মাও আতঙ্ক কাটিয়ে চিকিৎসক হওয়ার পথে এই মেয়ে

রায়পুর: পথটা সহজ ছিল না৷ সহজ তো নয়ই, বরং বলা ভাল মাওবাদী অধ্যুষিত ছত্তিশগড়ে যে বেঁচে থাকাটাই একটা চ্যালেঞ্জ সেই চ্যালেঞ্জ জয় করে এখন চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন দেখছে মায়া কাশ্যপ৷ তবে এইটুকু বললে হয়তো সবটা বোঝানো যাবে না৷ চিকিৎসক হতে পেরেছেন, দেশে এমন মেয়ের সংখ্যা কম নয়, অনেকেই অনেক প্রতিকূলতা পেরিয়ে চিকিৎসক হয়েছেন৷

কিন্তু এখানে বাঁচা মরার প্রশ্ন ছিল৷ তার ওপর ছিল মেয়ে হয়ে উচ্চ শিক্ষা লাভের প্রশ্ন৷ তবে সব দ্বিধা পেরিয়ে, সব বাধা কাটিয়ে আজ মায়া কাশ্যপ তাঁর চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্নের দিকে একধাপ এগিয়ে গিয়েছে৷ সদ্য প্রকাশিত এনইইটি পরীক্ষার মেধাতালিকায় নাম উঠেছে মায়ার৷

ছত্তিশগড়ে মাও অধ্যুষিত জেলা ডোরনাপাল৷ এই জেলার প্রথম মহিলা চিকিৎসক হতে চলেছে মায়া৷ সরকারি স্কুলে পড়াশোনা করা মায়া ২০২৩ সালে চিকিৎসক হয়ে যাবে, এমবিবিএস কোর্স শেষ করার পর৷
শুধু মাও আতঙ্ক নয়, পারিবারিক প্রতিকূলতাও ছিল শেষ পর্যন্ত৷ বাবার মৃত্যুর পর আর্থিক অনটনের মধ্যে পড়ে মায়ার পরিবার, সে তখন ষষ্ঠ শ্রেণীতে৷ সেখান থেকে লড়াইয়ের শুরু৷ পাশে ছিলেন মা৷ দুবারের চেষ্টায় এনইইটি পাশ করে সেই লড়াইকেই কুর্ণিশ জানাল এই মেয়ে৷

- Advertisement -

বাড়িতে মা ও তিন ছোট ছোট ভাই বোন৷ মায়ের উপার্জনেই সংসার চলত৷ মায়ের কষ্ট খুব কাছ থেকে দেখেছে মায়া৷ ফলে নিজের জমিটা খুব ভালো ভাবে চেনে সে৷ জানে ওড়ার আকাশ পেলেও, মাটিতে পা থাকাটা জরুরি৷

প্রতি মাসে ৫০০ টাকা হাতখরচের দিনগুলো মনে করছিল মায়া৷ এনইইটি দেওয়ার জন্য আরও টাকার দরকার ছিল৷ টিউশন পড়ার প্রয়োজনীয় টাকা না থাকায় একা পড়ে পাশ করেছে এই কঠিন পরীক্ষা৷
সে ছত্তিশগড়ের নিজের এলাকাতেই চিকিৎসক হিসেবে কাজ করতে চায়৷ নূন্যতম চিকিৎসা পরিষেবা নেই এমন এলাকায় পৌঁছে যেতে চায় এই তরুণী৷ তবে এখনও অনেক পথ চলার বাকি, এখনও অনেক কথা বলার বাকি৷

Advertisement ---
-----