পুলিশকে বিভ্রান্ত করছে স্ত্রী খুনে অভিযুক্ত স্বামী

ছবি- প্রতীকী

স্টাফ রিপোর্টার, বালুরঘাট: সম্ভবত গাড়ির চাকাতেই পিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয়েছে স্ত্রী অনন্যার। পরক্ষণেই আবার বলছেন যে তিনি নিশ্চিত গাড়িতেই মৃত্যু হয়েছে তাঁর স্ত্রীর। কখনও বা বলছেন তিনি জানেনই না যে কী করে কোথায় মৃত্যু হয়েছে স্ত্রী অনন্যার।

এমনই সব অসংলগ্ন কথাবার্তায় নিজেকে আড়াল করার চেষ্টা করছেন গৃহবধূ খুনের ঘটনার মূল অভিযুক্ত সেল ট্যাক্স আধিকারিক। ধৃত আধিকারিক দিবাকর ঘোষকে বুধবার বালুরঘাট আদালতে হাজির করে তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বালুরঘাট শহরের বাস স্ট্যান্ড এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এখনও অধরা আরেক অভিযুক্ত মৃতার শাশুড়ি অর্চনা ঘোষ।

আরও পড়ুন: ব্যাকলেস পোশাকে এবার আপনিও গ্ল্যামারকুইন

দক্ষিণ দিনাজপুরের পতিরামের গৃহবধূ অনন্যা ঘোষকে খুনের ঘটনায় তাঁর স্বামী দিবাকর ঘোষ ও শাশুড়ি অর্চনা ঘোষের বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় এফআইআর করেছে পুলিশ। দিবাকর ঘোষ সেলস ট্যাক্স বিভাগের একজন সরকারি আধিকারিক। গঙ্গারামপুরের নারই এলাকায় অবস্থিত বিদেশি মদের ওয়ার হাউজে অ্যাসিস্ট্যান্ট কমার্শিয়াল ট্যাক্স আধিকারিক হিসেবে কর্মরত।

গত রবিবার পতিরামের নিচাবন্দর এলাকার বাড়ি থেকে স্ত্রী অনন্যা ঘোষকে রক্তাক্ত ও জখম অবস্থায় উদ্ধার করেন প্রতিবেশীরা। বালুরঘাট হাসপাতালে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পারে যে বহুদিন ধরেই অনন্যা ঘোষের উপর তাঁর স্বামী ও শাশুড়ি অমানুষিক অত্যাচার চালিয়ে আসছিল।

গত শনিবার রাতে বাড়ির ভেতর থেকে তাঁর কান্নার আওয়াজও পান প্রতিবেশীরা। রবিবার সকালে প্রথমে মাথায় আঘাত ও পরে মৃত্যু নিশ্চিত করতে গাড়ির চাকা দিয়ে মাথা পিষে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয় গাড়ি দুর্ঘটনায় স্ত্রী জখম হয়েছেন, তা প্রমাণ করতে নিজেই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন।

আরও পড়ুন: আকাশে ইদের চাঁদ দেখা গেলে ফোন করুন এই নম্বরে!

স্থানীয়দের দাবি, ইতিমধ্যে প্রতিবেশীরা দেখে ফেলে আর শেষরক্ষা হয়নি দিবাকর ঘোষের। মা অর্চনা ঘোষ ও বছর আড়াইয়ের কন্যাকে নিয়ে পালিয়ে যায় সে। মৃতার বাবা অমলেন্দু দত্তর করা লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে বালুরঘাট থানার পুলিশ স্বামী ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে বধূ নির্যাতন ও খুনের মামলা দায়ের করে।

এদিকে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বালুরঘাট স্ট্যান্ড থেকে বাসে চেপে দিবাকর ঘোষ বাইরে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। পুলিশ গিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করেছে। তবে রাতভর জেরা করা হলেও এখনও পর্যন্ত স্ত্রীকে খুনের কথা স্বীকার করেননি তিনি।

আরও পড়ুন: বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় তৎপর সেচ দফতর

পুলিশের অনুমান, নিজেকে আড়াল করতেই একের পর এক গল্পও ফাঁদছেন তিনি। কখনও বলছেন যে সম্ভবত গাড়ির চাকাতেই মৃত্যু হয়েছে। এক্ষেত্রে ঘটনাস্থল কখনও রাস্তায়। কখনও আবার অন্য কোনও স্থানের কথা বলছেন। খুনের কিনারা করতে তাঁকে আরও জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন বলেই নিজেদের হেফাজতে নেওয়া বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।

এব্যাপারে বালুরঘাট আদালতের এপিপি জয়ন্ত মজুমদার জানিয়েছেন, পতিরামে গৃহবধূকে নির্যাতন ও নৃশংস ভাবে খুনের অভিযোগে গ্রেফতার দিবাকর ঘোষের জামিনের আবেদন খারিজ করেছে আদালত। মুখ্য বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট হেদায়েতুল্লাহ ভুটিয়া তাঁকে ছয় দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। এই মামলায় আরেক অভিযুক্ত ধৃতের মা অর্চনা ঘোষ এখনও পলাতক।

আরও পড়ুন: থমকাবে বর্ষা, রাজ্যে কমবে বৃষ্টি