বেঙ্গালুরু : ভেদাভেদ মুছে গিয়েছে বন্যার জলে৷ মন্দির, মসজিদ আর গির্জায় এখন ফারাক নেই আর৷ লক্ষ্য শুধু একটাই মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া৷ কর্ণাটকের কোদাগু জেলার ছোট্ট জনপদ সুন্তিকোপ্পা৷ বানভাসি সেই এলাকায় মানুষ শুধু বাঁচতে চাইছেন এখন৷ এলাকার গির্জা, মাদ্রাসা আর মন্দির তাই আপাতত বানভাসিদের নিরাপদ আশ্রয়৷

সেখানে প্রাণ বাঁচাতে আশ্রয় নিয়েছেন প্রায় ৬০০ জন৷ মাদ্রাসার কমিউনিটি হলে চলছে রান্না৷ সেই রান্না করা খাবার পৌঁছে যাচ্ছে গির্জা আর মন্দিরে আশ্রয় নেওয়া বন্যার্তদের কাছে৷ সেন্ট মেরিজ চার্চের প্রাঙ্গণ আর মন্দির চত্ত্বরে জায়গা করে নেওয়া বানভাসীদের মধ্যে কেউ কোনও পার্থক্য দেখছেন না৷

Advertisement

এটাই ভারত, ট্যুইট করেছেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী৷ লিখেছেন কর্ণাটকের কোদাগু ভাসছে ভয়ঙ্কর বন্যায়৷ সেখানে এখন মানবিকতাই শেষ কথা৷ আশার আলো দেখাচ্ছেন শিব, রাম, খ্রিস্ট, আল্লা আর বুদ্ধ৷ ভারতের আত্মার মূল এঁরাই৷

পড়ুন: গণধর্ষিতা নাবালিকার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার ঘিরে চাঞ্চল্য

খুব ভুল বলেননি রাহুল৷ সুন্তিকোপ্পায় একদিকে যেমন তিব্বতি সাধুরা ত্রাণের কাজে হাত লাগিয়েছেন, তেমনি জল আর শুকনো খাবারের যোগান দিচ্ছেন আরএসএস কর্মীরা৷ মাদ্রাসার কর্মীরাও নেমে পড়েছেন ত্রাণের কাজে৷

গতকালই কেন্দ্রের কাছে ১০০ কোটির অর্থ সাহায্যের আবেদন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী এইচ ডি কুমারাস্বামী৷
কর্ণাটকের কোডাগু জেলায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে৷ ইতিমধ্যেই উদ্ধার কাজের জন্য নামানো হয়েছে সেনা, নৌসেনা, জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর জওয়ানদের। এছাড়াও মোতায়েন করা হয়েছে রাজ্য সরকারের অসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনী। বন্যার পাশাপাশি ভূমিধসের জন্য উদ্ধার কাজ ব্যহত হয়েছে।

৪২০০ মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। ৩৮০০টি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফর্মার এবং কয়েক হাজার বৈদ্যুতিক স্তম্ভ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তার ফলে বিদ্যুত্‍হীন হয়ে পড়েছে বহু গ্রাম। বায়ুসেনা তরফ থেকে আকাশ পথে এয়ারলিফট করে মানুষকে উদ্ধার করা হচ্ছে। পাশাপাশি আকাশপথেই ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছিয়ে দেওয়া হয়েছে। জেলার স্কুল, কলেজগুলি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

কোডাগু ছাড়াও চিককোডি এবং বেলাগাভি জেলায় বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। কৃষ্ণা নদীর জল বিপদ সীমার উপর দিয়ে বয়ে বিভিন্ন এলাকায় ঢুকে পড়ছে। প্রশাসনের তরফ থেকে জানানো হয়েছে কোডাগুতে গত দুই সপ্তাহে নয়জনের মৃত্যু হয়েছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১২০৬টি বাড়ি। পাশাপাশি ২৭৮টি সরকারী ভবন আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভূমি ধস এবং বন্যার ফলে জেলার ১২৩ কিলোমিটার রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

----
--