পাহাড়ে পয়সা দিয়ে শান্তি কিনতে চেয়েছিলেন মমতা: জয়

সৌমেন শীল, শিলিগুড়ি: ক্ষমতায় আসার পর পাহাড় এবং জঙ্গলমহলে পয়সা দিয়ে শান্তি কেনার চেষ্টা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও তিনি সেই কাজে সফল হতে পারেননি। এমনই দাবি করলেন বিজেপির রাজ্য নেতা জয়  বন্দ্যোপাধ্যায়৷

পড়ুন: সবং উপনির্বাচনে জেতার জন্য মমতাকে ‘ডবল’ অভিনন্দন জয়ের

২০১১ সালে ক্ষমতায় আসার এক বছর পর থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছিলেন যে শান্তি ফিরেছে জঙ্গলমহলে। একইসঙ্গে হাসি ফুটেছে পাহাড়ের মুখে। রাজ্য সরকারের নানাবিধ প্রকল্পে উপকৃত হয়েছে সাধারণ মানুষ। সেই কারণেই ২০১৬ সালে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ফের রাজ্যে প্রস্ফুটিত হয়েছিল ঘাস ফুল।

- Advertisement -

পড়ুন: ফাইল বের হলে পিসি-ভাইপোর চুলোচুলি হবে : জয় বন্দ্যোপাধ্যায়

একসময় বন্ধ, হরতাল, অবরোধ দার্জিলিং সহ পাহাড়ের নিত্যনৈমিত্তিক বিষয় ছিল। তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যে ক্ষমতায় আসার এক বছরের মধ্যেই উত্তরবঙ্গের জন্য পৃথক জিটিএ গঠন করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। শুধু তাই নয়, ২০১৪ সালে সমগ্র উত্তরবঙ্গের প্রশাসন পরিচালনার জন্য উত্তরকন্যা নামক নয়া প্রশাসনিক ভবনের উদ্বোধন করেন মমতা। একইসঙ্গে উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলা ঢঙে নতুন জেলাও তৈরি করেছেন। এই সকল কাজের উপরে ভর করেই উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় নিজেদের সংগঠন মজবুত করতে সমর্থ হয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। ভোট বাক্সেও দেখা গিয়েছে সেই সাফল্যের ছবি।

পড়ুন: আমাকে আটকাতে পরিবারকে নিয়ে টানাটানি করছে তৃণমূল: জয়

কিন্তু, গত এক বছরে বদলাতে শুরু করেছে শান্ত পাহাড়ে ছবিটা। মাথা চারা দিয়েছে পৃথক গোর্খাল্যান্ড রাজ্যের দাবিতে আন্দোলন। আন্দোলন দমাতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন রাজ্য পুলিশের এক কর্মী। এরপরে কিছুটা হলেও দমে গিয়েছে গোর্খাল্যান্ডের আন্দোলন। কিন্তু, সম্পূর্ণ ভাবে ধামাচাপা পড়েনি।

উত্তরবঙ্গে নিজেদের দাপট দেখাতে বৃহস্পতিবার শিলিগুড়িতে বিরাট সভার আয়োজন করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। সদ্য ফুল বদল করা মুকুল রায় উপস্থিত থাকছেন। উত্তরবঙ্গে মুকুলের সাংগঠনিক দক্ষতা প্রমাণ হবে এদিনের সভা থেকেই। এই সভায় উপস্থিত থাকছেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি দিলীপ ঘোষ, দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আস আস আহলুওয়ালিয়া ও বাবুল সুপ্রিয় এবং রাজ্য বিজেপির নেতা জয় বন্দোপাধ্যায়।

এদিন বাগডোগরা বিমানবন্দরে নামার পরে এই প্রতিবেদককে জয় বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “পয়সা দিয়ে পাহাড়ে শান্তি কেনার চেষ্টা করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই কারণেই পাহাড় ফের অশান্ত হয়ে উঠেছে।” একইসঙ্গে তিনি আর জানিয়েছেন যে পাহাড়ের কিছু ব্যক্তিকে টাকা দিয়ে আন্দোলন দমন করতে চেয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু উনি জানেন না যে এভাবে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। একই ঢঙে রাজ্য সরকার জঙ্গলমহলকে চুপ করিয়ে রেখেছে বলে দাবি করেছেন বিজেপির রাজ্য নেতা জয় বন্দ্যোপাধ্যায়।

Advertisement ---
---
-----