মেধা তালিকায় প্রথম সহ ৯ জন পড়ুয়াই কোচবিহারের

স্টাফ রিপোর্টার, কোচবিহার: ফল প্রকাশ হতেই খুশীর হাওয়া কোচবিহারের শিক্ষা মহলে৷ কারণ, এবারে জেলার ৯জন পড়ুয়া ঠাঁই করে নিয়েছে শীর্ষ মেধা তালিকায়৷

মেধা তালিকার শীর্ষ স্থান দখল করে প্রথম হয়েছে এই জেলারই মেয়ে সঞ্জীবনী দেবনাথ৷ সঞ্জীবনীর প্রাপ্ত নম্বর ৬৮৯। কোচবিহার সুনীতি একাডেমীর এই ছাত্রী ভবিষ্যতে চিকিৎসক হতে চাই৷ সঞ্জীবনীর বাবা পঙ্কজ দেবনাথ কোচবিহার কলেজের অধ্যক্ষ্৷মা সীমা দেবনাথ দিনহাটা হাইস্কুলের ইংরেজির শিক্ষকা।

ছোট বেলা থেকেই পড়াশুনায় ভাল সঞ্জীবনী। তাঁর কথায়, ‘‘দিনে সাত থেকে আট ঘণ্টা পরাশোনা করতাম৷ তবে বাধা ধরা গতে কখনই পড়িনি৷’’ পড়াশোনার পাশাপাশি টিভি দেখতে পছন্দ করে সে। নিজের এই সাফল্যের জন্য স্কুলের শিক্ষকা , প্রাইভেট টিউটর এবং মা, বাবাকে কৃতিত্ব দিচ্ছেন৷এদিন সকালে টিভিতে প্রথম হওয়ার খবর জানার পর থেকেই বাড়িতে লোকেদের ভিড় জমতে শুরু করে৷ মুখ্যমন্ত্রীর তরফে শুভেচ্ছা জানাতে সঞ্জীবনীর বাড়িতে আসেন উত্তরঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী রবীন্দ্র নাথ ঘোষ সহ অনেকেই।

- Advertisement -

শুধু সঞ্জীবনী নয়, মেধা তালিকায় ঠাঁই করে নিয়েছে সুনীতি আকাদেমির আরও এক ছাত্রী মযুরাক্ষী সরকার৷রাজ্যে সে তৃতীয় স্থান দখল করেছে৷ তাঁর প্রাপ্ত নম্বর ৬৮৭। ভবিষ্যতে কৃষি বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করতে চাই মযুরাক্ষী৷ তাঁর বাবা সত্যেন্দ্র চন্দ্র সরকার উত্তরবঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক৷মা অজন্তা সরকার নিউটাউন গার্লস হাইস্কুলের শিক্ষিকা।

সঞ্জীবনীর মতো ময়ুরাক্ষীও জানিয়েছে, ‘‘কখনই সময় ধরে পড়াশোনা করিনি৷ তবে যতক্ষণ পড়েছি মন দিয়ে পড়েছি৷’’ পড়াশোনার পাশাপাশি রবীন্দ্র সংগীতও শেখে সে। সাফল্যের জন্য বাবা,মা’র পাশাপাশি স্কুলের শিক্ষিকাদের কৃতিত্ব দিচ্ছে সে৷ এবারে মাধ্যমিক পরিক্ষায় ষষ্ঠ স্থান অধিকার করেছে কোচবিহারের দিনহাটা হাইস্কুলের ছাত্র সুমিত বাগচি৷

একইভাবে সপ্তম স্থান অধিকার করেছে জেলার মনীন্দ্রনাথ হাইস্কুলের ছাত্রী মহেশ্বতা হোম রায়, অষ্টম স্থান অধিকার করেছে রামভোলা হাইস্কুলের দেবস্মিতা রায়। নমব স্থান অধিকার করেছে সুনীতি স্কুলের ঐতিহ্য সাহা, দশম স্থান অধিকার করেছে মাথাভাঙা হাইস্কুলের ছাত্র বৈদুর্য বিশ্বাস ও সুন্তন সাহা। স্বভাবতই, মাধ্যমিকের মেধা তালিকার শীর্ষে এক সঙ্গে জেলার ৯ জন পড়ুয়া জায়গা করে নেওয়ায় খুশি জেলার শিক্ষামহল৷ তাঁদের মতে, জেলায় শিক্ষার মান যে ক্রমশ উন্নত হচ্ছে এই ফলাফল থেকেই তা স্পষ্ট৷

Advertisement
---