কলকাতা : প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিরোজিও অডিটোরিয়ামে ষষ্ঠ সমাবর্তনের অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল৷ কিন্তু ছাত্রদের বিক্ষোভের কারণে সেটি সম্ভব ছিল না৷ স্বাভাবিকভাবেই উপাচার্য অনুরাধা লোহিয়া জানিয়েছিলেন সমাবর্তন হবে, কিন্তু কোথায় হবে তা যথা সময়ে জানানো হবে৷ এর পরই বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানানো হয় মঙ্গলবার সকাল ১১টায় নন্দন-৩ এ হবে প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠান৷

তবে সমাবর্তন অনুষ্ঠানে ডিলিট এবং ডিএসি ডিগ্রি প্রাপকদেরই শংসাপত্র প্রদান করা সম্ভব হবে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে খবর৷ নন্দনে প্রেসিডেন্সির ষষ্ঠ সমাবর্তন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন না বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য৷ এবারের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়কে ডিলিট প্রদান করা হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সূত্রে খবর পাওয়া গিয়েছে৷

Advertisement

সোমবার সকাল থেকে ছাত্রছাত্রীরা আন্দোলন করে মেইনগেট সহ অন্যান্য গেট বন্ধ করে দেয়৷ উপাচার্য অনুরাধা লোহিয়া রেজিস্টার দেবজ্যোতি কোনার্ক সহ অন্য আধিকারিকদের ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি৷ সোমবার গভর্নিং বডির বৈঠক ছিল, যেটি করা সম্ভব হয়নি৷ এরপরই মঙ্গলবারের প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের ষষ্ঠতম সমাবর্তন অনুষ্ঠান নিয়ে উপাচার্য জানিয়েছিলেন, ‘‘গভর্নিং বডির মিটিং না হওয়ার জন্য ডিগ্রি রেডি করা সম্ভব হয়নি৷ ডিগ্রি রেডি না হলে কাউকে ডিগ্রি দেওয়া যাবে না৷”

মেডিক্যালের পর প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররা হোস্টেলের জন্য আন্দোলন করছে বেশ কিছুদিন ধরে। ছাত্রদের দাবি ২০১৫ সালে মেরামত করার কথা বলে ছাত্রদের সরানো হয় হিন্দু হোস্টেল থেকে। এরপর বারবার প্রতিশ্রুতি দিলেও আবাসিকদের হোস্টেল ফিরিয়ে দেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। প্রায় একমাস ধরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেই আন্দোলন করছেন ছাত্রছাত্রীরা।

আন্দোলনকারী এক ছাত্র এবং এসএফআইয়ের রাজ্য কমিটির সদস্য শুভজিৎ সরকার কলকাতা২৪x৭-কে বলেন, “২০১৫ সালে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আমাদের বলে ১১ মাস সময় দাও হোস্টেল মেরামত করার জন্য। এরপর হিন্দু হোস্টেলের আবাসিক ছাত্রদের রাজারহাটে একটি সরকারি বাড়িতে থাকার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়। ওখান থেকে প্রেসিডেন্সির দূরত্বও অনেকটা, প্রায় ২-৩ ঘণ্টার জার্নি করে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসতে হয়। ওখানে থাকারও পরিবেশ নেই। খাওয়ার প্রচুর অসুবিধা।”

শুভজিতের অভিযোগ ১১ মাস বলা হলেও ৩৬ মাস কেটে গিয়েও হোস্টেল ফেরৎ আসেনি। এরপর হোস্টেলের আবাসিক এবং তাদের মতো অনেক ছাত্রছাত্রীরা আন্দোলনে নামে। তখন কর্তৃপক্ষ বলে ৬ মাস দাও, আমরা ব্যবস্থা করে দিচ্ছি। আগস্টে সেই ৬ মাসও শেষ হয়ে যায়। এরপর বাধ্য হয়েই অাগস্টের ৩ তারিখ থেকে আবার আন্দোলন শুরু করে প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা৷

প্রেসিডেন্সির হিন্দু হোস্টেলের আবাসিক ছাত্ররা রাজারহাট থেকে চলে এসে বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজেদের হোস্টেলের বাইরে বারান্দায় থাকছেন বেশ কিছুদিন ধরে। কার্যত প্রেসিডেন্সি ক্যাম্পাসকেই হোস্টেল বানিয়ে ফেলেছেন আন্দোলনকারী ছাত্ররা।

----
--