মাধ্যমিকের মেধা তালিকায় শিক্ষক শিক্ষিকার সন্তানদের জয়জয়কার

বালুরঘাট: এবারের মাধ্যমিকের মেধা তালিকায় স্থান পেয়েছে  শিক্ষক শিক্ষিকাদের সন্তানরাই। শনিবার মাধ্যমিক-২০১৭’র প্রকাশিত ফলাফলে মেধা তালিকার প্রথম দশে দক্ষিণ দিনাজপুরের মোট চারজন স্থান করে নিয়েছে। পঞ্চম সপ্তম নবম ও দশম স্থানাধিকারী চারজনের বাবাই স্কুলের শিক্ষক। অনেকের বাবার পাশাপাশি মা’ও স্কুলের শিক্ষিকা। সকলেরই সাত থেকে আটজন করে গৃহ শিক্ষক ছিলেন।

রাজ্যের মধ্যে পঞ্চম ও দক্ষিণ দিনাজপুরে প্রথম হয়েছে গঙ্গারামপুরের রাজিবপুর হোলি ক্রস গার্লস হাইস্কুলের সৃজা অধিকারী। গঙ্গারামপুরের কালদিঘি এলাকায় বাড়ি সৃজার মোট প্রাপ্ত নম্বর ৬৮৬, সৃজার বাবা পীযুষ কান্তি অধিকারী কুশকারী হাইস্কুলের অংকের শিক্ষক। মা শিপ্রা অধিকারী রাজীবপুর হোলি ক্রস গার্লস হাইস্কুলেরই ইংরেজির শিক্ষিকা। মাধ্যমিকের প্রস্তুতিতে আট জন গৃহ শিক্ষকের কাছে পড়তো। পড়াশুনার  বাইরেও গান বাজনা ও ছবি আঁকতে সে ভীষণ ভালোবাসে। ভবিষ্যতে সে জয়েন্ট এন্ট্রান্স দিয়ে ডাক্তার হতে চায় বলে জানিয়েছে সৃজা ।


মেধা তালিকায় সপ্তম বালুরঘাট ললিত মোহন হাইস্কুলের ছাত্র বাসুদেব বসাক। ৬৮৪ নম্বর পেয়ে রাজ্যের মধ্যে সপ্তম স্থান অর্জন করেছে সে। শহরের ৮নং ওয়ার্ডের সুভাষ কর্নার পাড়াতে বাড়ি বাসুদেবের বাবা প্রদীপ বসাক অবসর প্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। মা প্রমীলা দেবী অবশ্য গৃহবধূ। বাসুদেব অবশ্য ডাক্তার ইঞ্জিয়ার গবেষক হতে চায় না। বড় হয়ে সে ব্যাংকের অফিসার হতে চায়।

- Advertisement -

বালুরঘাটেরই পতিরামের বিবেকানন্দ গার্লস হাইস্কুলের ছাত্রী অনন্যা মন্ডল ৬৮৩ নম্বর পেয়ে রাজ্যের মেধাতালিকায় নবম হয়েছে। মাধ্যমিকে নিজেকে সেই ভাবে প্রস্তুত করতে মোট সাত জনের কাছে প্রাইভেট টিউশন নিত সে। পড়াশুনা ছাড়াও টিভিতে বিশেষ করে খেলা দেখা ও গান শুনতে সে খুবই ভালোবাসে। টেস্ট পরীক্ষাতেও তার মোট প্রাপ্ত নম্বর ৬৮৩ই ছিল। অনন্যার বাবা অমূল্য মন্ডল ফিজিক্সের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। মা ঝর্ণা সরকার মন্ডল বিবেকানন্দ গার্লস হাইস্কুলেরই ইতিহাসের শিক্ষিকা। ভবিষ্যতে ডাক্তারি পড়াশুনাই তার প্রথম লক্ষ্য।


এদিকে মেধা তালিকায় রাজ্যে দশম ঐষীতা সরকার বড় হয়ে বিজ্ঞানী হতে চায়। বালুরঘাট গার্লস হাইস্কুলের ছাত্রী ঐষীতা ৬৮১ নম্বর পেয়ে এবারের মাধ্যমিকে দশম স্থান অর্জন করেছে। টিভিতে মাধ্যমিকের ফলাফল ঘোষণায় রাজ্যের প্রথম দশে তাঁর নাম ঘোষিত হতেই পরিবারের সদস্য ও আত্মীয় স্বজনদের মধ্যে শুরু হয়ে যায় খুশির উৎসব। স্থানীয় বঙ্গি এলাকায় বাড়ি বাবা প্রানকিশোর সরকার নাজিরপুর হাইস্কুলের শিক্ষক। মা সোমা সরকার তিনিও বালুরঘাটের চকরামরাই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা। বড় বোন উচ্চশিক্ষায় কলকাতায় পড়াশুনা করে। ফলাফল সম্পর্কে নিজের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে ঐশিকা জানিয়েছে ভবিষ্যতে সে বিজ্ঞান নিয়ে গবেষক হতে চায়। পড়াশুনার বাইরে অবসর সময়ে গল্পের বই পড়তে ভালোবাসে সে।


মাধ্যমিকের কৃতী চারজনের উদ্দেশ্যেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুভেচ্ছা বার্তা পাঠিয়েছেন। এদিন বিকেলে দক্ষিণ দিনাজপুরের অতিরিক্ত জেলাশাসক সাধারণ ডঃ অমলকান্তি রায় বাড়িতে গিয়ে তাঁদের হাতে মুখ্যমন্ত্রীর পাঠানো ফুলের তোড়া, মিষ্টির প্যাকেট ও শুভেচ্ছা বার্তা দিয়ে এসেছেন। এদিকে বালুরঘাট টাউন তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি সুভাষ চাকীও সপ্তম দশম স্থানাধিকারী কৃতী দুই ছাত্রছাত্রীর বাড়িতে গিয়ে ফুলের তোড়া ও মিষ্টির প্যাকেট সহ শুভেচ্ছা জানিয়ে এসেছেন।

Advertisement ---
---
-----