শ্রীনগর: কখনও পাথর ছোঁড়া, কখনও আবার বিচ্ছিন্নতাবাদীদের ডাকা বনধ। ভারতের ভূস্বর্গে যেন সবসময় এক অদ্ভুত শীতলতা। উদয়াস্ত সেই আতঙ্ক সামলাতে রাস্তায় নামতে হয় পুলিশকে। ঘর-পরিবার-সন্তান ভুলে সারাদিন শুধু কাজ। সন্ত্রাস সামলাতে গেলে তার মুখোমুখি তো হত হবেই! তাই মৃত্যুভয়কে ছেড়ে আসতে হয় আগেই। তবে কেমন থাকে তাঁদের পরিবার? অন্তহীন দিনগোনা আর মিথ্যা প্রতিশ্রুতি- এসবই বেঁচে থাকার রসদ। স্বামীর সঙ্গে স্বপ্নের সংসার বাঁধাটাই স্বপ্ন হয়ে যায় স্ত্রী’দের কাছে। কঠিন সেই যাপনের গল্পই সামনে আনলেন এক পুলিশকর্মীর স্ত্রী।

কাশ্মীরের পুলিশকর্মীর স্ত্রী আরিফা তৌসিফ লিখেছেন, কীভাবে ‘সিঙ্গল মাদারে’র মত বড় করে তুলতে হয় ছেলেমেয়েকে। পাশে থাকে না কেউ। আর স্বামীর সঙ্গে সুখের সংসার! সে তো অনেক দূরের স্বপ্ন। রাতের খাবারটা একসঙ্গে বসে খাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হয় দিনের পর দিন।

স্থানীয় এক নিউজ ওয়েবসাইটে আরিফা লিখেছে, ”বিয়ে হোক বা শ্রাদ্ধ (আল্লা না করুক), পারিবারিক একটা অনুষ্ঠানের জন্য অপেক্ষা করে বসে থাকি। একদিন বাইরে ঘুরতে যাওয়ার জন্য দিন গুনি। আমরা শুধু সিঙ্গল মাদার নই, এক একজন মিথ্যেবাদীও বটে।” দিনের পর দিন তাঁরা সন্তানদের বলেন, সপ্তাহের শেষে বাবা ঠিক বাড়ি ফিরবে কিংবা ইদের দিন ঠিক আসবে। শুধু সন্তান নয়, বৃদ্ধ বাবা-মা’কেও মিথ্যা কথা বলতে হয় একজন পুলিশের স্ত্রী’কে।

আরিফার কথায়, ”রাতে একা ঘুমোনোটা খুব একটা কষ্টের নয়। তবে, মাঝরাতে দুঃস্বপ্নে জেগে গেলে যখন পাশে কেউ থাকে, সেটা কষ্টের।” শুধুই অপেক্ষা আর অপেক্ষা। যদিও স্বামী বাড়ি ফেরে, সেটাও শুধুই শারীরিকভাবে। মন পড়ে থাকে ডিউটিতে।

আর দিনের পর দিন নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে বলেও জানিয়েছেন আরিফা। একজন পুলিশের মৃত্যুও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে পরিবারের।

আরিফা জানিয়েছেন, কীভাবে কাশ্মীরি যুবকেরা কর্মসংস্থানের অন্য উপায় না দেখে পুলিশের চাকরিই বেছে নেয় শেষমেশ। শুধু উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠাই নয়, সমস্যা আছে আরও। স্থানীয়দের বিক্ষোভের বিরুদ্ধে পুলিশ ব্যবস্থা নিলে হেনস্থার মুখে পড়তে হয় সেই পুলিশের পরিবারকে। কারও চোখে একটা রবার বুলেট লাগলেও আঙুল ওঠে সেখানকার বাসিন্দা পুলিশের পরিবারের দিকে। আর ওই পুলিশকর্মীর যদি কিছু হয়ে যায়, সান্ত্বনা দিতেও আসে না বিশেষ কেউ।

সব শেষে আরিফার আশা, ”অন্ধকার একদিন কাটবেই। এক শান্তির ভোর আসবে কাশ্মীরেও।”

----
--