ভোপাল: মধ্যপ্রদেশে বিধানসভা ভোট মিটতেই ইভিএম মেশিনে কারচুপির অভিযোগ তুলল কংগ্রেস৷ অভিযোগ, ভোটের পর কোথাও স্ট্রংরুমে ঢুকে মেশিনে কারচুপি করা হয়েছে৷ আবার কোথাও ইভিএম মেশিন বিজেপি নেতার বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে৷ সব মিলিয়ে ফলাফল ঘোষণার আগে নতুন করে উত্তাপের পারদ চড়ছে মধ্যপ্রদেশে৷

কংগ্রেসের এমন অভিযোগের কারণ রয়েছে৷ গত ৩০ নভেম্বর ভোপালের স্ট্রংরুম প্রায় দেড় ঘণ্টার কাছাকাছি সময় বিদ্যুতহীন হয়ে ছিল৷ যার ফলে স্ট্রংরুমের বাইরে থাকা এলইডি স্ত্রিন, সিসিটিভি ক্যামেরাও অকেজো হয়ে পড়ে৷ ওই দিনই আবার সাগর জেলার স্ট্রংরুমে ইভিএম মেশিন জমা পড়ে৷ ভোট মেটার ৪৮ ঘণ্টা পর কেন ইভিএম মেশিন জমা করা হল এখন সেই প্রশ্ন তুলছে বিরোধীরা৷ এত কিছুর মধ্যে ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছে কংগ্রেস সহ বিরোধী দলগুলি৷ যার ফলে বিরোধী শিবিরে ইভিএম মেশিনে কারচুপির অভিযোগ আরও পোক্ত হয়৷

শনিবার প্রদেশ কংগ্রেসের তরফে নির্বাচন কমিশনের অফিসে গিয়ে এই নিয়ে অভিযোগ জমা পড়ে৷ কংগ্রেসের অভিযোগ, স্ট্রংরুমগুলিতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার অভাব রয়েছে৷ স্ট্রংরুমের ভেতরেই থাকে ইভিএম মেশিন৷ কংগ্রেস নেতা জ্যোতিরাদিত্যা সিন্ধিয়া নির্বাচন কমিশনের কাছে আর্জি জানিয়েছে যে ইভিএম মেশিনগুলির নিরাপত্তায় যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হোক৷

সিন্ধিয়া ট্যুইট করে লেখেন, ৩০ নভেম্বর সকাল ৮টা ১৯ মিনিট থেকে ৯টা ৩৫ মিনিট পর্যন্ত ভোপাল স্ট্রংরুমের বাইরে বসানো এলইডি স্ক্রিন কাজ করেনি৷ কারণ সেই সময় লোডশেডিং হয়ে যায়৷ যার ফলে স্ট্রংরুমের বাইরে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরাতেও কিছু ধরা পড়েনি৷ শুধু তাই নয় রাজ্যে ভোট শেষ হয় ২৮ নভেম্বর৷ ভোট মিটলেই ইভিএম মেশিন সঙ্গে সঙ্গে স্ট্রংরুমে নিয়ে যাওয়া হয়৷ কিন্তু সাগর জেলায় ৪৮ ঘণ্টা পর ইভিএম মেশিন জমা পড়ে৷ অন্যদিকে সাতনা-খারগোনের স্ট্রংরুমের ভিতর বক্সে করে কিছু জিনিস নিয়ে যেতে দেখা গিয়েছে৷ এতগুলো ঘটনা কাকতালীয় হতে পারে না৷ এর পিছনে কোনও ষড়যন্ত্র কাজ করছে৷

কংগ্রেসের অভিযোগের তির বিজেপির দিকে৷ অভিযোগ, হারের ভয়ে বিজেপি ইভিএম মেশিনগুলিতে কারচুপি করেছে৷ যদিও অভিযোগ ফুৎকারে উড়িয়ে দিয়েছে গেরুয়া শিবির৷ রাজ্য বিজেপির সহ সভাপতি বিজেশ লুনাওয়াত জানান, হারের ভয়ে কংগ্রেস আগে থেকেই ইভিএম মেশিনে কারচুপির অভিযোগ তুলে চেঁচাতে থাকে৷ গণতন্ত্র ও সাংবিধানিক সংস্থার উপর তাদের ভরসা থাকা উচিত৷ অভিযোগ জানানোর আগে সিস্টেমকে জানা উচিত৷

এদিকে বিরোধী দলগুলিকে আশ্বস্ত করে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের তরফে ট্যুইট করা হয়৷ সেখানে বলা হয়েছে, সব ইভিএম মেশিন সুরক্ষিত৷ কোনও ইভিএম মেশিনে কারচুপি হয়নি৷ স্ট্রংরুমগুলির বাইরে আধা সেনা মোতায়েন করা আছে৷ রয়েছে পুলিশও৷ অব্যবহৃত ভিভিপ্যাট ও ইভিএম মেশিন আলাদা করে রাখা৷ আগামী ১১ ডিসেম্বর স্ট্রংরুমের দরজা খুলবে৷