বিধাননগরে ডেঙ্গুর দায় কেন্দ্রের ঘাড়ে চাপালেন মুখ্যমন্ত্রী

কলকাতা : ডেঙ্গুর দায় সরাসরি কেন্দ্রের ঘাড়ে চাপালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ বিধাননগরে কেন্দ্রীয় সরকারি অফিসগুলিতে ঠিকমতো সাফাই কাজ হয় না বলেই তিনি অভিযোগ করলেন৷ আর তা না হওয়াতেই বিধাননগরে ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা দিয়েছিল বলে তিনি দাবি করেছেন৷

বৃহস্পতিবার রাজ্যের প্রশাসনিক সদর কার্যালয় নবান্নে ডেঙ্গু ও জ্বর মোকাবিলায় জরুরি বৈঠক ডাকেন মুখ্যমন্ত্রী৷ সেই বৈঠকের পর তিনি স্পষ্ট করে দেন যে ডেঙ্গু নিয়ে অপপ্রচার চলছে৷ আক্রান্তের সংখ্যা যত, তার থেকে অনেক বেশি বলে তিনি দাবি করেছেন৷ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন৷ আর এক্ষেত্রে ডায়গনেস্টিক সেন্টারগুলির একাংশের বিরুদ্ধেও তিনি অভিযোগের আঙুল তুলেছেন৷ ব্যবসা বাড়াতে ওই সমস্ত ডায়গনেস্টিক সেন্টারগুলি মানুষকে বিভ্রান্ত করছে৷ ভুল রিপোর্ট দিচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন৷ এর জন্য ওই সমস্ত ডায়গনেস্টিক সেন্টারগুলির উপর নজরদারি করতে তিনি রাজ্যের সব জেলাশাসককে নির্দেশ দিয়েছেন৷

এদিন তিনি নানা পরিসংখ্যান তুলে ধরেন রাজ্যের ডেঙ্গু ও অজানা জ্বরের পরিস্থিতি নিয়ে৷ মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, গত ৭-৮ মাসে রাজ্যে ডেঙ্গুতে ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে৷তার মধ্যে বিধাননগরে দু’জন মারা গিয়েছেন৷ উত্তর ২৪ পরগনার দেগঙ্গা ও হাবড়ায় ডেঙ্গুর প্রকোপ মারাত্মক আকার নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে৷ সেই অভিযোগ এদিন সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী৷ জানিয়েছেন, দেঙ্গায় ডেঙ্গুতে কারও মৃত্যু হয়নি৷ সম্প্রতি ওই এলাকায় যাঁরা মারা গিয়েছেন, তাঁদের মৃত্যুর অন্য কারণ রয়েছে বলে তিনি দাবি করেছেন৷একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী এদিন এ রাজ্যের সঙ্গে ডেঙ্গু, সোয়াইন ফ্লু নিয়ে অন্য রাজ্যের পরিসংখ্যানের তুলনাও করেন৷

- Advertisement -

একই সঙ্গে তিনি ডেঙ্গু নিয়ে গুজব ছড়াতেও নিষেধ করেছেন৷ সাধারণ মানুষকেও এ নিয়ে সচেতন হতে আবেদন জানিয়েছেন৷ তাঁর কথায়, অনেক সময় ডেঙ্গু আক্রান্তরা সুস্থ হয়ে যাওয়ার পর ঠিকভাবে নিজেদের যত্ন নিচ্ছেন না৷ তাই তাঁরা দ্বিতীয়বার অসুস্থ হয়ে পড়ছেন৷ অনেক ক্ষেত্রে তাই মৃত্যুও হচ্ছে৷