হাতাহাতিতে রক্তাক্ত, পুলিশের ভয়ে এড়িয়ে গেল গ্রামবাসীরা

পুরুলিয়া: গ্রামের মধ্যে বিবাদের জেরে হাতাহাতিতে মারাত্মকভাবে জখম হয়েছিলেন এক ব্যক্তি। পুলিশের ঝামেলার ভয়ে আক্রান্ত ব্যক্তির শুশ্রূষার জন্য এগিয়ে আসেনি কোনও গ্রামবাসী। অবশেষে পুলিশের তৎপরতায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হল আক্রান্তকে।

চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে পুরুলিয়া জেলার হুড়া থানা এলাকায়। আক্রান্ত ব্যক্তির নাম পাগল সিং সর্দার। হাতাহাতির সময় তাঁর বুকে টেটা ঢুকিয়ে দেয় অভিযুক্ত শক্তিপদ মাহাতো। পাগল বাবু মারাত্মকভাবে জখম হওয়ার পরেও গ্রামের কেউ তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য এগিয়ে আসেনি।

রাস্তায় দুর্ঘটনাগ্রস্ত ব্যক্তিকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে গেলে পোহাতে হয় পুলিশের ঝামেলা। অনেক সময় উপকারী ব্যক্তিকেই হামলাকারী বলে সন্দেহের বশে জেরা শুরু করে দেয় পুলিশ। একইরকম অবস্থার সম্মুখীন হতে হতো হাতাহাতির পর আক্রান্তকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে। রোগী রক্তাক্ত হলেই উপকারীকেই সন্দেহের চোখে দেখতে শুরু করে চিকিৎসক। একই ভূমিকা পালন করে পুলিশ। এই ধরণের ঘটনার ক্ষেত্রে উপকারী ব্যক্তিকে যাতে হেনস্থা না করা হয় সেই রায় দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। দেশের সর্বোচ্চ আদালত রায় দিলেও মানুষের মধ্যে যে এই বিষয়ে সচেতনতা গড়ে ওঠেনি তার প্রমাণ পাওয়া গেল পুরুলিয়ায়।

- Advertisement -

সোমবার হুড়া থানা এলাকার তিলাবনি গ্রামে বচসায় জড়িয়ে পড়ে পাগল সিং সর্দার এবং শক্তিপদ মাহাতো। এক মিটার লম্বা টেটা পাগল সিং সর্দারের বুকে গেঁথে দেয় শক্তিপদ মাহাতো। আইনগত জটিলতার কারণে গ্রামের কেউ আক্রান্তকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সাহস দেখায়নি। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় পুরুলিয়া সদর হাসপাতালে। শল্য চিকিৎসক নয়ন মুখার্জ্জী জটিল অপারেশন করে বাঁচায় টেটা বিদ্ধ পাগল সিং সর্দ্দারকে। একইসঙ্গে একটি বিরল অস্ত্রপচারের সাক্ষী থাকল পুরুলিয়া সদর হাসপাতাল।

Advertisement
---