ধর্মের বিভেদে সম্পন্ন হল না শেষকৃত্য! পুলিশের হস্তক্ষেপে উদ্ধার মৃতদেহ

স্টাফ রিপোর্টার, পূর্ব বর্ধমান: ধর্মের ভেদাভেদে আটকে রইল মৃতদেহ!

হিন্দু না মুসলিম৷ কি তার পরিচয়? সেই কারণে আটকে রইল সৎকারের কাজ৷ মঙ্গলবার রাত থেকে বদ্ধ ঘরেই পড়ে রইল ভবানী সেখের নিথর ঠাণ্ডা দেহ৷ ঘটনাটি ঘটেছে বর্ধমানে৷ বুধবার রাতে বর্ধমান থানার পুলিশ এসে মৃতদেহ উদ্ধার করে৷ এরপর বর্ধমান হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন ভবানী সেখকে৷

স্থানীয় বাসিন্দাদের থেকে জানা যাচ্ছে, গত ২৪বছর ধরে বর্ধমানের বীজ নিগম অফিসে অস্থায়ী ঝাড়ুদার হিসাবে কাজ করতেন ভবানী শেখ৷ পরিবার পরিজন বলতে কেউই ছিলেন না ওই মহিলার৷ বীজ নিগমের নিরাপত্তারক্ষীদের জন্য বেশ কিছু ঘর থাকে৷ সেগুলির মধ্যেই একটি ঘরে এক মহিলার সঙ্গে থাকতেন তিনি৷ গত মঙ্গলবার আচমকাই মৃত্যু হয় তার৷ এরপরই শুরু হয় বিবাদ৷ মৃতদের সৎকার কিভাবে করা হবে সেই নিয়ে শুরু হয় টানাপোড়েন৷ তাই দু’দিন ধরে একইভাবে পড়ে থাকে বৃদ্ধার মৃতদেহ৷

- Advertisement -

পুলিশ সূত্রে জানা যাচ্ছে, ভাতারের মুরাতিপুর এলাকার বাসিন্দা গিয়াসুদ্দিন সেখের সঙ্গে বিয়ে হয় ভবানী সেখের। কিন্তু কিছুদিন পরই এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান গিয়াসুদ্দিন৷ কিন্তু এরপর থেকে বর্ধমানেই থেকে যান ওই মহিলা৷ রুটি রুজির তাগিদে ঝাড়ুদারের কাজ শুরু করেন ওই বৃদ্ধা৷ সবকিছু ঠিক ঠাকই চলছিল৷ কিন্তু বৃদ্ধার মৃত্যুর পরই প্রকাশ্যে আসে ধর্মের বিভেদ৷

স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গিয়েছে, বিয়ের আগে হিন্দু ছিলেন ভবানী৷ কিন্তু এরপর গিয়াসুদ্দিন সেখকে বিয়ে করেন তিনি৷ এই কারণে বৃদ্ধা ভবানী সেখের মৃত্যুর পরে কিভাবে সৎকার করা হবে সেই নিয়ে দু’পক্ষই যুক্তি খাঁড়া করেছে৷ মুসলিমদের যুক্তি, যেহেতু তিনি বিয়ের আগে হিন্দু ছিলেন তাই তাঁরা সত্কার করতে পারবেন না। অপরদিকে, হিন্দুরা বলেছেন, যেহেতু তিনি মুসলিম ছিলেন তাই তাঁরাও সত্কার করতে পারবেন না। শেষ পর্যন্ত পুলিশ এসে মৃতদেহকে উদ্ধার করে নিয়ে যায় হাসপাতালে।

Advertisement
---