রকাশের পরেই দাম কমে পেট্রোল ও ডিজেলের। পেট্রোলের বর্তমান দাম ৭৩.৭৪ টাকা। ডিজেলের দাম ৬৪.৭৪ টাকা । অর্থাৎ দুই ক্ষেত্রেই প্রায় ২ টাকা করে এক ধাক্কায় ক্মেছে দাম। কিন্তু এতে বাজার করতে এসে সাধারন মানুসের কোনও লাভ হবে না।

শিয়ালদহ বাজারের পাইকারি বাজারের প্রধান কমল দে বলেন, “হাট থেকে পাইকারি বাজার অবধি জিনিস আসতে আমাদের প্রতি সবজির উপর প্রতি কিলোয় ৪ থেকে সাড়ে ৪ টাকা খরচ হয়। এই দামটা এখনই কেউ কমাতে চাইবে না। কারন পেট্রোল ডিজেলের দাম স্থায়ী ভাবে কমে না কোনও অর্থবর্ষেই। আজ যেটা ২ টাকা কমেছে বলে মনে হচ্ছে সেটা ১ মাস বাদেই আবার বেড়ে জেতে পারে।”

যে লরি বা ট্রাকে মাল আসে রোজ এত দর দেখেন না। তার নির্দিষ্ট একটি দর আছে সেই অনুযায়ী সে চলে। ২ টাকা কমলে সেই অনুযায়ী মাল আনার দাম কমানো সম্ভব নয়। কারন এতে হিসাব গুলিয়ে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা থাকে। একমাত্র বিশাল কিছু হেরফের হয়ে গেলেই তখন তাঁরা দাম কমায়। তখনি দাম কমে পাইকারি ও খুচরো বাজারে। হাসি ফোটে গৃহস্থে। মানিকতলা বাজারের দীর্ঘদিনের মাছের ব্যবসায়ী বাবলু দাস। সমিতির প্রধানও তিনি।

বাবলু দাস জানিয়েছেন, “এই লাভটা যাদের নিজের গাড়ি রয়েছে, যা ব্যবসার ক্ষেত্রে ব্যবহার হয় না। রোজকার অফিস, স্কুল যাওয়ার জন্য এতা তাদের জন্য তাৎক্ষনিক লাভ। এই সবজি মাছের বাজারে এগুলো কিছুই নয়। এই ২ টাকার প্রভাব বুঝতে মাস পেরিয়ে যাবে। ততদিনে আবার দাম বেড়ে যাবে। কাজেই আমাদের জিনিস কেনার দাম কমবে না। তাই রোজকার বাজারের দামও কোনওভাবে কমে যাওয়া সম্ভব নয়।” আলু ব্যবসায়ী পল্টুর কথায়, “ বিশাল বাজারে ২ টাকা কমার কোনও এফেক্ট হয় না। একসঙ্গে যদি ৫ ,৬ টাকা কমে। তাহলেই লাভ।” তাই হাসি মুখে বাজার থেকে ১০ টাকা বাঁচিয়ে ফিরে পাক জয়ের স্বর্গসুখ পাওয়ায়ার কোনও কারন এখন যে মধ্যবিত্তের কপালে নেই তা স্পষ্ট।

Advertisement
---
-----