বরাদ্দ বাড়েনি, বন্ধ সেতুর কাজকেই ঢাল করছে বিরোধীরা

স্টাফ রিপোর্টার, পুরুলিয়া: বাজারদর বদলেছে৷ জিনিসের দাম বেড়েছে৷ কিন্তু নতুন করে অর্থ বরাদ্দ হয়নি৷ তাই থমকে সেতুর কাজও৷ অথচ পুরুলিয়া-১ ব্লক ও আড়শার মধ্যে যোগস্থাপনকারী এই সেতুকে ঘিরে স্বপ্ন ছিল অনেক। এ সেতু হলে পর্যটনের প্রসার হত বলছেন এলাকার লোকজন৷ ভোটের ইস্যু হিসাবে এই সেতুর সমস্যাকেই তুলে ধরছেন এ এলাকার ভোটাররা৷

গত বিধানসভা ভোটের আগে এই সেতুর শিলান্যাস করেন রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন বিভাগের মন্ত্রী শান্তিরাম মাহাতো। সেতুর জন্য পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন পর্ষদের ৯ কোটি ২৪ লাখ টাকা বরাদ্দ হয়৷ স্থানীয়রা জানান, শিলান্যাসের পরে এই সেতুর কাজ খুব দ্রুত গতিতেই চলছিল।

আরও পড়ুন: বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তিন পঞ্চায়েত সমিতিতে তৃণমূল

কিন্তু সেতু নির্মাণের কাজের মধ্যেই দেখা যায় বরাদ্দকৃত অর্থ থেকে খরচ বেড়ে যাবে। তাই তিন কোটি টাকা বাড়তি খরচের জন্য গোটা বিষয়টি অর্থ দফতরে জানানো হয়। কিন্তু সেই বাড়তি অর্থের এখনও অনুমোদন মেলেনি। ফলে গত বছর জুন থেকে বন্ধ সেতুর কাজ৷ পঞ্চায়েত ভোটে বিরোধীরাও এই থমকে যাওয়া সেতুর কাজকেই ইস্যু করছে৷ মন্ত্রী শান্তিরাম মাহাতো অবশ্য বলছেন, ‘এই সেতুর প্রকল্প রিপোর্টে একটা ত্রুটি ছিল। খুব শীঘ্রই কাজ শুরু হবে।’

কংসাবতী নদীর উপর এই সেতু হলে আড়শার সঙ্গে পুরুলিয়া এক নম্বর ব্লকের দূরত্ব অনেকটাই কমবে৷ পাশাপাশি অযোধ্যা পাহাড়ের সঙ্গে শিল্পনগরী ধানবাদের দূরত্ব কমবে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার৷ কমবে বোকারোর সঙ্গে দূরত্বও৷ এলাকায় ব্যাপক পরিমানে সবজি চাষ হয়৷ সেতুটি তৈরি হলে অনায়াসে তা প্রতিবেশি রাজ্য ঝাড়খণ্ডে পাঠানো যাবে৷ অর্থাৎ এলাকার আর্থ সামাজিক উন্নতিটাও এই সেতুর সঙ্গে যুক্ত৷

আরও পড়ুন: ‘নিরাপত্তাবাহিনী ছাড়াই ভোট করতে চাইছে তৃণমূল’

বামুনডিহা গ্রামের বাসিন্দা কৃষ্ণপদ মাহাতো, জুরাডির শামু গোপ বলেন, ‘এই সেতুকে ঘিরে আমাদের অনেক স্বপ্ন ছিল। কিন্তু এভাবে মাঝপথে থমকে যাওয়ায় আমরা হতাশ। ভোটের বাজারে বারবার এটাই বলছি৷’ বর্ষায় কংসাবতীর মাতাল রূপ৷

 

নদীর জল ভেঙে যাতায়াত যে কতটা ঝুঁকিবহুল তা এলাকার লোকজনই জানেন৷ আড়শার বামুনডিহা, কাঞ্চনপুর, জুরাডির বাসিন্দাদের পুরুলিয়া-১ ব্লকে আসতে গোটা এলাকা ঘুরে ফেলতে হয়৷ এলাকার বাসিন্দারা বলছেন, ভোটের হাওয়ায় কোনওভাবে যদি সেতুটা হয়ে যায় তাহলে বড় নিশ্চিন্ত হওয়া যায়৷

আরও পড়ুন: নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা

----
-----