প্রণবের ভারতরত্ন বিতর্কে দূরে থাকার কৌশল কংগ্রেসের

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: গতবছর আরএসএসের মঞ্চে যাওয়ার জন্য প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের সমালোচনা করেছিল বাংলার কংগ্রেস নেতারা৷ কিন্তু মোদী সরকার তাঁকে ভারতরত্ন দেওয়ায় খুশি তাঁরা৷ এই সম্মানের জন্য প্রদেশ নেতারা প্রণববাবুকে অভিনন্দন জানিয়েছেন৷

প্রদেশ কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা ওমপ্রকাশ মিশ্র বলেন, প্রণববাবুকে ভারতরত্ন দেওয়া নিয়ে আমাদের কারোর মনে কোনও বিরূপ প্রতিক্রিয়া নেই৷ প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী বলেন, “আমাদের সকলের জন্য এটা গর্বের ব্যাপার যে আমাদের খুব কাছের মানুষ প্রণব মুখোপাধ্যায় ভারতরত্ন পাচ্ছেন। তিনি দেশের সবচেয়ে বিশিষ্ট রাজনীতিবিদদের মধ্যে একজন।” প্রণব-কন্যা শর্মিষ্ঠা মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘পরিবারের কাছে অত্যন্ত গর্বের মুহূর্ত এটা।’

- Advertisement -

গত বছরের ৭ জুন নাগপুরে আরএসএসের এক অনুষ্ঠানে সঙ্ঘের সদর দফতরে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রণববাবুর উপস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। কংগ্রেস বিষয়টি নিয়ে দলীয় বিবৃতি না দিলেও, কিছু নেতার মন্তব্য স্পষ্ট করে দিয়েছিল, এতে মোটেই খুশি নয় হাইকমান্ড। এমনকি শর্মিষ্ঠা নিজেও এব্যাপারে সরব হয়েছিলেন৷

এবার ভারতরত্ন সম্মানের জন্য প্রণব মুখোপাধ্যায়ের নাম ঘোষণা হওয়ার পর অনেকে রাজনীতির ইঙ্গিত খুঁজতে শুরু করেছে। শুক্রবারই দিল্লির এক আপ নেতা প্রণববাবুর ‘ভারতরত্ন’ সম্মান পাওয়া নিয়ে টুইট করেন৷ তিনি লিখেছেন ‘সঙ্ঘের শাখায় এক বার যাও, আর রত্ন হয়ে যাও।’ এমনকি এক জেডিএস নেতা বলেন, ‘‘আরএসএসের সদর দফতরে সভায় যোগ দিয়ে এবং সঙ্ঘ প্রতিষ্ঠাতা হেগড়েওয়ারকে ভূমিপুত্র বলার জন্যই প্রণব মুখোপাধ্যায়কে ভারতরত্ন দেওয়া হল।’’আবার অনেকে বলছেন এটা ভোটের মুখে বাঙালি ভাবাবেগকে ছোঁয়ার বিজেপির রাজনৈতিক কৌশল৷ তবে যে যাই বলুক, কংগ্রেস এই বিতর্ক থেকে নিজেদের শত যোজন দূরে রেখেছে৷