মুখ্যমন্ত্রী মমতার অপেক্ষায় প্রস্তুত হচ্ছে পূর্ব বর্ধমান

পূর্ব বর্ধমান: জেলা সফরে আসছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রতিবারের মত এবারও তিনি প্রকাশ্য সভামঞ্চ থেকে সরকারী প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করবেন। দেবেন বিভিন্ন উপভোক্তাদের সরকারী সহায়তাও। করবেন প্রশাসনিক সভাও।

এবারই প্রথম পূর্ব বর্ধমান জেলার এই প্রশাসনিক সভার সরাসরি টিভির পর্দায় দেখানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফলে কার্যতই মুখ্যমন্ত্রীর এই সভাকে ঘিরে রীতিমত চাপের মুখে পড়েছেন প্রশাসনিক আধিকারিকরাও। কারণ মুখ্যমন্ত্রী সরকারী পরিষেবা দেবার ক্ষেত্রে কোনো ত্রুটি দেখা দিলে কাউকেই রেয়াত করেন না। ফলে সরাসরি তাঁদের বকাবকি করলে তা গোটা দেশের মানুষ সঙ্গে সঙ্গেই জানতে এবং দেখতে পাবেন। এতদিন ঘরের মধ্যে কি হচ্ছে তা জানার কোনো উপায় ছিল না। বাইরে বেড়িয়ে এসে অনেকেই তাঁদেরকে তিরস্কারের বিষয়টি বেমালুম চেপে যেতেন। কিন্তু এবারে আর সেই উপায় না থাকায় প্রত্যেকেই রীতিমত আতংকের মধ্যে রয়েছেন। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর দীর্ঘক্ষণ বর্ধমান শহরে উপস্থিতি। ফলে তাঁর নিরাপত্তার বিষয়টি ঠিকঠাক রাখতে দফায় দফায় চলছে পুলিশ কর্তাদের বৈঠক। আই জি থেকে ডিআইজিরা ছুটে বেড়াচ্ছেন শহর জুড়ে।

- Advertisement -

মুখ্যমন্ত্রী কলকাতা থেকে সরাসরি সড়কপথে কানাইনাটশাল বাংলোতে আসবেন। তাঁর যাতায়াতের পথের দুপাশে দেওয়া হয়েছে বাঁশের ব্যারিকেড। সেচ বাংলোর দোতলার যে ঘরে থাকবেন ইতিমধ্যেই তাঁর দখল নিয়েছে তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা স্পেশাল নিরাপত্তাবাহিনী। দীর্ঘকাল পর মুখ্যমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে সেচ বাংলো এবং সংস্কৃতি লোকমঞ্চে রংয়ের প্রলেপ পড়ে ঝাঁ চকচকে করে তোলা হয়েছে। বর্ধমানের জেলাশাসক অনুরাগ শ্রীবাস্তব জানিয়েছেন, বুধবার সন্ধ্যা প্রায় ৬টা নাগাদ মুখ্যমন্ত্রী বর্ধমানের কানাইনাটশালের সেচবাংলোয় ঢুকবেন। সেখানে রাত্রি কাটানোর পর পরের দিন বৃহস্পতিবার দুপুর ২টো নাগাদ তিনি পুলিশ লাইন মাঠে তিনি প্রকাশ্য সভা করবেন। এই সভা থেকেই তিনি সবুজ সাথী, সবুজশ্রী, কন্যাশ্রী , গীতাঞ্জলী, মত্স্য বিক্রেতাদের সাইকেল ও তাপনিরোধক বাক্স, লোকপ্রসার প্রকল্প, কৃষি যন্ত্রপাতি প্রভৃতি প্রকল্পে মোট ২৮২ জনকে সুবিধা প্রদান করবেন। যদিও খোদ মুখ্যমন্ত্রী পুলিশ লাইনের এই মঞ্চ থেকে এই সমস্ত প্রকল্পের উপভোক্তাদের মধ্যে ৬০ জনকে নিজে হাতে সুবিধা প্রদান করবেন।

পুলিশ লাইন মাঠের জনসভা থেকে এরপর মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি চলে যাবেন শহরের প্রাণকেন্দ্র সংস্কৃতি লোকমঞ্চে। এখানেই তিনি প্রশাসনিক সভা করবেন। বর্ধমান জেলা পরিষদের সভাধিপতি দেবু টুডু জানিয়েছেন, প্রশাসনিক এই সভায় পূর্ব বর্ধমান জেলায় প্রথম মুখ্যমন্ত্রী আমন্ত্রণ জানিয়েছেন, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কোর্স ও বিভাগের ছাত্রছাত্রীদের। এছাড়াও তিনি আমন্ত্রণ জানিয়েছেন, জেলার চেম্বার অব কমার্স, নার্সিংহোম ও বেসরকারি হাসপাতালের প্রতিনিধিদেরও। বৃহস্পতিবার প্রশাসনিক ওই সভায় বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রায় ৬০ জন ছাত্রছাত্রী হাজির থাকবেন বলে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে। মঙ্গলবার তা নিয়ে খোদ জেলাশাসক বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একপ্রস্ত বৈঠকও সেরেছেন।

এদিন মুখ্যমন্ত্রীর সেচবাংলো, পুলিস লাইন মাঠ, সংস্কৃতি লোকমঞ্চ এবং সংস্কৃতি লোকমঞ্চে মুখ্যমন্ত্রীর জন্য নির্দিষ্ট ঘরের কাজ খতিয়ে দেখেন সভাধিপতি। সভাধিপতি দেবু টুডু জানিয়েছেন, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা কন্যাশ্রী প্রকল্পে বিশ্বজয়ী মমতা বন্দোপাধ্যায়কে বরণ করার জন্য তৈরি বর্ধমান। তিনি জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার পুলিশ লাইন মাঠ থেকে মুখ্যমন্ত্রী পূর্ব বর্ধমান জেলার জন্য মোট ২২টি প্রকল্পের উদ্বোধন এবং ২৮টি প্রকল্পের শিলান্যাস করবেন। যে সমস্ত প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন তার আর্থিক মূল্য প্রায় প্রায় ৭৬ কোটি টাকা। এছাড়াও তিনি প্রায় ৫৫ কোটি টাকা প্রকল্পের শিলান্যাসও করবেন। যে সমস্ত প্রকল্পগুলির তিনি শিলান্যাস করবেন তার মধ্যে রয়েছে পানীয় জল প্রকল্প, ব্রিজ নির্মাণ, রাস্তা সম্প্রসারণ, পুলিশ ও পদস্থ কর্মচারীদের জন্য আবাসন প্রকল্প, বেশ কয়েকটি পার্কেরও শিলান্যাস করবেন। এছাড়াও তিনি যে সমস্ত প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন তার মধ্যে রয়েছে পাকা রাস্তা,সেতু, পানীয় জল প্রকল্প, প্রাণী হাসপাতাল, ভবন উদ্বোধন, নদী সেচ প্রকল্প,বন্যার্তদের জন্য আশ্রয়স্থল প্রভৃতিও। প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, প্রশাসনিক সভা সেরে সন্ধ্যা প্রায় ৬ টা নাগাদ তিনি কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন।

Advertisement
---