মৎস্য দফতর ও ব্যবসায়ীদের দ্বন্দ্বে হারিয়ে যাচ্ছে কোচবিহারের চন্দন দিঘি

ফাইল চিত্র৷

স্টাফ রিপোর্টার, কোচবিহার: রাজ আমলে কোচবিহার-বাসীর সুবিধার জন্য শহরে রাজারা খনন করিয়েছিল বেশ কিছু দিঘী। কিন্তু কালের নিয়মে অনেক দিঘিই এখন অস্তিত্বহীন। বর্তমানে হাতে গোনা কিছু দিঘির অস্তিত্ব এখনও বর্তমান। তেমনি চন্দন দিঘি। এমজেএন হাসপাতালের কাছে প্রায় আড়াই একর এলাকাজুড়ে এই দিঘি এখন অস্তিত্বের সংকটে। কচুরিপানায় ভরে গিয়েছে এই দিঘি। দিঘির দুই দিকেই অবৈধ দখলের অভিযোগ উঠছে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে। মৎস্য দফতরকে এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তাঁদের অসহায়তার কথা বলছে। তাঁদের দাবি দীর্ঘদিন থেকে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা চললেও কাজ কিছুই হয়নি।

আরও পড়ুন: ‘পাকিস্তান সন্ত্রাস বন্ধ করলে ভারতও নীরজ চোপড়া হবে’

যদিও ব্যবসায়ীদের দাবি এই বিষয় দেখার দায়িত্ব মৎস্য দফতরের৷ ব্যবসায়ীদের স্বার্থ সুরক্ষিত করে এই দিঘি সংস্কার হলে তাঁদের আপত্তি নেই। তাই আপাতত প্রশাসন ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে চাপানোতরে হারিয়ে যেতে বসেছে কোচবিহারের প্রায় ২০০ বছরের পুরনো এই দিঘি।

সরকারি উদাসীনতায় হারিয়ে গিয়েছে কোচবিহার শহরের রাজ আমলের অনেক দিঘিই৷ এখন হারিয়ে যেতে বসেছে চন্দন দিঘিও। বেআইনিভাবে দিঘীর দখলের ফলে অস্তিত্বের সংকটে প্রায় ২০০ বছরের পুরনো এই দিঘি। পরিবেশ প্রেমীদের মতে এখনই সংস্কার না হলে হারিয়ে যাবে এই দিঘি। এখন দিঘি জুরে কচুরিপানা, কোথাও কোথাও দিঘির পাড়ে ব্যবসায়ীরা তাঁদের দোকান অবৈধভাবে তৈরি করছে। দেখেও দেখছে না প্রশাসন। দিঘি সংস্কারে নিজেদের অসহায়তার কথাই জানিয়েছে মৎস্য দফতর।

আরও পড়ুন: নারী নয়, আমার জীবনের প্রথম প্রেম পুরুষ: বিস্ফোরক সুমন

জেলা মৎস্য দফতরের আধিকারিক আলোক প্রহরাজ বলেন, ‘‘দিঘিটি দখল হয়েছে আমাদের নজরে এসেছে৷ এই বিষয়ে ব্যবসায়ীদের কাছে আমরা জানতে চেয়ে ছিয়েছিলাম৷ জবর দখলকারী ব্যবসায়ীদের তালিকাও চেয়েছিলাম৷ কিন্তু এখনও সেই তালিকা পাওয়া যায়নি৷ আমাদের আধিকারিকরা সেখানে পর্যবেক্ষণ করতে গেলেও তাঁদের কোন সাহায্য করেনি ব্যবসায়ীরা৷ কোচবিহারের সাধারণ মানুষ যদি দিঘিটি রক্ষা করতে না এগিয়ে আসেন৷ তবে আমাদের একার পক্ষে এই কাজ করা সম্ভব নয়৷’’

এদিকে ব্যবসায়ী সমিতি পুরো দায় মৎস দফতরের উপরেই দিয়েছেন৷ জেলা ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি নারায়ণ মোদক জানান, কোথায় জমি দখল হল৷ এটা দেখার দায় মৎস্য দফতরের। তাদের দাবি শুধু চন্দন দিঘিই নয়৷ আধিকারিকদের নাকের ডগায় অনেক দিঘিই দখল হয়ে যাচ্ছে। আধিকারিকরা চুপ থাকছে। ব্যবসায়ীদের স্বার্থ সুরক্ষিত রেখে দিঘির সংস্কার হলে তাঁদের কোন আপত্তি নেই।

আরও পড়ুন: ‘স্বাধীন দেশে স্বাধীন আমরা’: অশোক রাও কবি

 

Advertisement
----
-----