পূর্ত দফতরের এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ারের বিরুদ্ধে দূর্নীতির পাহাড় প্রমাণ অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার, নদিয়া: মন্ত্রীর দফতরে জমা পরল PWD র এক এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ারের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়৷ নদিয়ার পাবলিক ওয়ার্কস ডিপার্টমেন্টের ইলেকট্রিক ডিভিশনের এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার অমিত দাসের বিরুদ্ধে দূর্নীতির লিখিত অভিযোগ জমা পরল পূর্ত দফতরের চিফ ইঞ্জিনিয়ার, রাজ্যের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারী ও PWD মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের কাছে৷ রীতিমতো তথ্য প্রমাণ সহ অভিযোগের চিঠি পাওয়ার পর শোরগোল পরে গেছে রাজ্যের পূর্ত দফতরে৷

২২ টি বেআইনী কাজের তালিকা সহ নদিয়ার পাবলিক ওয়ার্কস ডিপার্টমেন্টের ইলেকট্রিক ডিভিশনের এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার অমিত দাসের বিরুদ্ধে দূর্নীতির লিখিত অভিযোগ জমা পরল চিফ ইঞ্জিনিয়ার, প্রিন্সিপাল সেক্রেটারী ও PWD মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের কাছে৷ নদিয়ার কোথায় কোথায় ইলেকট্রিক বিভাগে বেআইনী কাজ হয়েছে তা বিস্তারিত রয়েছে দুপাতার অভিযোগ পত্রটিতে৷

চিঠিতে দেখা যাচ্ছে, পূর্ত দফতরের চিফ ইঞ্জিনিয়ার ইলেকট্রিক্যাল কল্যাণ কুমার চৌধুরীকে দুপাতার অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন আইনজীবি সলিল ঘোষ৷ এই অভিযোগ পত্রে নদিয়ায় পূর্ত দফতরের ২২ টি কাজে জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে৷ বিভিন্ন হাসপাতাল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজে দূর্নীতি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে৷ টেন্ডার প্রক্রিয়াতে দূর্নীতি করে লক্ষ লক্ষ টাকা বেআইনী ভাবে রোজগার করা হয়েছে বলেই অভিযোগ রয়েছে ওই চিঠিতে৷ এই সমস্ত দূর্নীতির জন্য দায়ী করা হয়েছে নদীয়ার ইলেকট্রিক্যাল বিভাগের এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার অমিত দাসকে৷ চিঠির কপি পাঠান হয়েছে দফতরের সচিব ও বিভাগীয় মন্ত্রীর দফতরেও৷

কল্যাণীর জি এম হাসপাতাল, নেতাজী ওপেন ইউনিভারসিটি,নবদ্বীপ আদালত, টিবি হাসপাতাল কল্যাণী, নবদ্বীপ হাসপাতাল, চাকদা হাসপাতাল, তেহট্ট জেল, রাণাঘাট জেল, এমনকি দূর্নীতির অভিযোগ রয়েছে নদিয়ার জেলাশাসক দফতর ও জেলাশাসকের বাড়ির কাজেও৷ প্রায় কোটি টাকার উপর দূর্নীতির অভিযোগে উত্তাল রাজ্যের পূর্ত দফতর৷ এত বড় অভিযোগের কথা দফতরের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের কানেও গিয়েছে৷

পূর্ত দফতর সূত্রে খবর, অভিযোগপত্রের বেশ কিছু অংশে সারবত্তা রয়েছে৷ বিশেষ করে বিনা টেন্ডারে যেভাবে কাজ করানো হয়েছে ও সেই কাজগুলি আবার নতুন করে করার অর্ডার করে করানো হয়েছে তা একেবারেই অনৈতিক৷ যদিও এই নিয়ে মুখ খুলতে চান নি কেউই৷ অভিযোগকারী আইনজীবি সলিল ঘোষ জানিয়েছেন, ‘সব অভিযোগই সত্যি, পূর্ত দফতর নিজস্ব তদন্ত করে দেখুক, অভিযোগ সত্যি কি না’৷ অভিযুক্ত অমিত দাসকে ফোনে যোগাযোগ করা যায় নি৷

পূর্ত দফতরের তরফ থেকে এই অভিযোগপত্র নিয়ে কোন তদন্ত করা হয় কিনা সেটাই প্রশ্ন৷ পূর্তমন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস নিজে উদ্যোগ নিয়ে কোন তদন্তের নির্দেশ দেন কিনা তার জন্যও তাকিয়ে আছেন অভিযোগকারী৷ তবে যেভাবে অভিযোগকারী ২২ টি প্রজেক্টে দূর্নীতির স্বপক্ষে বিস্তারিত তথ্যপ্রমাণ দিয়েছেন তাতে ঘুম ছুটেছে পূর্ত দফতরের সব অফিসারদের৷ কোটি টাকার কেলেঙ্কারীর তদন্ত হয় কিনা সেটাই এখন দেখার৷

----
-----