সিভিল ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার ইচ্ছেকে বাধা দিচ্ছে অভাব

স্টাফ রিপোর্টার, বারাকপুর: ইচ্ছে থাকলে যে জয় অসম্ভব নয়৷ তা আরও একবার প্রমাণ করল বারাকপুর মন্মথনাথ হাইস্কুলের মাধ্যমিকের ছাত্র শুভম সাহা৷ বাবার ছোট্ট একটা চায়ের দোকান৷ তা থেকে যা আয় হয় তা দিয়েই সংসার চলে৷

এরমধ্যে বাড়ি ভাড়ার টাকা রয়েছে৷ তিনটে মানুষের যাবতীয় খরচ৷ একে তো বাজরদর আগুন৷ তার মধ্যে আবার ছেলে বড় হচ্ছে৷ তার পড়াশোনার খরচ৷ অথচ ছেলেটা পড়াশোনায় এত ভালো, একটু সঙ্গত দিলে অনেক দূর যাবে৷ এদিকে আয়ও হাতে গোনা৷ এসব ভাবনাই এখন শুভমের বাবা সুব্রতবাবুর রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে৷

বারাকপুর জয়হিন্দ পল্লির রাধেশ্যাম ঘোষের বাড়িতে গত ২০ বছর ধরে পরিবার নিয়ে ভাড়া থাকেন সুব্রতবাবু৷ স্ত্রী, এক ছেলেকে নিয়ে এক কামরায় সুন্দর সাজিয়ে নিয়েছেন সংসার৷ সুব্রত সাহার ছোট একটা চায়ের দোকান রয়েছে৷ স্ত্রী অনিতা সাহা ঘর আগলে রাখেন সবটুকু দিয়ে৷ ছেলেকে সবসময় চেষ্টা করেন সেরাটুকু দেওয়ার৷

- Advertisement -

অভাব এ পরিবারের সর্বক্ষণের সঙ্গী ঠিকই৷ তার মধ্যেও সকলে সকলের মুখের হাসিটুকু দেখার জন্যই উদগ্রীব৷ সবরকম চেষ্টা করেন৷ সেটাই শক্তি দেয় শুভমকে এগিয়ে চলার৷ যেকোনও কঠিন অবস্থাতেও লড়াই করার৷

সুব্রত সাহা

শুভম মাধ্যমিক পরীক্ষায় ৫৭৫ নম্বর পেয়েছে৷ ৫টি বিষয়ে রয়েছে ৮০’র উপরে নম্বর৷ দু’টি বিষয়ে ৭৬ পেয়েছে৷ মাধ্যমিকের ফল প্রকাশের পরই মন্মথনাথ হাইস্কুলে সায়েন্স নিয়ে ভর্তি হয়েছে শুভম৷ ওর ইচ্ছে সিভিল ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার৷ কিন্তু সেই পথে এগোতে গেলে যে অনেক খরচ৷

বাবার পক্ষে তো এত বিশাল অঙ্কের টাকা খরচ করা মোটেই সহজসাধ্য নয়৷ সুব্রতবাবু চেষ্টা করছেন, ছেলের যাতে ইচ্ছেপূরণ করা যায়৷ কিন্তু তাঁর একার পক্ষে তো তা সম্ভব নয়৷ আর্থিক সমস্যা কাটিয়ে কতটা কী করা যায় সে চিন্তায় সাহা পরিবার৷ শুভমের বাবা-মায়ের আবেদন কেউ যদি তাঁদের ছেলের পড়াশোনার জন্য একটু সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন৷ তাহলে ছেলেটার ভবিষ্যৎটা একটু নিশ্চিত হয়৷ দারিদ্র্যকে পাশে সরিয়ে এগিয়ে চলার লড়াইটাই সবথেকে বড় লড়াই৷ কিন্তু কঠিন বাস্তবের মাটিতে দাঁড়িয়ে হয়তো সবসময় সবরকম প্রতিকূলতাকে দূরে ঠেলে ফেলা যায় না৷ সেক্ষেত্রে প্রতিকূলতাকে সঙ্গে নিয়েও চলতে হয় অনেককে৷ তবে হার না মানার তাগিদটা ভিতরে জিইয়ে রাখলে সেটাই অনেক সাহস জোগায় চলার পথে৷

Advertisement ---
---
-----