স্টাফ রিপোর্টার, কোচবিহার: দিনহাটার গোসানিমারিতে মাটি খুঁড়ে প্রাপ্ত পুরনো সামগ্রী গোসানিমারিতেই রাখার দাবি করছেন এলাকাবাসীরা। তাদের অভিযোগ এর আগেও এই এলাকা থেকে অনেক প্রত্ন নিদর্শন উদ্ধার হয়েছিল৷ কিন্তু তা বাইরে নিয়ে গেছে আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া। তাই এই নিদর্শনগুলি যাতে বাইরে না নিয়ে যায়, এখানেই প্রদর্শিত করার দাবি করেছেন এলাকাবাসী থেকে স্থানীয় ইতিহাসবিদরা৷

সোমবার বিকেলে মাটির নীচ থেকে উদ্ধার হয়েছিল প্রত্ন নিদর্শন৷ এরপর মঙ্গলবার থেকে এলাকায় ভিড় জমাতে শুরু করেন সাধারণ মানুষ। সকলেই যথেষ্ট উৎসাহিত ছিল মাটির নিচ থেকে প্রাপ্ত এই সামগ্রীগুলি নিয়ে। রাতে উদ্ধার হওয়া বিভিন্ন পাথরের বাটি থালা ইত্যাদি গোসানিমারিতে আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার একটি ঘরে রেখে দেওয়া হয়েছে। সেখানেও মানুষ ভিড় করে দেখতে আসছেন এই নিদর্শনগুলি।

আরও পড়ুন : নবি দিবসে সাফাই অভিযান দুর্গা মন্দির চত্বরে

ইতিমধ্যেই প্রাপ্ত নিদর্শনগুলিকে আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। আপাতত নিদর্শনগুলি গোসানিমারিতে অবস্থিত আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার একটি ঘরেই রাখা হচ্ছে। এদিন গোসানিমারিতে যান কোচবিহারের সাংসদ পার্থ প্রতিম রায়৷ তিনি এলাকাটা ঘুরে দেখেন এবং স্থানীয় মানুষজনের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি জানান, গোসানিমারি রাজপাট খনন করা হলে এখান থেকে আরও অনেক প্রত্ন সামগ্রী বেরিয়ে আসবে৷ যা সমৃদ্ধ করবে কোচবিহারের ইতিহাসকে৷ তাই এই বিষয়ে তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করবেন৷ যাতে এই প্রাচীন জনপদে আবার খননকার্য শুরু করা হয়।

যে জমি থেকে এই সামগ্রীগুলি পাওয়া গিয়েছে তার মালিক যতীন বর্মণ৷ তিনি বলেন, ‘আমরা চাইছি এই নিদর্শনগুলি গোসানিমারিতেই থাকুক৷ কারণ এর আগেও অনেক নিদর্শন এখান থেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে৷ তা তার ফিরে আসেনি।’ এলাকার বাসিন্দা পরিমল বর্মন বলেন, ‘এই নিদর্শনগুলি এখানে রাখা হলে গোসানিমারিতে পর্যটকদের আনাগোনা বৃদ্ধি পাবে৷ ফলে সামগ্রিকভাবে এলাকার অর্থনীতি উন্নতি হবে৷ তাই আমরা চাই এই নিদর্শনগুলি এখানে সংগ্রহশালা করে রাখা হোক।’

গোসানিমারি এই এলাকা এক সময় কামতাপুর রাজ্যের অংশ ছিল৷ কিছু কিছু ঐতিহাসিক মনে করেন পঞ্চদশ শতকে এই গোসানিমারিতে রাজত্ব করত খেন বংশ৷ কালক্রমে খেন বংশের পতন ঘটে৷ এরপরই এই এলাকায় কোচ রাজাদের রাজত্ব শুরু হয়। গোসানিমারি এই এলাকাটি কামতাপুর রাজ্যের রাজধানী ছিল বলে মনে করা হয়।

কয়েক বছর আগে আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া গোসানিমারিতে অবস্থিত রাজপাট এলাকায় খনন কার্য চালায়৷ সেখানে তারা ইটের তৈরি দেয়াল, কুয়ো, পাথরের প্রতিমা ইত্যাদি পান। তারপর থেকেই এখানে খননকার্য বন্ধ করে দেয় আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া। সেই খননকার্য ফের চালুর দাবি উঠেছে এই ঘটনার পর থেকে। স্থানীয় ইতিহাসবিদদের মতে সঠিকভাবে খনন হলে কোচবিহারের আরও অনেক অজানা ইতিহাস সকলের সামনে আসতে পারে।

----
--