স্টাফ রিপোর্টার, কোচবিহার: কোচবিহার লোকসভা কেন্দ্রের যুব কংগ্রেসের নতুন সভাপতি কে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক৷ এই পদের দু’জন দাবিদার সামনে এসেছে৷

আজ কোচবিহার প্রেস ক্লাবে এক সাংবাদিক সন্মেলন করেন জেলা কংগ্রেসের বেশ কিছু নেতা৷ যাদের মধ্যে প্রবীণ কংগ্রেস নেতা ও প্রাক্তন বিধায়ক ফজলে হকও ছিলেন৷ তাঁরা জানান, জয়ন্ত চন্দ কোচবিহার লোকসভা কেন্দ্রের যুব কংগ্রেসের নতুন অ্যাডহক কমিটির সভাপতি৷

আরও পড়ুন: দুর্নীতিতে অভিযুক্তদের আড়াল করছে পুলিশ : বিজেপি

এদিন জয়ন্ত চন্দ জানান, রাজ্য যুব কংগ্রেস সভাপতি আলবেরুনি তাঁকে নিয়োগ পত্র দিয়েছেন৷ এই সংক্রান্ত একটি কপিও তিনি সংবাদমাধ্যমের কাছে তুলে ধরেন৷ এদিনের সাংবাদিক সন্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক পার্থপ্রতিম ঈশোর, প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির সদস্য বিষ্ণু সরকার প্রমুখ৷ এদিন পার্থপ্রতিম ঈশোর বলেন “প্রতিটি লোকসভায় যুব কংগ্রেসের সদস্যদের নির্বাচনের মাধ্যমে সভাপতি নির্বাচিত হয়, শেষ নির্বাচিত যুব কংগ্রেসের সভাপতি ছিলেন রাকেশ চৌধুরী, যিনি বর্তমানে তৃণমূল কংগ্রেসে, এর পরে আর নির্বাচিত যুব কংগ্রেস সভাপতি হয়নি৷ অ্যাডহক কমিটি গড়ে সম্রাট মুখোপাধ্যায়কে সভাপতি করা হয়েছিল, তিনিও তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করেছেন৷ এবার জয়ন্ত চন্দ অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হলেন৷”

এদিন কোচবিহার লোকসভা কেন্দ্রের যুব কংগ্রেসের কর্মীরা যাঁরা বিভিন্ন কারণে ঘরে বসে গিয়েছেন তাঁদের দলে ফেরানোর কর্মসূচি নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পার্থপ্রতিম ঈশোর৷ যদিও গত কয়েকদিনে তন্ময় বর্মন বলে জনৈক নিজেকে কোচবিহার লোকসভা কেন্দ্রের যুব কংগ্রেসের সভাপতি দাবি করে শহরের বিভিন্ন স্থানে ফেক্স লাগিয়েছেন জয়ন্ত চন্দ৷ এই বিষয়ে জয়ন্ত চন্দের দাবি, “কেউ কেউ মিথ্যা প্রচার করছে৷ তাঁদের বিরুদ্ধে দল ব্যবস্থা নেবে৷”

আরও পড়ুন: কানে ফোন, বারাকপুরে বাতিল হল শতাধিক চালকের লাইসেন্স

তবে এই বিতর্ক নিয়ে মুখ খুলতে চাননি জেলা কংগ্রেসের সভাপতি শ্যামল চৌধুরী৷ তাঁর দাবি, “এটা যুবদের ব্যাপার তাঁরাই বলতে পারবেন কে আসল বা কে নকল যুব সভাপতি৷” তিনি এও জানান, এই ব্যাপারে তাঁর কোনও আগ্রহ নেই৷ কিন্তু রাজনৈতিক মহলের ব্যাখ্যা জেলা সভাপতি শ্যামল চৌধুরীর বিরুদ্ধে দলের একটি অংশে বিদ্রোহ দেখা দিয়েছে৷ শ্যামল চৌধুরী বিরোধী শিবিরেই এখন রয়েছেন জয়ন্ত চন্দ বা তাঁর সঙ্গে থাকা নেতারা৷

এদিনের সাংবাদিক সন্মেলন জেলা কংগ্রেস দফতরে না করে প্রেস ক্লাবে করার পেছনেও এই কারণ। এদিন তাৎপর্যপূর্ন ভাবে প্রবীণ কংগ্রেস নেতা ফজলে হক বলেন, দলের বেশি বয়সী নেতাদের সরিয়ে যুবদের হাতে ক্ষমতা দেওয়া জরুরি। রাজনৈতিক মহলের ব্যাখ্যা, তিনি শ্যামল চৌধুরীকে নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন প্রবীণ এই নেতা কারণ জেলা সভাপতি শ্যামল চৌধুরি বর্তমানে প্রায় ৭৫ বছর বয়স।

আরও পড়ুন: পশ্চিমবঙ্গকে দেখে মোদীকে সরকার চালাতে নির্দেশ মমতার

------------------------------------- ©Kolkata24x7 এই নিউজ পোর্টাল থেকে প্রতিবেদন নকল করা দন্ডনীয় অপরাধ৷ প্রতিবেদন ‘চুরি’ করা হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে -------------------------------------