তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: বাড়ির ছাদ প্রায় ভেঙে পড়েছে। সেই ভাঙা ছাদ থেকে এখন আকাশটার কিছুটা অংশও দেখা যায়। বৃষ্টির জল সেই ভাঙা ছাদ ভেদ করে ঢুকে পড়ে বিনা দ্বিধায়। ছাদ আর দেওয়াল চুঁইয়ে পড়ছে বৃষ্টির জল৷

ভিজছে বই খাতা থেকে শুরু করে স্কুলের জামাকাপড়ও৷ এক প্রকারের বাধ্য হয়েই ওই রকম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে দিনের পর দিন পড়াশোনা করতে বাধ্য হচ্ছে পড়ুয়ারা৷ বাঁকুড়ার রাইপুরের উপরবান্দা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এই ঘটনায় প্রায় একশো ক্ষুদে পড়ুয়াকে ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে৷

আরও পড়ুন: সোনার কয়েন অর্ডার করে খালি বাক্স ধরাল ফ্লিপকার্ট

জেলার রাইপুর ব্লক অফিস থেকে ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে এই প্রাথমিক বিদ্যালয়৷ বর্তমানে এই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একেবারে জীর্ণ দশা বলা যেতে পারে৷ একই ছাদের তলায় ওই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রয়েছে প্রায় একশো ছাত্রছাত্রী ও দু’জন শিক্ষক৷

বর্ষা আসার পর থেকেই এই ধরনের সমস্যায় ভুগতে হয় তাদের৷ তবে বর্তমানে ওই বিদ্যালয়ের যা অবস্থা তাতে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই পড়াশোনা করছে ও করাচ্ছেন ছাত্রছাত্রী থেকে শিক্ষকরা৷ অভিযোগ, মাঝেমধ্যেই ভেঙে পড়ছে ছাদের চাঙড়, খসে পড়ছে দেওয়ালের পলেস্তর। এই অবস্থায় যে কোনও ধরণের ছোটোখাটো দুর্ঘটনা ঘটে গেলে তার দায় কে নেবে? সেই নিয়েই এলাকায় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

আরও পড়ুন: বন্ধ ঘরে প্রৌঢ় দরজির রহস্যমৃত্যু

প্রসঙ্গত, বিষয়টি বারবার প্রশাসনকে জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের। গ্রামবাসী ও প্রাক্তন শিক্ষক ইনসার আলি বলেন, ‘‘বিষয়টি বারবার প্রশাসন ও অবর বিদ্যালয় পরিদর্শককে জানানো হয়েছে। কিন্তু তাঁরা এই বিষয়ে কোনও পদক্ষেপ নেননি। এদিকে এই অবস্থায় বাড়ির ক্ষুদে সদস্যদের স্কুলে পাঠাতেও পরিবার সাহস পাচ্ছেন না। গ্রামবাসীরা স্কুল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিতে চাইছে৷ কিন্তু ছোটো ছোটো ছেলেমেয়েদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে তাঁরা পিছিয়ে আসতে বাধ্য হচ্ছে।’’

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের অনুপস্থিতিতে সহ শিক্ষক চক্রধারী কুণ্ডু বলেন, ‘‘চলতি বর্ষার মরশুমে স্কুল বাড়ির ছাদ ভেঙে পড়েছে। বাকি অংশটুকুও যে কোনও সময় ভেঙে পড়তে পারে। পূর্বতন ও বর্তমান অবর বিদ্যালয় পরিদর্শককে বিষয়টি জানিয়েও কোনও কাজের কাজ হয়নি৷’’

আরও পড়ুন: বিদ্যুৎ চুরি রুখতে জনসংযোগই হাতিয়ার মমতার প্রশাসনের

আরও পড়ুন: গেরুয়া শিবিরে অমর সিং? জল্পনা তুঙ্গে

এই বিষয়ে জানতে স্থানীয় অবর বিদ্যালয় পরিদর্শকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি তাঁর ছিলনা। তবে এবার খোঁজ নিয়ে দেখবেন। স্কুলের পরিকাঠামোগত সমস্যার রিপোর্ট সব স্কুলগুলিকেই দিতে বলা হয়েছিল। তবে ওই স্কুলের তরফে কোনও রিপোর্ট জমা পড়েনি বলেও অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক দাবি করেন।

----
--