ফাইল ছবি

নয়াদিল্লি: এয়ারসেল–ম্যাক্সিস অর্থ নয়ছয়ের মামলায় প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী পি চিদাম্বরমকে এখনই গ্রেফতার নয়৷ মঙ্গলবার দিল্লির সিবিআইয়ের বিশেষ আদালত পি চিদাম্বরমের অন্তর্বর্তীকালিন জামিনের মেয়াদ আরও একমাস বাড়িয়ে দেয়৷ আগামী ১০ জুলাই পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালিন জামিনে থাকবেন তিনি৷

এক দিকে যখন আদালতের রায়ে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরে পেলেন প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী৷ অপরদিকে কাকতালীয়ভাবে আজই এই মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁকে তলব করেছে ইডি৷ সেই মতো ইডি দফতরে হাজিরা দিতে পৌঁছে গিয়েছেন পি চিদাম্বরম৷

ইডি ছাড়া সিবিআই পৃথক ভাবে এই মামলার তদন্ত করছে৷ ২০০৬ সালে মোবাইল পরিষেবা সংস্থা এয়ারসেলের সঙ্গে ম্যাক্সিসের চুক্তিতে আর্থিকভাবে উপকৃত হয়েছিলেন তত্‍কালীন অর্থমন্ত্রী পি চিদাম্বরমের ছেলে কার্তি। অভিযোগ,‘ফরেন ইনভেস্টমেন্ট প্রোমোশন বোর্ড’-এর (এফআইপিবি) অনুমতি দিতে দেরি করেছিলেন চিদম্বরম৷ এফআইপিবি’র অনুমতি ছাড়া এয়ারসেল সংস্থার শেয়ার কিনতে পারতেন না মালয়েশিয়ার সংস্থা ম্যাক্সিসের কর্ণধার, অনাবাসী ভারতীয় ব্যবসায়ী আনন্দকৃষ্ণন।

অভিযোগ, অনুমতির বিষয়টি ইচ্ছাকৃতভাবে ঝুলিয়ে রেখেছিলেন তত্‍কালীন অর্থমন্ত্রী চিদাম্বরম। যাতে তাঁর ছেলে কার্তি চার হাজার কোটি টাকার চুক্তিতে পাঁচ শতাংশ অংশিদারিত্ব পেতে পারেন৷ কীভাবে? অভিযোগ, এয়ারসেলের বেশ কিছু শেয়ার `অসব্রিজ হোল্ডিং অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টস` নামে একটি কোম্পানি কিনে নেয়। যার ৯৪ শতাংশ শেয়ারের মালিক চিদাম্বরমের ছেলে কার্তি। আর কার্তি-র সংস্থা এয়ারসেল শেয়ার হাতে পাওয়ার পরেই ম্যাক্সিস গোষ্ঠী এয়ারসেলের সিংহভাগ শেয়ার কেনায় অনুমতি পেয়ে যায়।

তৎকালীন টেলিকম মন্ত্রী দয়ানিধি মারান জোর খাটিয়ে মালয়েশিয়ার টেলিকম সংস্থা ম্যাক্সিসের কাছে এয়ারসেলের শেয়ার বিক্রিতে বাধ্য করেন বলে অভিযোগ। এরপর এই ঘটনার তদন্তে নামে ইডি। এই ঘটনায় নাম জড়ায় তৎকালীন অর্থমন্ত্রী পি চিদাম্বরমের। নাম জড়িয়েছিল তাঁর ছেলে কার্তি চিদাম্বরমেরও। এই ঘটনায় কার্তিকে গত ফেব্রুয়ারি মাসে গ্রেফতার করা হয়৷ বর্তমানে তিনিও অন্তর্বর্তীকালীন জামিনে আছেন৷

--
----
--