‘খাবার ছুঁড়ে দেননি’ দাদার সমর্থনে সাফাই মুখ্যমন্ত্রীর

বেঙ্গালুরু : ত্রাণ সামগ্রী বন্টন করতে এসে বিতর্কের মুখে পড়েছিলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রীর দাদা৷ কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী এইচ ডি কুমারাস্বামীর দাদা এইচ ডি রেভান্না বন্যার্তদের দিকে ছুঁড়ে দিয়েছিলেন খাবারের প্যাকেট৷ সেই ত্রাণ আদৌ ত্রাণ নাকি দয়ার দান, তা নিয়ে বিতর্কে জলঘোলা হচ্ছিল সোমবার থেকেই৷

সেই বিতর্কে কিছুটা জল ঢালার চেষ্টা করলেন মুখ্যমন্ত্রী৷ দাদার পাশে দাঁড়িয়ে সমর্থন করলেন তাঁকে৷ তিনি বলেন জায়গা কম থাকায় তাঁকে ওভাবে ত্রাণ বিতরণ করতে হয়েছে৷ এতে কোথাও বন্যার্তদের অপমান করার উদ্দেশ্য নেই৷ মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এই নিয়ে বিতর্ক হচ্ছে৷ যা একেবারেই অনভিপ্রেত৷ বিরোধীরা এই গোটা ঘটনার ভুল ব্যাখ্যা করেছে৷ সেখানে প্রচুর মানুষ ছিলেন এবং বেশি জায়গা ছিল না৷ যার জন্যই তাঁকে খাবার ছুঁড়ে দিতে হয়েছে৷

রেভান্না এই ঘটনায় ও বিরোধীদের সমালোচনায় রীতিমতো ব্যথিত বলে জানান কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী৷ রেভান্না যদি কাউকে এই খাবারগুলি বিলি করতে বলতেন তাহলে এত বিতর্ক হত না বলেও মত ব্যক্ত করেছেন কুমারাস্বামী৷

শুধু কুমারস্বামী নন, রেভান্নার সমর্থনে এগিয়ে এসেছেন রেভান্নার ছেলে প্রাজ্জ্বল৷ তিনি বলেন তাঁর বাব অত্যন্ত অমায়িক মানুষ৷ কখনই কারোর সাথে খারাপ ব্যবহার করতে পারেন না তিনি৷ গোটা বিষয়টিকে ভুল ভাবে সামনে আনা হচ্ছে৷

সোমবার একটি ভিডিও প্রকাশিত হয়৷ সেখানে দেখা যায়, খাদ্য সামগ্রী বণ্টন করতে এসে মন্ত্রীর ঔদ্ধত্য তাঁর অমানবিকতা মেনে নেননি বন্যা দুর্গতরা৷ ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নেওয়া মানুষদের ‘দয়া’ দেখানোয় সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রবল সমালোচনার মুখে পড়তে হল কর্ণাটক সরকারের মন্ত্রী রেভান্নাকে৷

রেভান্না কর্ণাটক সরকারের পূর্তমন্ত্রী এবং মুখ্যমন্ত্রী কুমারস্বামীর ভাই৷ সম্প্রতি তিনি রামানাথপুরার একটি ত্রাণ শিবিরে যান৷ যেখানে আশ্রয় নিয়েছেন বন্যা দুর্গতরা৷ তাদের কাছে ত্রাণ ও খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দিতে গিয়েছিলেন রেভান্না৷ কিন্তু অনেকে সেই খাবার মুখেই তোলেননি৷ ভিডিওটি ভাইরাল হতেই শুরু হয় প্রবল সমালোচনা৷ একজন লেখেন, রাজ্যবাসীর এই দুর্দিনে সবাইকে একজোটে কাজ করতে হবে৷ তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল হতে হবে৷ কিন্তু এই মন্ত্রীকে দেখুন৷ কতটা ঔদ্ধত্যের সঙ্গে বিস্কুটের প্যাকেট ছুঁড়ে দিচ্ছেন৷ তাঁরই আগে প্রথম মানবিকতার ও সহানুভূতির পাঠ নেওয়া দরকার৷

----
-----