স্টাফ রিপোর্টার, হলদিয়া : বিতর্ক কাটছে না৷ হলদিয়ার অদূরে মাঝ সমুদ্রে বুধবার মাঝরাতে অগ্নিদগ্ধ জাহাজ নাবিকরা হলদিয়া ফিরলেও, কীভাবে ভেসেলটিতে আগুন লাগল, তা নিয়ে কেউই মুখ খুলতে চাইছেন না৷ এবিষয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছেন জাহাজের এজেন্সির লোকজনও।

জাহাজের কন্টেনারগুলিতে কী ধরণের পণ্য পরিবহণ করা হচ্ছিল,তা নিয়ে কোন তথ্য দিতে চাননি বন্দরের আধিকারিকরাও। তবে কোস্টগার্ড সূত্রে জানা গিয়েছে,টলুইন নামক একপ্রকার তরল পেট্রো- রাসায়নিক ছিল জাহাজের কন্টেনারে।

প্রসঙ্গত,অন্ধ্রপ্রদেশের বেসরকারি বন্দর কৃষ্ণপট্টনম থেকে কলকাতা যাওয়ার পথে সাগরের অদূরে বুধবার রাতে আগুন লাগে ৪৬৪টি কন্টেনার পণ্যবোঝাই ‘এসএসএল কলকাতা’ জাহাজে। ওইদিন রাত ১২টা নাগাদ অগ্নিদগ্ধ জাহাজের ২২জন নাবিককে উদ্ধার করে হলদিয়া নিয়ে আসে কোস্টগার্ডের উদ্ধারকারী জাহাজ ‘রাজকিরণ’।

মাঝ সমুদ্রে মৃত্যুর মুখ থেকে ফেরা নাবিক ও উদ্ধারকারী জওয়ানদের স্বাগত জানাতে হলদিয়া কোস্টগার্ডের জেটিতে সেইসময় অপেক্ষা করছিলেন ডিআইজি কমান্ডার এম এ ওয়ারসি সহ অন্যান্য আধিকারিকরা। কোস্টগার্ডের বিভিন্ন ভেসেলের ক্যাপ্টেন ও জওয়ানরাও জড়ো হয়েছিলেন ‘আনমোল’ জাহাজের ডেকের ওপর। খানিকক্ষণ পর রাজকিরণের ক্যাপ্টেন টি নামলিনের নেতৃত্বে জাহাজের কেবিন থেকে একে একে বেরিয়ে আসেন উদ্ধার হওয়া নাবিকরা। সবার শেষে ছিলেন অগ্নিদগ্ধ জাহাজের ক্যাপ্টেন।

মাটিতে পা রাখার পরই জাহাজের উদ্বিগ্ন নাবিকদের মুখে হাসি ফোটে এবং তাঁরা কোস্টগার্ডের নামে জয়ধ্বনি দেন। কোস্টগার্ড জেটিতে উদ্ধারকারী জাহাজের সামনে নাবিকদের নিয়ে ফটোও তোলেন কোস্টগার্ডের জওয়ানরা। তবে এইসময় সাংবাদিকরা নাবিকদের মুখোমুখি হতে চাইলে বাধা দেন জাহাজ এজেন্সির লোকজন। অগ্নিদগ্ধ জাহাজের ক্যাপ্টেনকে সাংবাদিকরা আগুন লাগার কারণ জিজ্ঞাসা করতেই তিনি রীতিমত উত্তেজিত হয়ে পড়েন।

ক্যাপ্টেন বলেন,পুরো একদিন আগুনের সঙ্গে লড়াই করে তাঁরা শারীরিক ও মানসিকভাবে বিধ্বস্ত। কেউই কথা বলার অবস্থায় নেই তাঁরা। এরপর তিনি ও এজেন্সির লোকজন সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন।

এমনকী ক্যাপ্টেন তাঁর নাম পর্যন্ত জানাতে চাননি। মাঝসমুদ্রে জাহাজে আগুনের হাত থেকে নাবিকদের বাঁচার অভিজ্ঞতার কথাও বলতে দেয়নি এজেন্সির লোকজন। জাহাজের এজেন্সির লোকজন যেভাবে ক্যাপ্টেন ও নাবিকদের কথা বলতে বাধা দিচ্ছিল,তাতে জাহাজে আগুন লাগার কারণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

কোস্টগার্ড সূত্রে জানা গিয়েছে, টলুইন নামের ওই রাসায়নিকটি প্রচন্ড দাহ্য হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন,টলুইন একটি বিপজ্জনক রাসায়নিক যা রঙ শিল্পে ব্যবহার করা হয়। এর ভেপার শরীরের পক্ষে ক্ষতিকর। কোস্টগার্ড জানিয়েছে, ১৪৭মিটার লম্বা ও ২৩ মিটার চওড়া ও ৯হাজার টন পণ্যবহন ক্ষমতাসম্পন্ন জাহাজটিতে ৪৬৪টি পণ্যবোঝাই কন্টেনার ছিল।

এই কন্টেনারগুলির সিংহভাগই পুড়ে গিয়েছে। জ্বলন্ত অবস্থাতেই সেটি বর্তমানে সমুদ্রে ভাসছে। তাকে ট্র্যাক করার জন্য শুক্রবারও ডর্নিয়ার টহল দিয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে,জাহাজটি কোনভাবে ডুবে গেলে ২১১টন জ্বালানি তেল ও বিপজ্জনক টলুইন সমুদ্রের জলে মিশে বড়সড় দূষণ ঘটাতে পারে। জাহাজটিকে উদ্ধারের জন্য সিঙ্গাপুর ভিত্তিক একটি সংস্থার সাহায্য নেওয়া হতে পারে।