বন্ধের পথে কাঁথি সংস্কৃত কলেজ, নষ্ট হবে অমূল্য বইয়ের সম্ভার

শেখর দুবে: আটষট্টি বছর হয়ে গিয়েছে৷ বেড়েছে বয়স৷ কমেছে শক্তি ! তাই শেষের পথে যাত্রা ? এমনই কিছু ধরে নেওয়া যেতে পারে৷

১৯৫০ সালে কাঁথিতে স্থাপিত হয়েছিল পণ্ডিত দিবাকর বেদান্ত পঞ্চানন রাষ্ট্রীয় সংস্কৃত মহাবিদ্যালয়৷ এখন কলেজের একমাত্র শিক্ষক তথা ভারপ্রাপ্ত অধ্যাপক তুষারকান্তি পঞ্চ্যাধ্যায়ী৷ যিনি ২০১৮, নভেম্বরে সাধারণভাবেই চাকরি থেকে অবসর নেবেন। এরপরে কলেজটির ভবিষ্যৎ কী? তা নিয়ে চিন্তায় রয়েছেন ছাত্ররা এবং অবসর নিতে চলা শিক্ষকও৷ এমনটাই জানিয়েছেন অধ্যাপক৷

স্বাধীনতার পর পশ্চিমবঙ্গে তিনটি সংস্কৃত কলেজ স্থাপিত হয়৷ যার মধ্যে এখনকার পূর্ব মেদিনীপুর জেলার কাঁথিতে রয়েছে একটি৷ ন্যায়, বেদান্ত, সাংখ্যদর্শন এবং ব্যাকরণের মতো বিষয় পড়ানো হয় এই কলেজে৷ দীর্ঘ ৬৮ বছরে অনেক ছাত্র এখান থেকে পাশ করে পশ্চিমবঙ্গ সহ ভারতের একাধিক জায়গাতে শিক্ষকতার কাজ করেছেন৷

কলেজটির অবসর নিতে চলা অধ্যাপক তুষারকান্তিবাবু জানান, ‘‘আমি নভেম্বরে অবসর নিচ্ছি৷ কোনও নতুন নিয়োগ হয়নি৷ এমনকি কোনও শিক্ষাকর্মীও নেই এই কলেজে৷ চারজন ছিলেন, তারা অবসর নেওয়ার পর আর নতুন নিয়োগ হয়নি৷ আমার পর এই কলেজ বন্ধ হয়ে যাবে৷ এর আগেও বাকি দুটি কলেজের একই অবস্থা হয়েছে৷’’

পণ্ডিত দিবাকর বেদান্ত পঞ্চানন রাষ্ট্রীয় সংস্কৃত মহাবিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারে রয়েছে প্রচুর বই৷ যেগুলোর মধ্যেই অনেক বই দুঃষ্প্রাপ্য৷ আর্য সমাজ পত্রিকা,সাংখ্য,ন্যায় প্রভৃতি দর্শনের উপর বই রয়েছে কাঁথি সংস্কৃত কলেজের আলমারিতে৷ তুষারকান্তিবাবুর চিন্তা, তার অবসরের পর কলেজ উঠে গেলে এই মহামূল্যবান বইগুলি আস্তে আস্তে নষ্ট হয়ে যাবে৷

রাজ্য শিক্ষা দফতরের কাউকে এই বিষয়ে জানিয়েছেন? তুষারকান্তি পঞ্চ্যাধ্যায়ী বলেন, ‘‘ না, আমরা এখনও কাউকে জানাইনি৷ তবে কলেজটি যাতে উঠে না যায় এবং এলাকার আগ্রহী ছেলেরা এখানে পড়ার সুযোগ পান সে নিয়ে আমরা সম্মিলীতভাবে শিক্ষা দফতরে জানানোর কথা ভাবছি৷’’

----
-----