চিন, শিকাগোর পর দিঘা সফরও বাতিল হল মমতার

নিবেদিতা দে, কলকাতা: চিন, শিকাগোর পর এবার জেলা সফরও বাতিল হল মুখ্যমন্ত্রীর৷ তবে এক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বর্ষা৷ আগামী ২৬, ২৭ ও ২৮ জুন নবান্ন থেকেই সড়কপথে পূর্ব-মেদিনীপুর সফরে যাওয়ার কথা চিল মমতার৷

কিন্তু প্রবল বর্ষণের কারণে সেই সফর বাতিল করতে হল তাঁকে৷ রাজ্যের সব জেলাগুলিতেই ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করেছে হাওয়া অফিস৷ নবান্ন সূত্রে খবর, রাজ্যের পরিস্থিতি নিয়ে চিন্তিত মুখ্যমন্ত্রী৷ তাই নবান্নে থেকেই পরিস্থিতি খতিয়ে দেখবেন তিনি৷ সমস্ত জেলাশাসকদেরও এ বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে৷

শনিবার চিনে যাওয়ার কথা থাকলেও যাওয়া হয়নি৷ চিনের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে রাজনৈতিক বৈঠক করার কথা ছিল তাঁর৷ কিন্তু সেই বৈঠক ঘিরে সংশয় তৈরি হওয়ায় আকস্মিক চিন সফর বাতিল করেন মুখ্যমন্ত্রী৷ তবে তৎক্ষনাৎ জেলা সফরের কর্মসূচীও ঠিক করে ফেলেন তিনি৷

- Advertisement -

২৬ জুন সড়কপথে দিঘায় পৌছে ২৭ তারিখ প্রশাসনিক বৈঠক৷ ২৮-এ প্রশাসনিক ডিস্ট্রিবিউশন সভা করার কর্মসূচী ছিল দলনেত্রীর৷ কিন্তু রাজ্যে প্রবল বর্ষার কারণে সেই সফরও বাতিল হয়ে গেল৷

তৃণমূলের একাংশের বক্তব্য, জেলা সফর বাতিল করে একপ্রকার বিজেপির দেওয়া চ্যালেঞ্জকেই গ্রহণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ বুধবার ২৭ জুন দুদিনের সফরে রাজ্যে আসছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ৷ এদিকে অমিত যখন রাজ্যে তখন জেলায় বেড়িয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল মুখ্যমন্ত্রীর৷

কিন্তু বিরোধীরা মুখ্যমন্ত্রীর এই সফরকে ঘিরে নানা প্রশ্ন তুলেছিল৷ এমনও বলা হয়েছিল, অমিত শাহের ভয়েই তড়িঘড়ি কলকাতা ছাড়ছেন মুখ্যমন্ত্রী৷ অমিতের সভায় যে জৌলুস তৈরি হবে তা সামনে থেকে দেখতে পারবেন না মমতা৷ কিন্তু আকস্মিক বৃষ্টির কারণে জেলা সফর বাতিল করে মুখ্যমন্ত্রী বিরোধীদের পাল্টা মারই দিলেন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল৷

তবে মুখ্যমন্ত্রীর জেলা সফর বাতিল হলেও দমতে রাজি নয় বিরোধী দল৷ তারা কিন্তু তাদের বক্তব্যে অবিচল৷ বিজেপির রাজ্য সম্পাদক রাহুল সিনহার কথায়, ‘‘বৃষ্টির ফোরকাস্ট তিনদিনের, মুখ্যমন্ত্রীর সফরও তিনদিনের৷ সেক্ষেত্রে ওনার সফর সম্ভব নয়৷ তাই উপায় না থাকায় অগত্যা গৃহবন্দি হয়েই কাটাবেন তিনি’’৷

অপরপক্ষে বিরোধীদর এইসব বক্তব্যকে আমল দিতে রাজি নয় তৃণমূল নেতৃত্ব৷ তৃণমূল মহা সচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ‘‘মানসিক ভারসাম্যহীন কতগুলি মানুষ, যাদের এরাজ্যে কোনও অস্তিত্বই নেই৷ ৷ তারা যত কম কথা বলে রাজ্যের হয়ে কাজ করবে ততই মঙ্গল৷ মা-মাটি-মানুষের নেত্রী যিনি তার বিরুদ্ধে এ ধরণের কথা সাধারণ মানুষ সহ্য করবে না৷ তাতে আখেরে লাভ হবে তৃণমূলেরই৷ আরও শক্তিশালী হবে দল৷’’

Advertisement
---