কমিশনের নজিরবিহীন সিদ্ধান্তে স্নায়ুর চাপ বাড়ল অনুব্রত-অধীরের

সুমন বটব্যাল ও দেবযানী সরকার, কলকাতা: নির্ধারিত সময়ের প্রায় আড়াই মাসে আগেই পঞ্চায়েত ভোটের ঘণ্টা বাজিয়ে দিল কমিশন৷ তিন দফায় ভোট হবে ২০ টি জেলায়৷

প্রথম দফায় ১২টি ও তৃতীয় দফায় ৬টি জেলায়৷ দ্বিতীয় দফায় ভোট হবে মাত্র ২টি জেলায়- বীরভূম ও মুর্শিদাবাদে৷ স্বভাবতই, কমিশনের এই জেলা ভাগের পদ্ধতির অন্দরে অন্য ইঙ্গিত দেখছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীররঞ্জন চৌধুরী৷

আরও পড়ুন: সেনার গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি জঙ্গিদের

- Advertisement -

একইভাবে বীরভূমের শাসকদল এর পিছনে দেখছেন মুকুল রায়ের ‘চক্রান্ত’কে৷ কেন্দ্রীয় আধা সামরিক বাহিনী দিয়ে ভোট হবে কি না, হলে কত বাহিনী চাওয়া হবে- তাও স্পষ্ট করেনি কমিশন৷

স্বভাবতই, নজিরবিহীনভাবে এক দফায় মাত্র দুটি জেলার ভোট করানোর সিদ্ধান্তের পিছনে ‘ষড়যন্ত্রে’রই গন্ধ পাচ্ছে শাসক থেকে বিরোধী! রাজ্যের বর্তমান মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক অমরেন্দ্র কুমার সিংকে ‘শাসকের মুখ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীররঞ্জন চৌধুরী৷ অতীতের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মীরা পাণ্ডের সঙ্গে তুলনা করে অধীরের তীব্র প্রতিক্রিয়া, ‘‘এই নির্বাচন  কমিশনার টিথলেস টাইগার৷ মীরা পান্ডে পাঁচ দফায় নির্বাচনের জন্য আদালত পর্যন্ত গিয়েছিলেন৷ এঁনার কোনও ব্যক্তিত্ব দেখতে পাচ্ছি না৷ ইতি কার্যত শাসকের মুখ হয়ে গিয়েছেন৷’’

আরও পড়ুন: সিবিএসসি পেপার লিক কাণ্ডে গ্রেফতার এবিভিপি নেতা সহ তিন

আশঙ্কার সুরে বলেছেন, ‘‘নির্বাচনের আগে রাজ্যের শাসক দল যেভাবে ভয় দেখিয়ে সন্ত্রাসের বাতাবরণ তৈরি করেছে, তাতে সুষ্ঠুভাবে ভোট হবে কি না সন্দেহ আছে৷’’ যা শুনে শাসকের তরফে উড়ে এসেছে তীব্র কটাক্ষ,‘‘তবে কি শেষের সেদিন বুঝতে পারছেন অধীরবাবু!’’ অভিযোগ করেছেন, ‘‘এতদিন নিজের গড়ে লেঠেলবাহিনী দিয়ে এলাকায় জোর করে ভোট করাতেন কংগ্রেস নেতা৷ এবার তিনি হাড়ে হাড়ে টের পাবেন, ভোট কাকে বলে!’’

গেরুয়া জার্সি গায়ে চড়ানোর পর বীরভূমের মাটিতে দাঁড়িয়ে অনুব্রত মণ্ডলকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে মুকুল রায় দাবি করেছিলেন, ‘‘পঞ্চায়েত ভোটে রাজ্যের অন্যত্র কি ফলাফল হবে জানি না৷ তবে চ্যালেঞ্জ করে বলছি- সিউড়ি জেলা পরিষদ আমরা দখল করবই করব৷ এই জেলার প্রত্যেকটা আসনে আমরা প্রার্থী দেব৷’’ পাল্টা হিসেবে সেসময় অনুব্রতর মুখে বারে বারে শোনা গিয়েছে, ‘‘জেলার প্রতিটি বুথ পাহারায় থাকবেন কর্মীরা৷ বিরোধীদের কোনও মনোনয়ন পত্র জমা করতেই দেব না৷’’

আরও পড়ুন: তৃণমূল কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে শ্রমিক সংগঠনের বিক্ষোভ

কর্মীদের নিদান দিয়েছিলেন, ‘‘মনোনয়ন জমা দিতে এলে মেরে ঠ্যাং ভেঙে দিন৷’’ স্বভাবতই, দ্বিতীয় দফায় স্রেফ বীরভূম ও মুর্শিদাবাদে ভোট হওয়ার পিছনে বিজেপি নেতা মুকুল রায়ের ‘কারুকাজের গন্ধ’ পাচ্ছেন অনুব্রত ঘনিষ্ঠরা৷ তাঁদের মতে, ‘‘দাদাকে টাইট দিতেই মুকুল রায়ের ষড়যন্ত্রে এসব করা হল!’’ বীরভূমের দাপুটে জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল অবশ্য প্রকাশ্যে নিজস্ব ঢঙে এদিনও বলেছেন, ‘‘ভোট করানোর দায়িত্ব কমিশনের৷ ওরা যেভাবে খুশি ভোট করাক৷ আমাদের কিছুই আসে যায় না৷’’ এদিনও জোর গলায় বলেছেন, ‘‘দিদির উন্নয়নের দৌলতে মানুষ আমাদের সঙ্গে আছেন৷ জেলার ত্রিস্তর নির্বাচনের সবকটি আসনে জিতব আমরাই৷ বিরোধীরা হালে পানি পাবে না৷’’

আরও পড়ুন: জেনে নিন ১এপ্রিল থেকে কোন জিনিসের দাম বাড়ছে

কমিশন সূত্রের খবর: গত পঞ্চায়েত ভোটে সব থেকে বেশি গোলমাল হয়েছিল বীরভূম ও মুর্শিদাবাদে৷ তাছাড়া সাম্প্রতিক অতীতে সংশ্লিষ্ট দুটি জেলাতেই সবচেয়ে বেশি রাজনৈতিক সংঘর্ষ হয়েছে৷ ঝরেছে রক্ত৷ একাধিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে৷ তাই সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন পরিচালনার স্বার্থে অতি স্পর্শকাতর এই দুটি জেলাকে একেবারে আলাদা করে বাছা হয়েছে৷ ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ফলাফল যাই হোক না কেন, নজিরবিহীনভাবে দ্বিতীয় দফায় কমিশন স্রেফ দুটি জেলায় ভোট করানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ায় অনুব্রত থেকে অধীরের স্নায়ুর চাপ বেড়েছে!

আরও পড়ুন: কলকাতা: বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে নাবালিকা অপহরণ

Advertisement
---