স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: রাহুল গান্ধীর হস্তক্ষেপে কেটেছিল বাম কংগ্রেস জোটের জট৷ কিন্তু সময় গড়াতেই বিধি বাম৷ আবারও জোট ঘিরে জট৷ অসম্মানিত হয়ে জোট করে ভোটে লড়ার কোনও কারণ নেই৷ হাত শিবিরের প্রদেশ নেতৃত্বের থেকে জোড়াল হচ্ছে ‘একলা লড়াই’য়ের দাবি৷

বুধবার রাতেই একপ্রস্থ বৈঠক হয়েছিল প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি ও সিপিএমের রাজ্য সম্পাদকের মধ্যে৷ বিষয় ছিল আসন রফা৷ কিন্তু বামেদের তরফে কংগ্রেসকে ছাডা় আসন নিয়েই মতপার্থক্য তৈরি হয়৷ ফ্রন্টের বড় শরিক সিপিএম কংগ্রেসের প্রতি কিছুটা সংবেদনশীল হলেও বেঁকে বসেছে শরিক দলগুলো৷ পুরুলিয়া, বারাসত, বসিরহাট, কোচবিহার সিপিআই ও ফরওয়ার্ড ব্লক কিছুতেই হাত শিবিরকে চাড়তে রাজি নয়৷ এতে শুরু ফের সমস্যার শুরু৷

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিধান ভবনে বসেছিল প্রদেশ কংগ্রেসের কার্য সমিতির বৈঠক৷ সেখানে বামেদের সঙ্গে আসন রফা নিয়ে আলোচনা হয়৷ অধিকাংশ সদস্যই বলেন, যেভাবে এগোচ্ছে তাতে বাংলায় অপমানিত হতে হচ্ছে দেশের প্রচীনতম দলটিকে৷ এইভাবে জোট অসম্ভব৷ জোট না বেঁধে লোকসভায় ‘একলা লড়াই’য়ের দাবি ওঠে এদিনের কার্য সমিতির বৈঠক থেকে৷ সেকথা চিঠি লিখে দলের সর্বভারতীয় সভাপতিকে জানানোর-ও সিদ্ধান্ত হয়েছে৷

আরও পড়ুন: ‘গুরু’ মুকুল’কে আবার লুচি খাওয়াবেন ‘শিষ্য’ সব্যসাচী

মেঘ কাটলেও রাজ্যে বাম কংগ্রেস জোট এখনও অথৈ জলে৷ এদিকে ভোট ঘোষণা হয়ে গিয়েছে৷ প্রথম পর্বে ভোট হবে রাজ্যের দু’টি আসন কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ারে৷ মনোনয়নের শুরু ১৮ই মার্চ থেকে৷ আগামী শনিবার রয়েছে প্রদেশ কংগ্রেসের নির্বাচন কমিটির বৈঠক৷ এদিনের বৈঠকে স্থির হয়েছে সিদ্ধান্ত জানাতে বামেদের আরও ২৪ ঘন্টা সময় দেওয়া হচ্ছে৷ আগামী ১৬ তারিখের মধ্যে হাত শিবিরের দাবি মেনে আসন না ছাড়লে একাই লড়তে চান বিধান ভবনের নেতারা৷

প্রদেশ কংগ্রেস ও বামেদের গত বৈঠকেই স্থির হয়েছে গতবারের ৪টি জয়ী আসন সহ লোকসভা ভোটে মোট ১১টি আসন ছাডা় হবে হাত শিবিরকে৷ যার মধ্যে রয়েছে, বারাসত, বসিরহাট, কোচবিহার৷ এই তিনটি আসনই ফ্রন্টের শরিক ফরওয়ার্ডব্লক ও সিপিআইয়ের৷ কিন্তু শরিকরা তাদের থেকে আসন ছাড়তে নারাজ কংগ্রেসকে৷ সিপিএমের পুরুলিয়া আসনটির দাবি জানিয়েছে সোমেন মিত্র, প্রদীপ ভট্টাচার্যরা৷ তাতেও গোল বেঁধেছে৷ ১১টির বাকি আসন দার্জিলিং, শ্রীরামপুর ও হাওড়া নিয়ে অবস্য কোনও জটিলতা নেই৷

তৃণমূলের প্রার্থী ঘোষণা হয়ে প্রচার শুরু হয়ে গিয়েছে৷ বিজেপিতে জোড়াফুলের সাংসদ, বিধায়করা যোগ দিচ্ছেন৷ সেই পথের পথিক কংগ্রেসের প্রাক্তন বিধায়ক, সিপিএমের বর্তমান বিধায়ক৷ উল্লসিত গেরুয়া বাহিনী৷ একদম উল্টো চিত্র বাম ও কংগ্রেসের৷ ফলে প্রদেশের নেতা কর্মীদের মধ্যেও মনোবলে ভাঙছে৷ এই অবস্থায় তাই আর দেরি না করে সম্মানজনক রফা, নয়তো একলা লড়াইয়ের কথা বিধানভবনের নেতাদের মুখে৷