মুখ্যমন্ত্রীর শুভেচ্ছাবার্তা পৌঁছে গেল স্বপ্নার গ্রামে

জলপাইগুড়ি: দরমার বেরা থেকে জাকার্তার ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ড। জার্ণিটা খুব একটা সহজ ছিল না জলপাইগুড়ির স্বপ্নার জন্য। পেশায় রিকশা চালক বাবা বছর তিনেক হল অসুস্থ হয়ে বাড়িতেই। তবু স্বপ্নার আশমান ছোঁয়ার স্বপ্ন ফিকে হয়নি এতটুকু। অদম্য জেদ আর ইচ্ছাশক্তিই তাঁকে আজ পৌঁছে দিয়েছে সাফল্যের শিখরে।

দাঁতের যন্ত্রণায় একসময় অনিশ্চিত হয়ে পরেছিল ট্র্যাকে নামার বিষয়টি। কিন্তু কঠিন লড়াই, হাজার বাধা-বিঘ্ন পেরিয়ে স্বপ্না পাড়ি দিয়েছিলেন জাকার্তা। তাই দাঁতের যন্ত্রণা হোক, শারীরিক প্রতিবন্ধকতা হোক কিংবা তাবড় তাবড় প্রতিদ্বন্দ্বীদের চ্যালেঞ্জ, ট্র্যাকে কোনকিছুই টলাতে পারেনি জলপাইগুড়ির মেয়েকে।

আরও পড়ুন: স্বপ্নার সাফল্যে সোনালি আলোয় ভাসছে জলপাইগুড়ি

- Advertisement -

এশিয়াডে স্বপ্না সফল হবেই। আশায় বুক বেঁধেছিল জলপাইগুড়ি। শুভাকাঙ্খীদের নিরাশ করলেন না সোনার মেয়ে। হেপ্টাথলনের মত ইভেন্টে সোনা এনে দিলেন দেশকে। গত কয়েকবছরের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফল পেলেন স্বপ্না। ঘরের মেয়ের সাফল্যে যারপরনাই খুশি জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের পাতকাটা গ্রাম পঞ্চায়েতের ঘোষপাড়া গ্রাম। স্বপ্নার সাফল্য তারা নিজেরাই ভাগ করে নিচ্ছেন নিজেদের মত। আর চোখের জলে মেয়ের এই সাফল্যের স্বাদ গায়ে মেখে নিচ্ছেন গর্বিত মা-বাবা।

মেয়ের সাফল্যে মন্ত্রীকে মিষ্টি খাওয়াছেন স্বপ্নার মা…

এশিয়াডে বাংলার মেয়ের এহেন সাফল্যে উচ্ছ্বসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ও। সশরীরে জলপাইগুড়ি হাজির থাকতে না পারলেও ইতিমধ্যেই স্বপ্নার মা বাসনা বর্মনকে ফোন করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেচ্ছা জানিয়ে স্বপ্নার পরিবারের পাশে থাকারও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি স্বপ্নাকে সরকারি চাকরি ও ১০ লক্ষ টাকা পুরস্কার দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷

আরও পড়ুন: সোনা জিতলেন বাংলার স্বপ্না

এখানেই থেমে থাকেনি মুখ্যমন্ত্রীর কর্তব্য। মমতা বন্দোপাধ্যায়ের শুভেচ্ছা বার্তা নিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে স্বপ্নার গ্রামে হাজির হন পর্যটন মন্ত্রী গৌতম দেব। সকাল হতেই সাজো সাজো রব গ্রামজুড়ে। গোটা ঘোষপাড়া গ্রাম যেন এসে মিশেছে স্বপ্নার বাড়িতে। মা-বাবার মতই সাফল্যের ভাগীদার তো তারাও। পুষ্পস্তবক ও উত্তরীয় দিয়ে স্বপ্নার গর্বিত মা-বাবাকে অভিনন্দন জানান রাজ্যের মন্ত্রী। তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হয় মিষ্টির প্যাকেটও। স্বপ্নার মা-বাবার সঙ্গে নিজেও মিষ্টিমুখ করেন রাজ্যের মন্ত্রী।

মন্ত্রীর কথায়, মুখ্যমন্ত্রীর ফোন পেয়েই স্বপ্নার সাফল্য ভাগ করে নিতেই এখানে এসেছেন তিনি। স্বপ্নার জন্য আগামী দিনের শুভেচ্ছা। তাঁর আরও সংযোজন, ‘স্বপ্না এখন আর শুধু রাজ্যের নয়, গোটা দেশের মুখ। তাই চাইব আগামী দিনে আন্তর্জাতিক স্তরে আরও সাফল্য পাক ওঁ। অলিম্পিকে পদক জয় করে ফিরুক।’

আরও পড়ুন: এশিয়ান গেমসে জোড়া পদক দ্যুতি চাঁদের

স্বপ্নার অলিম্পিকের প্রস্তুতির ব্যাপারে গৌতম দেব আশ্বাস দিয়েছেন, ‘স্বপ্নার অলিম্পিক প্রস্তুতির জন্য জাতীয় অলিম্পিক সংস্থা ও কেন্দ্রের ক্রীড়ামন্ত্রকের সঙ্গে সবরকম আলোচনায় বসবে রাজ্য সরকার।’

Advertisement ---
---
-----