ব্রিজ মেরামতি নিয়ে পূর্তসচিবকে ভর্ৎসনা মমতার

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: চোর পালিয়ে গেল৷ বুদ্ধিও বাড়ল৷ মাঝেরহাট ব্রিজের একাংশ ভেঙে পড়ার পর ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানতে পারলেন পূর্তদফতর ওই ব্রিজের মেরামতি করতে চেয়েও পারেনি৷ কারণ ফাইল আটকে ছিল অর্থদফতরে৷

নবান্ন সূত্রে যা খবর, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ব্রিজ ইনস্পেকশন ও মনিটারিং সেল তৈরি করবেন বলে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করছিলেন৷ ওই বৈঠকের মাঝে সচিবদের সঙ্গে কথা বলে তিনি জানতে পারেন, পূর্তদফতর মাঝেরহাট ব্রিজের মেরামতির জন্য ৬ বার দরপত্র হেঁকেছিল৷ কিন্তু অর্থদফতরে গিয়ে সেই ফাইল আটকে পড়ে৷ করা যায়নি মেরামতির কাজ৷

পড়ুন: ব্রিজ ভাঙলেও তার নীচেই সংসার পেতেছে কলকাতা

- Advertisement -

তবে মুখ্যমন্ত্রীকে অর্থদফতরে ফাইল আটকে থাকার বিষয়টি জানিয়ে রীতিমতো বিপদেই পড়েছিলেন পূর্তসচিব অর্ণব রায়৷ মুখ্যমন্ত্রী একতরফা বকাঝকা করে অর্ণববাবুকে বলে দেন, অর্থসচিবকে বিষয়টি জানানোর প্রয়োজন ছিল৷ তা না জানিয়ে হাত গুটিয়ে বসে থাকা অর্থহীন৷

রেহাই পাননি অর্ণববাবুর আগের পূর্তসচিব ইন্দীবর পাণ্ডে৷ তাঁকেও প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী৷ জানতে চান, তিনিই বা কেন ফাইলটি অর্থদফতর থেকে বের করতে কোনও পদক্ষেপ নেননি? তবে ইন্দীবর মুখ্যমন্ত্রীকে উত্তরে কী জানিয়েছিলেন, তা জানা যায়নি৷

পড়ুন: মাঝেরহাট ব্রিজ সারাইয়ে মাত্র ১৬ লক্ষ!! সরকারকে দুষছে সিপিএম

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, রাজ্যের চলতি অর্থসঙ্কট মোকাবিলায় অর্থদফতরকে বুঝে শুনে খরচের কথা বলাই আছে মুখ্যমন্ত্রীর৷ তবে বিশেষ ক্ষেত্রে অর্থসচিবের অনুমতি নিয়ে আপদকালিনভাবে ফাইল ছাড়া হয়েই থাকে৷ সেক্ষেত্রে যুক্তিযুক্ত ভাবেই মুখ্যমন্ত্রীর ওই দুই আমলাকে প্রশ্ন, তাঁরা কেন অর্থসচিবকে বিশেষভাবে মাধেরহাট ব্রিজের মেরামতির বিষয়টি জানাননি৷

তবে শুঘু মাঝেরহাট ব্রিজই নয়, অন্তত ২০টি ব্রিজের স্বাস্থ্য ঠিক নয় বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী৷ ব্রিজ ইনস্পেকশন ও মনিটারিং সেল বিষয়টি খতিয়ে দেখবে৷

Advertisement
---