কেষ্টর ঘাঁটিতে পুজো উদ্বোধনে হট ফেভারিট মুসলিম কং বিধায়ক

দেবযানী সরকার, কলকাতা: দুর্গাপুজোয় সম্প্রীতির নিদর্শন দেখাতে চলেছে এক ডজন পুজো কমিটি৷ রাজ্যের বিরোধী দলের এক সংখ্যালঘু বিধায়ককে দিয়ে পুজোর উদ্বোধন করাচ্ছে তারা৷ তাও আবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্নেহধন্য ভাই অনুব্রত মণ্ডলের গড়ে৷ শুক্রবার থেকে টানা পুজোর উদ্বোধন করবেন বীরভূম জেলার হাঁসন কেন্দ্রের বিধায়ক মিল্টন রশিদ৷

পুরোহিত ভাতার দাবিতে রাস্তায় নেমেছিলেন তিনি৷ একই দাবিতে বিধানসভাতেও সরব হয়েছেন৷ তাঁর মূল্য দিয়েছেন পুরোহিতরা৷ কয়েকদিন আগে পুরোহিত সম্মেলনের প্রধান অতিথি ছিলেন তিনি৷ এবার সংখ্যালঘু সেই বিধায়ককে প্যান্ডেলের ফিতে কাটার আমন্ত্রণ জানালো প্রায় ১২-১৪টি পুজো কমিটি৷ এই পুজোগুলির মধ্যে রয়েছে মাড়গ্রাম সার্বজনীন, নারায়ণপুর সার্বজনীন, শিকুলগ্রাম সার্বজনীন, তৈহার সার্বজনীন ইত্যাদি৷ শুক্রবার মাড়গ্রামের পুজো উদ্বোধন করার কথা তাঁর৷

- Advertisement -

মিল্টন রশিদ জানিয়েছেন, তিনি শুধু উদ্বোধনের আমন্ত্রণ এই ১২-১৪টা পুজোয় গিয়ে খান্ত হবেন না৷ ওর বিধানসভা কেন্দ্রে যতগুলো পুজো হয় সব পুজোতেই তিনি যাবেন৷ তিনি বলেন, আমার এলাকার ২১১টি পুজো হয়৷ ২১১টাতেই যাব৷ না ডাকলেও যাব৷ কারণ বিধায়ক হিসেবে সবার পাশে থাকাটা আমার কর্তব্য৷ প্রত্যেকটা পুজো মণ্ডপে দর্শনার্থীদের বসার জন্য আসনের ব্যবস্থাও তিনি করবেন বলে জানিয়েছেন৷

কিন্তু হঠাৎ দুর্গা পুজোর উদ্বোধনে সংখ্যালঘু নেতাকে ডাকার কারণ কী? সার্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটি, বাড়া জগৎপুর-এর সভাপতি অপূর্ব কুমার দত্ত বলেন, আমাদের বাড়া গ্রামে অধিকাংশ মানুষই সংখ্যালঘু৷ এখানকার ১৫ শতাংশ মানুষ হিন্দু৷ আমরাই দুর্গাপুজোর আয়োজন করি৷ কিন্তু তা বলে মুসলিমরা দুর্গাপুজোয় থাকে না, এমন নয়৷ তারাও পুজোর সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত থাকেন৷ আমাদের গ্রামে সম্প্রীতির আবহ রয়েছে৷ আমরা মনে করি, দুর্গাপুজো হিন্দুদের হলেও শারদোৎসব সব বাঙালির৷ তাই সংখ্যালঘু মানুষকে দিয়েই আমরা পুজোর উদ্বোধন করাব৷ আর উনি আমাদের বিধায়ক, আমাদের পাশে থাকেন৷ তাই ওনাকে বাদ দিয়ে আনন্দোৎসব আমরা করতেই পারব না৷

দুর্গা মণ্ডপে ফিতে কাটার আমন্ত্রণ পেয়ে ভীষণ খুশি মিল্টন রশিদ৷ তিনি বলেন,“ওরা আমাকে এত সম্মান দিয়েছেন তার জন্য আমি খুবই কৃতজ্ঞ৷ আমি মনে করি আমার এ জন্ম সার্থক৷”

Advertisement ---
---
-----