অটল নেই, শোকপ্রকাশ পলিটব্যুরোর

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: জ্যোতি বসু বলতেন, ‘‘আপনার সরকার বর্বর সরকার৷’’ কথাটা শুনে হেসে মাথা নেড়েছিলেন অটলবিহারী বাজপেয়ী৷ সিপিএমের সঙ্গে বিজেপির সাপে-নেউলে সম্পর্কের সূচনা হয়েছিল অটলবিহারী বাজপেয়ীর সময়েই৷

বৃহস্পতিবার বাজপেয়ীর জীবনাবসানের পর সিপিএম পলিট ব্যুরো অবশ্য শোকবার্তায় জানিয়েছে, ‘‘অটলবিহারী বাজপেয়ীর মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করছে পলিট ব্যুরো৷ ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর বর্ণময় রাজনৈতিক জীবন রয়েছে সংসদে৷ একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে তিনি প্রশংসার অধিকারি৷’’ সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি ট্যুইট করে জানান, রাজনৈতিক ও আদর্শগত মতপার্থক্য থাকলেও তাঁর চরিত্রগত সাম্যতা উল্লেখযোগ্য৷ শোকপ্রকাশ করছি৷

বাবরি মসজিদ বিতর্ক কিংবা গুজরাট দাঙ্গা, বেসরকারিকরণ কিংবা এনডিএ-এর অর্থনীতি, অধিকাংশ বিষয়েই বামেদের সঙ্গে অটলবিহারী বাজপেয়ীর সম্পর্ক ছিল ঝাঁঝালো৷ কিন্তু বাম নেতাদের প্রসঙ্গে কোনও দিনই অশ্রদ্ধা প্রকাশ করেননি অটল৷

পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর সঙ্গে অটলবিহারী বাজপেয়ীকে এক মঞ্চে দেখা গিয়েছিল ১৯৮৮ সালে৷ বিশ্বনাথ প্রতাপ সিং সরকারের দুই সহযোগী ছিলেন বামফ্রন্ট ও বিজেপি৷ কলকাতার শহিদ মিনার ময়দানে একমঞ্চে দেখা যায় জ্যোতি-বাজপেয়ীকে৷ ভি পি-র সরকার চেয়ে একসঙ্গে মুষ্টিবদ্ধ হাত তোলেন তাঁরা৷ তবে তার আগে থেকেই একাধিক ক্ষেত্রে এক মঞ্চে হাজির ছিলেন জ্যোতি বসু ও অটলবিহারী বাজপেয়ী।

কেরলের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ই কে নায়নারের সঙ্গেও অটলবিহারী বাজপেয়ীর অসাধারণ সম্পর্ক ছিল৷ অনেকবার তাঁদের দু’জনকে এক ফ্রেমে ক্যামেরাবন্দী করা গিয়েছে বহু বার৷ কলকাতায় বক্তব্য রাখতে এসে বাজপেয়ী আক্ষেপ করেছিলেন, ‘‘জ্যোতিবাবু আমার সরকারকে বর্বর সরকার বলেছেন …৷’’ কিন্তু জ্যোতিবাবু বা বামপন্থীদের সম্পর্কে কোনও অসংবিধানিক মন্তব্য করেননি৷ হয়তো এই ধরণের কিছু কারণেই, সংশোদীয় গণতন্ত্রে তিনি উচ্চতায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন৷

Advertisement
----
-----