বিশ্ব হিন্দু পরিষদ ও বজরং দল ‘জঙ্গি গোষ্ঠী’ !

নয়াদিল্লি: বজরং দল ও বিশ্ব হিন্দু পরিষদের মতো বিজেপি ঘনিষ্ঠ সংগঠনকে জঙ্গি গোষ্ঠীর তালিকাভুক্ত করল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ৷ এখানেই শেষ নয়, অধিকৃত কাশ্মীর নাকি পাকিস্তানেরই অংশ, ভারতের নয়৷ এমনই রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে৷

বজরং দল ও ভিএইচপি সরাসরি রাজনৈতিক কার্যাবলীতে তেমন অংশ না নিলেও, রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করে বলে জানানো হয়েছে সিআইএ-র রিপোর্টে৷ ওর্য়াল্ড ফ্যাক্টবুক নামে এক গবেষণা ভিত্তিক প্রতিবেদনে এই তথ্যই জানানো হয়েছে৷ তবে এই তথ্যের ভিত্তিতে মামলা করার হুমকি দিয়েছেন প্রাক্তন বিজেপি নেতা৷ মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার এই ওয়ার্ল্ড ফ্যাক্ট বুকে বলা হয়েছে এই দুটি সংগঠনের নেতারা ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে না, কিন্তু রাজনৈতিক চাপ তৈরি করে থাকে৷ তাই তারা ধর্মীয় জঙ্গি গোষ্ঠী৷

ফ্যাক্টবুকে বলা হয়েছে, এই তালিকায় রয়েছে আরএসএসের নামও৷ তালিকাভুক্ত করা হয়েছে হুরিয়ত কনফারেন্স এবং জামিয়ত উলেমা ই হিন্দের নাম। সিআইএ বলেছে এরা প্রত্যেকেই জঙ্গি সংগঠন, যাদের ভিত্তি ধর্ম৷ ধর্মকে হাতিয়ার করে রাজনীতির খেলায় নামে এই সংগঠনের নেতারা৷ আবার আরএসএস-কে জাতীয়তাবাদী সংগঠন, হুরিয়ত কনফারেন্সকে বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী এবং জামিয়ত উলেমা ই হিন্দকে ধর্মীয় সংগঠন হিসেবে উল্লেখ করেছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা।

- Advertisement -

এই ফ্যাক্ট বুকে একটি ম্যাপ প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে দেখানো হয়েছে পাক অধিকৃত কাশ্মীর পাকিস্তানের অন্তর্গত৷ সেখানে ভারতের কোনও জায়গা নেই৷ যদিও, কাশ্মীর সংঘর্ষের পর বিতর্কিত এলাকাকে নিজেদের দাবি করে নয়াদিল্লি ও ইসলামাবাদ৷ কিন্তু অধিকৃত কাশ্মীরে নাম কা ওয়াস্তা স্বশাসিত সরকার রেখে বকলমে পাকিস্তানই ক্ষমতায় রয়েছে৷ এখানকার রাজধানী মুজাফ্ফরাবাদে হিজবুল মুজাহিদিন জঙ্গি সংগঠনের সদর দফতর আছে৷ এছাড়াও একাধিক জঙ্গি গোষ্ঠীর ঘাঁটি এখানেই৷

এদিকে ফ্যাক্টবুক রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে পশ্চিম কাশ্মীরের বেশিরভাগ অংশই পাকিস্তানে এবং দুই দেশের আন্তর্জাতিক সীমারেখাকে দেখানো হয়েছে ১৯৭২ সালের লাইন অফ কন্ট্রোল নামে৷ শুধু তাই নয়, পূর্ব জম্মু কাশ্মীরের কিছু অংশ নাকি চিনের সীমানা ভুক্ত৷ ম্যাপে দেখানো হয়েছে এটি ভারত অধিকৃত হিসেবে৷ এভাবেই ভারতের মূল ম্যাপের নানা বিকৃতি ঘটিয়ে প্রকাশ করা হয়েছে ওই বিতর্কিত ম্যাপটি৷

বিজেপি প্রাক্তন জাতীয় আহ্বায়ক খেমচাঁদ শর্মা সিআইএ-র এ দাবি খারিজ করে দিয়েছেন। একে ‘ভুয়ো খবর আখ্যা দিয়ে তিনি বলেছেন, সিআইএ-র বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে যাবেন তাঁরা৷ খেমচাঁদ শর্মা তাঁর টুইটে বলেছেন, আমরা বিশ্ব হিন্দু পরিষদ ও বজরং দলকে ধর্মীয় জঙ্গি গোষ্ঠী আখ্যা দেওয়ার বিরোধিতা করছি। সবাই জানে এই দুটি জাতীয়তাবাদী সংগঠন। এ ব্যাপারে খুব শীঘ্রই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’

১৯৬২ সাল থেকে ফ্যাক্টবুক তৈরি করে আসছে সিআইএ। তবে শুরুতে এই নথি প্রকাশ্য ছিল না। ১৯৭৫ সাল থেকে এই ফ্যাক্টবুক জনসমক্ষে আনা হচ্ছে। মার্কিন সরকারের পক্ষে প্রয়োজনীয় ২৬৭ টি দেশের তথ্য রয়েছে এই ফ্যাক্টবুকে। সেইসব দেশগুলির ভৌগোলিক, আর্থিক, ও সামাজিক পরিচয় দেওয়া রয়েছে ফ্যাক্টবুকে৷

Advertisement
---