বিজেপি শাসিত ছত্তিশগড়েই ১৮ গরুর মৃত্যু!!

রায়পুর: গো-রক্ষায় ডাহা ফেল রমন সিং৷ তাঁর রাজ্যেই ছোট্ট ঘরে দমবন্ধ হয়ে মৃত্যু হল ১৮টি গরুর৷ ছত্তিশগড়ের বলদবাজারের ঘটনা৷ রোহাসি গ্রামের ঠিক পাশে গরু রাখার সরকারি সংরক্ষনাগার৷ তদন্ত করে পুলিশ জানতে পেরেছে, ইচ্ছাকৃত ছোট্ট ঘরে গরুগুলিকে রাখা হয়৷ মৃত গরু পাচার করাই ছিল লক্ষ্য৷

রোহাসি গ্রামের স্থানীয়দের গুরু সংরক্ষণ কেন্দ্রগুলির উপর সন্দেহ বাড়ে৷ কারণ গত বছরই ওই কেন্দ্র থেকেই প্রচুর মৃত গরু উদ্ধার হয়৷ গ্রাম পঞ্চায়েতের তৎপরতায় গ্রামবাসীরা নিজেই তদন্তে নামে৷ যতক্ষণে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় ততক্ষণে ১৮ গরুর মৃত্যু হয়েছে৷ বাকি গরুকে উদ্ধার করা হয়েছে৷ পুলিশ তদন্তে নেমে জানতে পারে, গরু সংরক্ষণকেন্দ্র থেকে ৭০ কিলোমিটার দূরে মৃত গরু পাচার হয়৷

বিভিন্ন গ্রাম থেকে এই গরুগুলিকে চুরি করা হত৷ গরু সংরক্ষণ কেন্দ্রে বেশিরভাগ গরুকে বেধে রাখা হত৷ গত চারদিন ধরে এভাবেই ১৮টি গরুকে আলো-বাতাসহীন ঘরে বেঁধে রাখা হয়৷ দমবন্ধ হয়ে মৃত্যু হয় গরুগুলির৷ ৩ অগাস্ট এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়াতে থাকে৷ সন্দেহ বাড়তে থাকায় স্থানীয় পুলিশকে খবর দেয় এলাকাবাসী৷ তখনই দরজা ভেঙে উদ্ধার হয় মৃত গরু৷ তবে পুলিশকে খবর দিয়ে তল্লাশি চালানোর ব্যবধানেই পালিয়ে যায় পাচারকারীরা৷ তাদের খোঁজে চলছে তল্লাশি৷ গ্রামের ভেতর থেকেই পুলিশ পৌঁছনর খবর পাচারকারীরা পায় বলে মনে করা হচ্ছে৷

- Advertisement -

এই ঘটনা প্রথম নয়৷ শুধুমাত্র স্থানীয় প্রশাসনের গাফিলতির জন্য বহু সংখ্যায় গরুর মৃত্যু হচ্ছে ছত্তিশগড়ে৷ রাজ্য সরকার পরিচালিত সংরক্ষণ কেন্দ্রেই মৃত্যু হচ্ছে একাধিক গরুর৷ কীভাবে রাজ্য প্রশাসন পরিচালিত গরু সংরক্ষণ কেন্দ্রে ঢুকে পড়ছে পাচারকারীরা? প্রশ্নের মুখে প্রশাসন৷ রিপোর্ট বলছে, গত বছর ১৬-১৮ অগাস্টের মধ্যে মোট ২০০ গরুর মৃত্যু হয়েছে৷ এর মধ্যে ২৭টি গরু সরকার পরিচালিত পশু হাসপাতালে মারা যায়৷ বেশিরভাগ গরুর মৃত্যু না খেতে পেয়ে হয়েছে৷ দুর্গ জেলার পশু হাসপাতাল স্থানীয় বিজেপি নেতা পরিচালিত৷ সেখানেও বেশ কয়েকটি গরুর মৃত্যু হয়৷

গো-রক্ষার বার্তা দিয়ে ছত্তিশগড়ে প্রচার চালাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী রমন সিং৷ সেখানে রাজ্যের পরিচালিত সংরক্ষণ কেন্দ্রেই নিরাপদে নেই গরু৷ রাতারাতি ঠান্ডা মাথায় গরুদের মেরে চলছে পাচার কাজ৷ বিজেপির রাজ্যেই গো নিধন বিষয়ে কি সজাগ নরেন্দ্র মোদী? প্রশ্ন ছত্তিশগড়ের গো পালকদের৷

Advertisement ---
---
-----