বিজেপি কর্মীর রহস্যমৃত্যুতে ফের ময়নাতদন্তের নির্দেশ দিল হাইকোর্ট

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: বিজেপি কর্মীকে খুন করা হয়েছে? নাকি তিনি আত্মহত্যা করেছে? এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর জানতে চায় কলকাতা হাইকোর্ট৷ তাই ওই বিজেপি কর্মীর দেহের পুনরায় ময়নাতদন্ত করার নির্দেশ দেওয়া হল হাইকোর্টের তরফে৷

পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার বাসিন্দা ছিলেন তাপস দে৷ তাঁর বাড়ি ছিল ওই জেলার আনন্দপুর থানার কাঁচাবেড়িয়া গ্রামে৷ চলতি মাসের ৪ তারিখ ভোরে তিনি প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন৷ তার পর তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার হয়৷

আরও পড়ুন: স্বপ্নার সাফল্যে সোনালী আলোয় ভাসছে জলপাইগুড়ি

- Advertisement -

গ্রামের একটি নিমগাছে নগ্ন অবস্থায় গলায় গামছা জড়ানো দেহ উদ্ধার হয় তাপসের৷ পরিবারের অভিযোগ, তাপসকে খুন করে গাছে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেই মতো আনন্দপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়৷

কিন্তু ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পর দেখা যায় তাপস আত্মহত্যা করেছে৷ এর পরই এ নিয়ে আপত্তি তোলা হয় পরিবারের তরফে৷ আপত্তি তোলে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বও৷ তারা অভিযোগ করে, পুলিশ সঠিক তদন্ত করছে না৷ শাসক দলের চাপে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে৷

আরও পড়ুন: ভারতীয় ট্রেনের গায়ে মধুবনী চিত্রকলা, প্রশংসা করল রাষ্ট্রসংঘ

এই পরিস্থিতি আদালতের দ্বারস্থ হয় তাপসের পরিবার৷ চলতি মাসের ১৬ তারিখ আদালতে মামলা করেন তাপসের ভাইপো ইন্দ্রজিৎ দে৷ তিনি পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ জানান আদালতের কাছে একই সঙ্গে আরও একবার ময়নাতদন্তের দাবি তোলেন৷

বুধবার ওই মামলার শুনানি ছিল৷ এজলাসে দাঁড়িয়ে মামলাকারীর দুই আইনজীবী ফিরোজ এডুলজি ও ব্রজেশ ঝা জানান, এই ঘটনার পিছনে রয়েছে গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে। তাপস দে একজন সক্রিয় বিজেপির কর্মী৷ তাই তাঁকে এভাবে খুন করা হয়েছে৷ তাঁর পরিবারকে উচিত শিক্ষা দিতে তৃণমূলের স্থানীয় দুষ্কৃতীরা এসব করেছে বলে তাঁরা অভিযোগ করেন৷

আরও পড়ুন: রোজভ্যালির থেকে কেন টাকা? ফাঁস করলেন শ্রীকান্ত

একই সঙ্গে তাঁরা আদালতকে জানান, দেড় বছর আগে তাপসের ইন্দ্রজিৎ দের সঙ্গে গ্রামেরই চারমাসের অন্তঃসত্ত্বা এক নাবালিকার সঙ্গে সালিশি সভা বসিয়ে জোর করে বিয়ে দিয়ে দেওয়া হয়। এর পর থেকে তৃণমূলের তরফে বারবার তাপস ও তাঁর পরিবারকে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল৷ কিন্তু পুলিশ কোনও ব্যবস্থা নেয়নি৷

তাই ইন্দ্রজিৎ বাড়ি থেকে পালিয়ে মেদিনীপুর আদালতে বিবাহবিচ্ছেদ ও ডিএনএ টেস্টের আবেদন করেন৷ গ্রামে বিষয়টি জানাজানি হয়৷ মামলকারীর আইনজীবীদের দাবি, এর পর ৩ অগস্ট রাতে তাপসের বাড়িতে আসে গ্রামের মাতাব্বর তপন পণ্ডিত, আশিস বারিক, সঞ্জিৎ বারিক, রণজিৎ বারিক-সহ বেশ কয়েক জন৷ তারা মামলা প্রত্যাহারের জন্য তাপস ও তাঁর পরিবারকে চাপ দেন৷ মামলা প্রত্যাহার না করলে ফল ভালো হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দিয়ে যান৷

আরও পড়ুন: ‘দেশের চাবিকাঠি মমতার হাতে, রাজ্যের চাবিকাঠি যুবরাজের হাতে’

এর পর পরদিন সকালে তাপস দে’র মৃতদেহ উদ্ধার হয়৷ ফলে গোটা ঘটনায় তৃণমূলই জড়িত বলে মামলাকারীর অভিযোগ৷ মামলার শুনানির শেষে বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এসএসকেএমের সুপারকে নির্দেশ দেন অবিলম্বে তাপসবাবুর দেহর ময়নাতদন্ত করতে৷ ওই দেহ এখন মেদিনীপুর হাসপাতালে রয়েছে৷ তিন সপ্তাহের মধ্যেই ময়নাতদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি৷

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর ডেডলাইনের আগেই মহাকাশে পৌঁছবেন ভারতীয় মহাকাশচারীরা

Advertisement
---