কোনও ধর্ষণ হয়নি! চার্চ বলছে বিশপের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র

ছবি- প্রতীকী

তিরুবনন্তপুরম: কেরলে সন্ন্যাসিনীকে ধর্ষণের ঘটনায় নয়া মোড়। চার্চের তদন্তে সামনে এল এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। বিশপ ফ্রাঙ্কো মুলাক্কেল যে অভিযোগ করেছিলেন চার্চের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করা হচ্ছে, সেই অভিযোগকেই সঠিক বলে প্রমানিত করল মিশনারিজের তদন্ত কমিটি।

তাদের তদন্তে উঠে এসেছে,অভিযোগকারিণী ,আরও পাঁচ সন্ন্যাসিনী,এবং চারজন ব্যক্তি মোট দশজন মিলে বিশপ মুলাক্কেলের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করেন। সূত্রের খবর, অভিযোগকারিণীর এক বন্ধুই রেজিস্টারের দায়িত্বে ছিলেন, তিনি জানতেন কে কখন সেখানে আসা যাওয়া করছেন। এর পাশাপাশি অভিযোগকারিণী সন্ন্যাসিনী মাদারের কাছ থেকে সিসিটিভির দখল নিয়ে নেন।

এদিকে অভিযোগের উল্টো কথাই বলছে তদন্ত। সন্ন্যাসিনী অভিযোগ করেছিলেন, ২০১৪ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে বিশপের একাধিকবার ধর্ষণ ও অস্বাভাবিক যৌনাচারের শিকার হয়েছেন তিনি। কমিশন জানিয়েছে, কুরাভিলানগদের আশ্রমে ২০১৪ সালের ৫ই মে পর্যন্ত বিশপ ছিলেনই না। এর পাশাপাশি একটি ছবিতে ২০১৫র ২৩মে একটি অনুষ্ঠানে বিশপের সাথে ওই সন্ন্যাসিনীকে দেখা যায়, সেক্ষেত্রে ধর্ষণের যুক্তি ধোপে টেকে না।

- Advertisement -

এর আগে এএনআই’কে দেওয়া একটি সাক্ষাতকারে বিশপ জানিয়েছিলেন,’পুলিশ ৯ ঘণ্টা ধরে আমাকে জেরা করে।ওই সন্ন্যাসিনীর বয়ানও রেকর্ড করেন তারা। পুলিশ দুজনের বক্তব্যে কিছু অসঙ্গতি খুঁজে পেয়েছেন। এবং তারা খতিয়ে দেখছেন কে প্রকৃত সত্য বলছেন। আমি শুনেছি সন্ন্যাসিনীরা প্রতিবাদ করছেন। তাদের সম্পূর্ণ অধিকার রয়েছে প্রতিবাদ করার’।

এদিকে কেরল হাইকোর্টের রায়ে এই মুহূর্তে স্বস্তিতে বিশপ। কোর্ট জানিয়েছে,’গ্রেফতারিটাই একমাত্র বিষয় নয়’। যেহেতু এটি একটি পুরোনো মামলা তাই সেখানে গ্রেফতারির চেয়েও বেশী গুরুত্বপূর্ণ দোষীর চূড়ান্ত শাস্তি।

সিবিআই তদন্তের উপর ভিত্তি করে সেপ্টেম্বর মাসের ২৪ তারিখ এই মামলার তৃতীয় শুনানি হবে। আগামী ১৯শে সেপ্টেম্বর বিশপ ফ্রাঙ্কো মুলাক্কেলকে তদন্তকারী সংস্থার কাছে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এদিকে আদালতের রায়ে স্বভাবতই অখুশি অভিযোগকারী সন্ন্যাসিনী ও তার সমর্থকেরা। এক সন্ন্যাসিনী কোর্টের রায় শোনার পর জানান,’ আমরা এখন বুঝতে পারছি তদন্ত প্রক্রিয়া কার্পেটের তলায় চলে গেছে। এমনকি আদালতে গিয়েও আমরা বিচার পাচ্ছিনা’।

Advertisement ---
-----