রাজ্যে পঞ্চম থেকে অষ্টম পর্যন্ত পাশ-ফেল ফেরানোর সুপারিশ কমিটির

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: সদ্য পাশ হওয়া শিক্ষার অধিকার আইনের সংশোধনী বিল অনুয়ায়ী, শুধু পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণিতে নয়, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের দাবি মতো প্রথম শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণি নয়৷ পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পাশ-ফেল প্রথা ফিরিয়ে আনার সুপারিশ দিল পাশ-ফেল কমিটি৷ বুধবার পাশ-ফেল প্রথা ফিরিয়ে আনার বিষয়ে স্কুল শিক্ষা দফতরে মোট ৩৪ পাতার রিপোর্ট জমা করে এই কমিটি৷ এই রিপোর্ট বিবেচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷

পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণিতে পাশ-ফেল প্রথা ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আগেই কেন্দ্রকে সম্মতি দিয়েছিল রাজ্য৷ তারপর, লোকসভা বাদল অধিবেশনের প্রথম দিনেই পাশ হয়ে যায় শিক্ষার অধিকার আইন, ২০১৭-র সংশোধনী বিল৷ পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণিতে পাশ-ফেল ফিরিয়ে নিয়ে আসার প্রস্তাব ছিল এই বিলে৷ এ ছাড়া, পড়ুয়াদের সুবিধার্থে ফাইনাল পরীক্ষার তিন মাস পর ফের পরীক্ষা নিয়ে পাশ-ফেল নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রস্তাব ছিল৷ তবে, পাশ-ফেল আইনীভাবে ফিরিয়ে আনা হলেও কীভাবে এই প্রথা ফেরানো হবে সেই সম্পর্কে রাজ্যকে স্বাধীনতা দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার৷

সংশোধনী বিল পাশের পরদিনই প্রথম শ্রেণি থেকে সব শ্রেণিতে পাশ-ফেল ফিরিয়ে আনার দাবিতে রাজভবনের চারটি প্রধান দ্বার অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখায় বামপন্থী সংগঠন এসইউসিআই৷ ওই দিনই শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, কোন শ্রেণি থেকে পাশ-ফেল প্রথা চালু হবে তা নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি৷ তিনি বলেছিলেন, ‘‘‘কোন ক্লাস থেকে পাশ-ফেল শুরু হবে তা নিয়ে আলোচনা চলছে৷ মুখ্যমন্ত্রী ও শিক্ষাবিদদের সঙ্গে আলোচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে৷’’

- Advertisement -

এ ছাড়া, ওই দিন শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছিলেন, পাশ-ফেল প্রথা নিয়ে একটি পাঁচ সদস্যের কমিটি তৈরি করেছে রাজ্য৷ এই কমিটির দায়িত্বে রয়েছেন রাজ্য বিএড বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সোমা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ এ ছাড়া, পাঁচ সদস্যের এই কমিটিতে রয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সভাপতি কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায়, প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের সভাপতি মানিক ভট্টাচার্য, সিলেবাস কমিটির চেয়ারম্যান অভীক মজুমদার এবং স্কুল শিক্ষা দফতরের অতিরিক্ত সচিব৷ কোন শ্রেণি থেকে পাশ-ফেল ফিরবে সেই নিয়েই আলোচনা করার জন্যই এই কমিটি তৈরি করা হয়েছিল৷ আলোচনা করে সাত দিনের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল রাজ্য৷

নির্দেশ অনুযায়ী এদিন স্কুল শিক্ষা দফতরে মোট ৩৪ পাতার রিপোর্ট জমা করল পাশ-ফেল কমিটি৷ এই রিপোর্টে পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত মোট চারটি শ্রেণিতে পাশ-ফেল ফেরানোর সুপারিশ করা হয়েছে৷ এক একটি শ্রেণিতে বছরে তিনটি করে পরীক্ষা নেওয়ার সুপারিশও করেছে কমিটি৷ তবে, কেন্দ্রের তিন মাস পরে ফের পরীক্ষা নেওয়ার প্রস্তাব রাজ্যে খারিজ করার পক্ষে মত দিয়েছে এই কমিটি৷ এই বিষয়ে কমিটি সুপারিশ করেছে যে, বছরে তিনটি পরীক্ষার মধ্যে শেষ ও চূড়ান্ত পরীক্ষা নেওয়া হবে নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে৷ ওই পরীক্ষার মাধ্যমেই পড়ুয়া পাশ না ফেল তা বিবেচনা করা হবে৷ আর এই পরীক্ষায় অকৃতকার্য পড়ুয়াকে পরবর্তী শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য এক বছর অপেক্ষা করতে হবে৷ সব বিষয়ের মধ্যে মোট তিনটি বিষয়ে ফেল করলেই একজন পড়ুয়াকে অকৃতকার্য বলে বিবেচনা করা হবে৷

তবে, শুধু পাশ-ফেল ফিরিয়ে আনা নয়৷ এদিনের রিপোর্টে শিক্ষক-শিক্ষকাদের ভূমিকা নিয়েও কয়েকটি সুপারিশ করেছে পাশ-ফেল কমিটি৷ এই সুপারিশ গুলির মধ্যে অন্যতম হল, কোনও পড়ুয়া অকৃতকার্য হলে তার দায় নিতে হবে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের। কেন তারা অনুত্তীর্ণ? সেই শো-কজের জবাবও দিতে হবে তাঁদের। পাশাপাশি, বিদ্যালয়গুলির শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বাড়িতে পড়ানো অর্থাৎ, টিউশনির পরিমাণ কমাতে প্রয়োজনীয় নজরদারির সুপারিশও করা হয়েছে কমিটির রিপোর্টে।

স্কুল শিক্ষা দফতর সূ্ত্রে জানা গিয়েছে, পড়ুয়াদের চাপ কিছুটা হাল্কা করার বিষয়েও সুপারিশ করেছে পাশ-ফেল কমিটি৷ এই সুপারিশ গুলির মধ্যে কিছু বিষয়ে সিলেবাস আরও কমানোর কথা বলা হয়ছে৷ পাশাপাশি, প্রশ্নের ধরন পরিবর্তনের কথাও বলা হয়েছ। সূত্রের খবর, এগুলি শুধুমাত্র সুপারিশ৷ এই সুপারিশগুলি নিয়ে স্কুল শিক্ষা দফতরের সঙ্গে আলোচনার করে পাশ-ফেল প্রথার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷

Advertisement ---
---
-----