ধর্মান্ধতা দূর করতে সাঁঝবেলায় মোমের আলোয় হাঁটবে শিল্পনগরী

প্রসেনজিৎ চৌধুরী, দুর্গাপুর: দুর্গা দুর্গে দুর্গতিনাশিনী…

অর্থাৎ দেবী দুর্গতি নাশ করতেই ধরাধামে আসেন৷ তাঁকে বরণ করেন মর্ত্যবাসী৷ দেশের অন্যতম শিল্পশহর দুর্গাপুরের মানুষ ধর্মান্ধতার দুর্গতি দূর করতে মরিয়া হলেন। শনিবার বিকেল শেষ হবে। সন্ধে নামবে নিময় করে। সাঁঝবেলায় হাজারো মানুষের মোমবাতি মিছিল দেবে শান্তির বার্তা৷ রাজ্য জুড়ে হয়ে চলা অশান্তি রুখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে৷

অবিভক্ত বর্ধমান বর্তমানে পশ্চিম বর্ধমানের গর্ব দুর্গাপুর বহু ইতিহাসের সাক্ষী৷ দেশের শিল্প বিপ্লবের প্রাণকেন্দ্র সম্প্রীতি রক্ষায় আরও একবার ইতিহাস তৈরি করতে যাচ্ছেন৷ রামনবমীকে ঘিরে প্রতিবেশী শহর রানিগঞ্জ ও আসানসোলে যে গোষ্ঠী সংঘর্ষ ছড়িয়েছিল তা ক্রমশ প্রশমিত হচ্ছে৷ তবুও কয়েকটি এলাকায় আছে চাপা উত্তেজনা৷ সেই পরিস্থিতি যাতে নতুন করে বিশৃঙ্খলতা টেনে আনতে না পারে তার জন্যই উদ্যোগ নিয়েছেন দুর্গাপুরের বি-জোন ক্লাব সমন্বয়৷ তাদের উদ্যোগে একটি ধর্মনিরপেক্ষ মিছিল অনুষ্ঠিত হবে৷ এতে সব ধর্মের মানুষ অংশ নেবেন৷ মোমবাতির আলোয় মৌন মিছিল পরিক্রমা করবে বিভিন্ন এলাকা৷

- Advertisement -

ক্লাবের তরফে শিল্পশহরের বাসিন্দাদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, শান্তির জন্য হাঁটুন৷ তাতেই সাড়া মিলেছে প্রচুর৷ কারণ দুর্গাপুরের বাসিন্দাদের কাছে গত কয়েকদিনের পরিস্থিতি ছিল আতঙ্কের৷

লাগোয়া কয়লা শহর রানিগঞ্জ ও রেলশহর আসানসোলে যে গোষ্ঠী সংঘর্ষ হয়েছে৷ এখানকার বহুজনের আত্মীয়রা রয়েছেন এই দুই শহরে৷ কাজের জন্য দুর্গাপুর থেকে অনেকেই রানিগঞ্জ ও আসানসোলে যান৷

গোষ্ঠী সংঘর্ষ পরবর্তী সময়ে তাঁরা রীতিমতো ভীত ছিলেন৷ চোখের সামনে দেখেছেন ভেঙে থাকা দোকান, পুড়ে যাওয়া গাড়ি, অসহায় মানুষ৷ রক্তাক্ত পুলিশ আধিকারিক অরিন্দম দত্ত চৌধুরীর ছবি দেখে শিউরে গিয়েছে দেশ৷ তাই সজাগ ছিলেন দুর্গাপুরবাসী৷ অনেকেরই অভিযোগ, ধর্মীয় উস্কানিমূলক বার্তা ছড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছিল৷ সেসব এড়িয়ে গিয়েছেন তাঁরা৷

বি জোন ক্লাব সমন্বয়ের তরফে জানানো হয়েছে, এদিনের শান্তি মিছিলে কম করেও দু হাজার মানুষ অংশ নেবেন৷ শিশুদের হাতে থাকবে সম্প্রীতির বার্তা দেওয়া পোস্টার৷ ক্লাবের তরফে সবাইকে আহ্বান জানানো হয়েছে৷ উগ্র ধর্মীয় ভাবাবেগ নয়, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানই কাম্য৷ সাঁঝের বেলায় মোমের আলোয় সেই বার্তা দেবে দুর্গাপুর৷

Advertisement
----
-----