প্রশ্ন ‘ফাঁস’: নজরদারি বৃদ্ধি, শৌচাগারে যাওয়ার সময় দিতে হবে পরীক্ষা

প্রতীকী ছবি

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রথম দিনেই প্রশ্নপত্র হোয়াটসঅ্যাপে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় সংসদের আঙুল উঠল পরীক্ষার্থীদের দিকেই৷ তবে, এ দিনের ঘটনার জেরে, নজরদারি ব্যবস্থা আরও জোরদার করার কথা বলেছেন উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতি৷

সোমবার উচ্চ মাধ্যমিকে প্রথম ভাষার পরীক্ষা চলাকালীন হোয়াটসঅ্যাপে ছড়িয়ে পড়ে প্রশ্নপত্র৷ পরীক্ষার শেষে দেখা যায়, এই বছরের প্রশ্নপত্রের সঙ্গে হুবহু মিল রয়েছে ছড়িয়ে পড়া ওই প্রশ্নপত্রের সঙ্গে৷ এমনকী এ দিন প্রশ্নপত্রের দ্বিতীয় ভাগটিও ছড়িয়ে পড়ে হোয়াটসঅ্যাপে৷ যা পরীক্ষাকেন্দ্রের বাইরে নিয়ে আসার অনুমতি নেই পরীক্ষার্থীদের৷

প্রশ্ন ‘ফাঁসে’র এই ঘটনাটি সামনে আসার পরই চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন মহলে৷ সংসদের নজরদারি ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে৷ কারণ, পরীক্ষার আগেই সংসদের তরফে জোরদার নজরদারি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছিল৷ তার জন্য এই বছরই প্রথম নিয়োগ করা হয়েছিল বিশেষ পর্যবেক্ষকদের৷ কোনও পরীক্ষার্থী যাতে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে না পারে, তা দেখার জন্য দু’জন ইনভিজিলেটরের সঙ্গে ছিলেন স্পেশাল ইনভিজিলেটর৷ তারপরও কী করে নজরদারির ফাঁক গলে পরীক্ষা চলাকালীন হোয়াটসঅ্যাপে ছড়িয়ে পড়ল প্রশ্নপত্র, সেই বিষয়ে খোদ শিক্ষা মহলের বিভিন্ন অংশেও প্রশ্ন উঠছে৷

- Advertisement -

এই বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি প্রথমে কোনও মন্তব্য করতে চাননি৷ পরে মন্ত্রী বলেন, ‘‘যদি এটা হয়ে থাকে তা হলে যাঁর দেখার কথা, তাঁরা দেখবেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন৷’’ কে বা কারা এই কাজটি করল, এই বিষয়ে জানাতে গিয়ে সংসদের সভাপতি মহুয়া দাস বলেন, ‘‘আমার কাছে ১২টা নাগাদ খবর আসে৷ সংসদের নিয়ম অনুযায়ী এক ঘণ্টা আগে কাউকে টয়লেটে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয় না৷ এক বা দেড় ঘণ্টা পরে কোনও ছাত্র বা ছাত্রী টয়লেটে গিয়ে এই কাণ্ড ঘটিয়েছে বলে আমি মনে করছি৷’’

তবে, বেনজির নজরদারি ব্যবস্থা সত্ত্বেও কী করে প্রথম পরীক্ষার দিনেই প্রশ্নপত্র ‘ফাঁস’ হয়ে গেল? বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠছে, তা হলে কি নজরদারিতে কোনও ফাঁক রয়ে গিয়েছে? এই বিষয়টি কার্যত স্বীকারও করে নিয়েছেন এ দিন সংসদের সভাপতি৷ তিনি বলেন, ‘‘আমাদের আরও কড়া নজরদারির ব্যবস্থা করতে হবে৷’’ কড়া নজরদারির জন্য কী পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে? তিনি বলেন, ‘‘এটা পরিষ্কার যে, কেউ বা কারা শৌচাগারে গিয়েই প্রশ্নপত্র হোয়াটসঅ্যাপে ছড়িয়ে দিয়েছে৷ তাই শৌচাগারে যাওয়ার সময় চেকিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে৷’’

কিন্তু, পরীক্ষা চলাকালীন প্রশ্নপত্র ‘ফাঁসে’র বিষয়টিকে বেশি গুরুত্ব দিতে নারাজ পর্ষদের সভাপতি৷ তাঁর বক্তব্য, ‘‘যাঁরা পরীক্ষা ব্যবস্থাকে বিকৃত করার চেষ্টা করছেন, তাঁদের উদ্দেশ্যে বলছি, প্রশ্নপত্রের একটা সেট নয়৷ চারটির বেশি সেট রয়েছে৷ সুতরাং, যে প্রশ্নটা বাইরে বেরিয়েছে, সেটা থেকে উত্তর পাওয়া বা তার ভিত্তিতে কোনও ছাত্র-ছাত্রীকে উত্তর বলে দেওয়া সম্ভব নয়৷ প্রত্যেকের কাছে পৃথক পৃথক প্রশ্নের সেট থাকে৷ তার সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপের প্রশ্নপত্র মিলবে তার কোনও নিশ্চয়তা নেই৷’’

তবে গোটা ঘটনাটিকে গুরুত্ব না দিলেও, বিষয়টিকে চক্রান্ত বলেই দাবি করছেন তিনি৷ তিনি বলেন, ‘‘কিছু স্বার্থাণ্বেষী মানুষ শুধু পরীক্ষা ব্যবস্থাটাকে একটা প্রশ্ন চিহ্নের মুখে তোলার উদ্দেশ্যে এটা করছেন৷ কিন্তু তাঁদের স্বার্থসিদ্ধি হবে না৷’’ অন্যদিকে, এই ঘটনার পিছনে কোনও শিক্ষকের হাত নেই বলেই মনে করছেন তিনি৷ তিনি বলেন, ‘‘এই ধরনের কাজ করার মতো শিক্ষকরা বোকা নন৷ তবে সংসদের সভাপতি যাই বলুন, মাধ্যমিকের মত উচ্চ মাধ্যমিকেও কড়া নজরদারি ব্যবস্থা সত্ত্বেও প্রশ্নপত্র কীভাবে পরীক্ষাকেন্দ্রের বাইরে বেরিয়ে এলে, সেই বিষয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠছে৷

Advertisement ---
---
-----