সোয়েতা ভট্টাচার্য, কলকাতা: আমাদের শহরে কত ঐতিহাসিক নিদর্শন রয়েছে তা হয়ত আত্মবিস্মৃত বাঙালিরা মনেও রাখেননা৷ শতাব্দি প্রাচীন এমন কিছু নিদর্শন রয়েছে যেগুলি ইউনেসকো পরিচালিত আন্তর্জাতিক ঐতিহ্য় কমিটির পক্ষ থেকে হেরিটেজের তকমা পেয়েছে৷

সেই ঐতিহাসিক নিদর্শনের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব আমাদেরই, একথা এবার বোঝাতে চলেছে সংশোধনাগারের আবাসিকরা ৷ অভিনব কায়দায় এই বার্তা জেলের বন্দিরা দেবে শহরবাসীকে৷ শুধু তাই নয় এই প্রথম কলকাতার ইন্ডিয়ান মিউজিয়ামে তাদের হাতে আঁকা ছবির প্রদর্শনীর মাধ্যমে এই বার্তা দেবে বন্দিরা৷

আরও পড়ুন: বসেরা না থাকায় কঠিন কেসে বিপাকে সিবিআই অফিসাররা

আগামী ১৯ নভেম্বর বিশ্বজুড়ে পালিত হবে ”ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ উইক”৷ আর এই দিনটিকেই বেছে নিয়েছেন এই প্রদর্শনীর উদ্যোক্তা ”রক্ষক ফাউন্ডেশন”৷ এই প্রদর্শনীতে মোট ৩০টি ক্যানভাস জায়গা পাবে৷ সংশোধনাগারের বন্দিদের আঁকা এই প্রত্যেকটি ছবির মধ্যে থাকবে তিলোত্তমার ঐতিহ্য়৷ শহরের ঐতিহাসিক নিদর্শনকে থিম করেই আঁকা হচ্ছে এই ছবিগুলি৷

শহরের সংশোধনাগারের মোট ১৪ জন আবাসিক এই ছবিগুলি আঁকছেন৷ তাদের মধ্যে মহিলার সংখ্যাই বেশি বলে জানা গিয়েছে৷ এই ১৪ জনের মধ্যে ৪ জন পুরুষ ও ১০ জন মহিলা আবাসিক রয়েছে৷ এই মহিলাদের সন্তানদের কোলে নিয়েও কয়েক জন মহিলা এখন ব্যস্ত ছবিগুলি আঁকতে৷

আরও পড়ুন: চিনের চলচ্চিত্র উৎসবে শ্রেষ্ঠ বিদেশি অভিনেতা অজয় দেবগণ

রক্ষক ফাউন্ডেশনের ম্যানেজিং ট্রাস্টি চৈতালি দাস বলেন , ” কলকাতার ঐতিহাসিক নিদর্শন গুনে শেষ করা যায় না৷ এই ঐতিহাসিক নিদর্শন আমাদের গর্ব৷ এইগুলি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব আমাদের৷ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অনেক ঐতিহাসিক নিদর্শন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে৷ আমরা সবাই যদি দায়িত্ব নিয়ে এগিয়ে আসি তাহলে শহরটা আরও অনেক সুন্দর হয় উঠবে৷ ঠিক এই বার্তাই সংশোধনাগারের আবাসিকরা শহরবাসীদের এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে দিতে চলেছে”৷

তিনি আরও বলেন, ” আর্টের থেকে সুন্দর আর কি হতে পারে! শিল্পের মধ্যে কোনও ভেদাভেদ হয়না৷ সেই কারণেই এই বার্তা মানুষ কে দিতে এই আর্টকে হাতিয়ার করেছে বন্দিরা৷ আগামি ১৯নভেম্বর থেকে এক সপ্তাহ পালিত হবে ‘ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ উইক’৷ আর এই সপ্তাহের প্রথম দিনটিতেই আয়োজিত হতে চলেছে এই অভিনব প্রদর্শনী ”৷

আরও পড়ুন: পেট থেকে বেরোল মঙ্গলসূত্র চুড়ি ও পেরেক

কারা দফতর বিভিন্ন সময় সংশোধনাগারের আবাসিকদের স্বাবলম্বী করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে৷ গত বছর রক্ষক ফাউন্ডেশন নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা কারা দফতরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে আবাসিকদের স্বাবলম্বী করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে থাকে৷

রক্ষক ফাউন্ডেশনের ম্যানেজিং ট্রাস্টি চৈতালি দাস বলেন , ” এই প্রদর্শনী দেখে আমরা আশাবাদী শহরবাসী মুদ্ধ হবেনই৷ এবং এই ছবিগুলির মাধ্যমে বন্দিরা যে বার্তা দিতে চেয়েছেন তা সফল হবে বলে আবাসিকরা বা সংশোধনাগারের এই শিল্পীরা আশা করছেন৷

আরও পড়ুন: দলীয় বৈঠকে ভোল পালটে মৌসমের গলায় তৃণমূল বিরোধিতার সুর

এখন তারা আর জেলের বন্দি নন, তাদের এখন বলা হয় সংশোধনাগারের আবাসিক৷ আর শুধুমাত্র নামের পরিবর্তন নয়৷ মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনতে তাদের পাশে এখন জেল কর্তৃপক্ষ থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা এগিয়ে আসছে৷

জেলের এক আধিকারিক জানান, ”এই ভাবেই যদি সংশোধনাগারের আবাসিকদের পাশে দাঁড়ানো যায়, তাহলে তাদের মূল স্রোতে ফিরতে পারবেন এই আবাসিকরা৷ এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হল ভবিষ্যতে সংশোধনাগার থেকে ছাড়া পাওয়ার পর বন্দিরা যাতে নিজেদের পরিবারকে আর্থিক সাহায্য করতে পারেন এবং পরিস্থিতির চাপে যাতে আবার ভুল পথ বেছে না নেন”৷

আরও পড়ুন: ক্ষমতাশালীরা নেহরুকে অবজ্ঞা করলেও গণতন্ত্রের স্বার্থে তাঁকে মর্যাদা দেবই : সোনিয়া

--
----
--