জংলি ছেলের হাতেই বদলে যায় মানব জন্মের ইতিহাস

সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়: ‘চাহে মুঝে কোয়ি জংলি কহে’, সুপারহিট বলিউডের গানটির সঙ্গে তাঁর জীবনের সঙ্গেই হয়তো মেলে। পুঁথিগত বিদ্যায় চরম অমনযোগী। বনেবাদাড়ে ঘুরে বেরানোই ছিল তাঁর পছন্দ। বাবা হিমশিম খেয়ে গিয়েছিলেন ছেলেকে সামলাতে। পারেননি। এমন ‘জংলি’ ছেলের হাতেই বদলে গিয়েছিল মানব জন্মের ইতিহাস।
আপনি, আমি কে? হোমো সেপিয়েন্স বা আধুনিক মানুষ। আমাদের মান এবং হুঁশ আছে। তা নিয়ে প্রচুর গর্ব।

কিন্তু অতীত যে এই আধুনিক মানুষ লেজ বিশিষ্ট এক চারপেয়ে ছিল সেটা জানা ছিল না। জানিয়েছিলেন চার্লস ডারউইন নামের সেই অমনযোগী ‘জংলি’ ছাত্র। এবং প্রাণীবিজ্ঞানে হইচইয়ের শুরু। ডারউইন স্কুলে পড়ার সময় মারাত্মক দুরন্ত ছিলেন। পড়াশোনা? সে আবার কেউ করে নাকি। এমনই একটা ধারনা ছিল তাঁর। তার থেকে ঢের ভালো প্রকৃতির কোলে ঘুরে বেড়ানো। গাছে , পোকা মাকড় , বন্যদের নিয়ে থাকা এবং তাঁদের নিয়ে কাজ করার স্বপ্ন।

- Advertisement -

পেশায় চিকিৎসক রবার্ট ডারউইন চেয়েছিলেন ছেলে চার্লসও চিকিৎসক হবে। বাবার স্বপ্ন পূরণ করতেই চান নি তিনি। এডিনবরা মেডিক্যাল কলেজে ডাক্তারি পড়তে পাঠানো হয়েছিল তাঁকে। সেখানে গিয়ে তিনি মানব শরীরের বদলে শুরু করে দিয়েছিলেন প্রকৃতি নিয়ে চর্চা। রবার্ট ডারউইন ছেলেকে শান্ত করতে ধীর স্থির করতে নিয়ে এলেন কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখানেও একই রয়ে গেলেন চার্লস। এই কলেজে পড়ার সময়েই তাঁর কাছে এক সুবর্ণ সুযোগ।

প্রকৃতিবিদ হিসেবে অংশ নিয়েছিলেন তরুণ চার্লস ডারউইন। এই যাত্রায়ই তিনি বিবর্তনবাদের ভিত রচনা করেন। যাত্রার বর্ণনা এবং অভিজ্ঞতা নিয়ে ডারউইন একটি বই লিখেন যার নাম ‘দ্য ভয়েজ অফ দ্য বিগল’। ২৭ ডিসেম্বর ১৮৩১ -এ শুরু হয়েছিল ওই সমুদ্রযাত্রা। প্রায় পাঁচ বছর ধরে চলেছিল যাত্রা। বিগল তটভূমি জরিপে ব্যস্ত রইল। ডারউইন ফিটজরয়ের আকাঙ্ক্ষানুযায়ী এর প্রায় পুরোটা সময় ডাঙায় ভূতাত্ত্বিক ও প্রাকৃতিক ইতিহাস সংগ্রহ করে কাটালেন। ওই ভ্রমনের জ্ঞান,অভিজ্ঞতা ,প্রাপ্ত তথ্যের উপর ভিত্তি করে পত্রিকায় লিখতে শুরু করেন। তারপর প্রকাশিত হয় যুগান্তকারী বই ‘অরিজিন অফ স্পিসিস’। যা বলে দেয় মানুষ এসেছে বানর প্রজাতি থেকে।

১৮৫৯সাল বিবর্তন মতবাদ নিয়ে বিভিন্ন দেশে অনেকে লাঞ্ছনা গঞ্জনা সইতে হয়েছিল। থেমে থাকেননি। ১৮৭১ সালে তিনি মানব বিবর্তন এবং যৌন নির্বাচন নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করেন এবং মানুষের ক্রমনোন্নয়ন, তারপর মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীতে অনুভূতির দুটি গ্রন্থ রচনা করেন। বৃক্ষ নিয়ে তার গবেষণা কয়েকটি গ্রন্থে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয় এবং তার শেষ বইতে তিনি কেঁচো এবং মাটির উপর এদের প্রভাব নিয়ে তার গবেষণা প্রকাশ করেন।

অমনোযোগী সেই জংলি ছেলে স্যার চার্লসর ডারউইনের আজ জন্মদিন। যাঁর চিন্তাভাবনা,তত্ত্ব বিশ্ব বদলে দিয়েছিল।ধর্ম,বিজ্ঞান,সাহিত্য ও সমাজে এনেছিল বিপ্লব। তাঁর জন্মদিন উপলক্ষে ১২ ফেব্রুয়ারি দিনটি ‘ডারউইন দিবস’ হিসাবে পালিত হয়।