মাইকেল জ্যাকসনকে নিয়ে তথ্যচিত্র ঘিরে বিতর্ক

ওয়াশিংটন: প্রায় দশ বছর আগে জনপ্রিয় পপ তারকা মাইকেল জ্যাকসনের মৃত্য হলেও তাঁকে ঘিরে ফের বিতর্ক দেখা দিয়েছে ৷ এবার এই বিতর্কের কারণ হল একটি তথ্যচিত্র৷ দুই পর্বের এই তথ্যচিত্রটি তৈরি করেছেন ড্যান রিড।

একসময় গোটা দুনিয়া মাত করেছিলেন জনপ্রিয় এই সঙ্গীত শিল্পী এবং এবার তাঁকে নিয়ে তৈরি হওয়া তথ্যচিত্র ‘লিভিং নেভারল্যান্ড’ এই মাসেই প্রথম প্রদর্শনী হওয়ার কথা সানড্যান্স চলচ্চিত্র উৎসবে। কিন্তু ছবিটি বিতর্ক দানা বেঁধেছে। কারণ এই তথ্যচিত্রটিতে দেখানো হয়েছে যে ‘মাইকেল জ্যাকসন শিশুদের যৌন নিপীড়ন করতেন।

এই তথ্যচিত্রে তার কাছে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন বলে দাবি করা এমন দুজনের সাক্ষাৎকার রয়েছে। ছবিতে ওই দুই জন পুরুষ দাবি করেছেন, তাদের বয়স যথাক্রমে যখন সাত ও দশ বছর তখন মাইকেল জ্যাকসন দ্বারা যৌন নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। বর্তমানে এরা দুজনেই এখন তিরিশের কোঠায়।

তবে তাঁর বিরুদ্ধে এমন শিশুদের যৌন নিপীড়নের অভিযোগ নতুন নয়। ওই ১৩ বছর বয়সী এক কিশোর জ্যাকসনের কাছে যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এমন অভিযোগের তদন্তের অংশ হিসেবে ২০০৩ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার পুলিশ একবার ‘নেভারল্যান্ড’ নামে পরিচিত তার খামারবাড়িতে তল্লাশিও চালিয়েছিল। এই খামারবাড়িটির নামেই তথ্যচিত্রটির নামকরণ হয়েছে।

তখন এইসব অভিযোগের জন্য মাইকেল জ্যাকসনকে বিচারের মুখোমুখি হতে হয়েছিলো। তবে ২০০৫ সালে তাকে এই অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয় আদালত। ‘লিভিং নেভারল্যান্ড’ তথ্যচিত্রে বর্ণনা করা হয়েছে যে, ‘জনপ্রিয়তাকে ঘিরে তাঁর যে ক্ষমতা তৈরি হয়েছিলো, তারকাদের ঘিরে শিশুদের মনে যে ধরনের চরম উন্মাদনা তৈরি হয়, মাইকেল জ্যাকসন সেটির অপব্যবহার করতেন, ছলচাতুরীর অবলম্বন করতেন।’

এদিকে মাইকেল জ্যাকসনের পরিবার এই তথ্যচিত্রের দাবিকে ‘কুরুচিপূর্ণ’ বলে উল্লেখ করেছে। তথ্যচিত্রটি দিয়ে মাইকেল নামটিকে অপব্যবহারের এক ‘জঘন্য চেষ্টা’ বলে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে। প্রসঙ্গত, ২০০৯ সালে জুন মাসের ২৫ তারিখ কয়েকটি ঔষধের অতিরিক্ত বা ভুল প্রয়োগে মাইকেল জ্যাকসনের মৃত্যু হয়েছিলো।

----