“রাজ্য থেকে লক্ষাধিক মুসলিম তাড়িয়ে মায়ানমার বানাতে চাইছেন মুখ্যমন্ত্রী”

গুয়াহাটি: মুসলিম তাড়িয়ে অসমেও একটা মায়ানমারের রাখাইন প্রদেশ করতে চাইছে বিজেপি সরকার। জামিয়ত উলেমা-ই-হিন্দের প্রবীণ নেতা আর্শাদ মাদানির এই বক্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে জোড় বিতর্ক। ওই রাজ্যের একাধিক থানায় জমা পড়েছে লিখিত অভিযোগ। এমনই সংবাদ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা বিবিসি।

পূর্ব এবং উত্তর-পূর্ব ভারতে বিভিন্ন রাজ্যে রয়েছে অনেক বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী। পূবের রাজ্য অসম এর ব্যতিক্রম নয়। এই অবস্থায় ওই রাজ্যে বসবাসকারী বৈধ ভারতীয় নাগরিকদের তালিকা প্রকাশ করার কথা ঘোষণা করেছে অসম সরকার। ওই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল বলেছেন, “যারা এই তালিকা প্রকাশের বিরোধিতা করবেন অসমে তাঁদের শত্রু বলে গণ্য করা হবে।”

রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্ত পছন্দ নয় জামিয়ত উলেমা-ই-হিন্দের নেতা আর্শাদ মাদানির। বৈধ নাগরিকদের তালিকা থেকে রাজ্যের লক্ষ লক্ষ মুসলিম বাদ পড়তে পারেন, এমনই আশংকা প্রকাশ করেছেন মাদানি। তাঁর মতে, “এই প্রক্রিয়ায় লক্ষ লক্ষ মুসলিমকে তাড়িয়ে অসমে একটা মায়ানমার তৈরি করার চক্রান্ত করছে সরকার।” তিনি আরও বলেছেন, “চারশো বছর ধরে যারা বংশপরম্পরায় আসামে বসবাস করছেন তাদের আপনি বাংলাদেশি বলে বাইরে ছুঁড়ে ফেলে দেবেন, তা আমরা কিছুতেই হতে দেব না। আমি পরিষ্কার বলতে চাই, তাহলে আগুন জ্বলে যাবে।”

চলতি সপ্তাহে দিল্লিতে আয়োজিত একটি সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে উক্ত বিতর্কিত মন্তব্য করেন আর্শাদ মাদানি। স্বভাবতই জামিয়ত নেতার এহেন বক্তব্যে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে সমগ্র অসম জুড়ে। তাঁর বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। রাজধানী শহর গুয়াহাটি ও তেজপুরের বিভিন্ন থানায় আর্শাদ মাদানির বিরুদ্ধে অনেকগুলো এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য প্রমাণ জোগাড় করা শুরু করেছে পুলিশ।

একাধিক ইসলামিক সংগঠনও তাঁর পাশ থেকে সরে দাঁড়িয়েছে। দায় এড়াতে দিল্লির সভার আয়োজকেরাও জানিয়েছেন যে ওই বক্তব্য আর্শাদ মাদানির ব্যক্তিগত মত। মাদানির পাশে নেই তাঁর নিজের সংগঠন জামিয়ত উলেমা-ই-হিন্দ। দলের এক প্রবীণ নেতা আবদুল খালেক বলছেন, “মাদানি সাহেবের বক্তব্য বলে মিডিয়ায় যা প্রচার হয়েছে, তা কিছুতেই সমর্থনযোগ্য নয়। তিনি একটা স্বাধীনতা সংগ্রামী পরিবারের সন্তান, তার মুখে এ ধরনের কথা মানায় না।”

----
-----