মমতার ভূমিকায় এক হল সিপিএম-বিজেপি

বিজয় রায়, কলকাতা: রাজনীতির দোলাচলে কে কখন কার পক্ষ নেয় বোঝা বড় কঠিন৷ নীতি আদর্শ বিসর্জন দিয়ে মুহূর্তে সমঝোতার রাজনীতিতে মিলেমিশে এক হতে সংকোচ বোধ করে না কোনও পক্ষই৷ রাজনীতি কারবারিদের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ নতুন কিছু নয়৷ এবার ফের একবার সেই পা বাড়াল সিপিএম ও বিজেপি৷ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের ডাকে মাও-প্রভাবিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের না যাওয়ার সিদ্ধান্তই যুযুধান দুই পক্ষকে এক করে দিল কিনা এখন এই প্রশ্নই তুলছেন ওয়াকিবহাল মহলের একটা অংশ৷

মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে বসার অনেকদিন আগে থেকেই রাজ্যে মাও-দমনে কেন্দ্রীয় বাহিনীর মোতায়েনের ঘোর বিরোধী ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ অথচ মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে বসার পর কেন্দ্রীয়বাহিনী প্রত্যাহার করা নিয়ে কখনোই সরব হতে দেখা যায়নি তৃণমূল নেত্রীকে৷ এদিকে একাধিকবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, রাজ্যে কোনও মাওবাদী সমস্যা নেই৷ এখন মমতার এই দ্বিচারিতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে কেন্দ্র৷ একই সঙ্গে রাজ্যকে মাও ফ্রি স্টেট বলেও ঘোষণা করা হবে বলে নবান্নকে জানিয়েও দেওয়া হয়েছে৷ কেন্দ্রের এই ভূমিকায় বেঁকে বসেছে রাজ্য৷

সূত্রের খবর, কেন্দ্রীয় বাহিনী প্রত্যাহারে রাজ্য সমস্যায় পড়তে পারে৷ সীমান্ত পার করে খুব সহজে মাওবাদীরা এই রাজ্যে প্রবেশ করবে৷ নতুন করে সংগঠনে শক্তি বৃদ্ধি করবে৷ ফের জঙ্গলমহলে শুরু হবে খুনের রাজনীতি ৷ এই যুক্তি সাজিয়েই মমতার সরকার কেন্দ্রীয় বাহিনী প্রত্যাহারের বিরোধিতা করে৷ সূত্রের খবর রাজ্যের এই আবেদনে সাড়া দিতে নারাজ কেন্দ্র৷ নরেন্দ্র মোদীর সরকারের বক্তব্য, রাজ্যে যদি মাওবাদী না থাকে তাহলে নতুন করে কেন্দ্রীয় বাহিনী রেখে দেওয়ার কোনও মানে হয় না৷

- Advertisement -

আরও পড়ুন: মুকুল রায়ের সংসারে ভাঙন ধরাল বিজেপি

এবার এই ইস্যু নিয়েই কাছাকাছি এল সিপিএম ও বিজেপি৷ এদিন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা তথা প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি রাহুল সিনহা ব্যাঙ্গ করে বলেন, ‘‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঠিকই বলেছেন৷ এই রাজ্যে মাওবাদীরা নেই৷ তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা-কর্মীরাই পোশাক বদল করে মাওবাদীর ছদ্মবেশ ধরে৷’’ একই সঙ্গে তাঁর আরও দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই জানেন না তিনি কি বলছেন, আর না বলছেন৷ বার বার মিথ্যে কথা বলার কারণেই মমতা নিজের জালে নিজে জড়িয়েছে বলেও দাবি করেন রাহুলবাবু৷

এদিকে বিজেপি নেতার বক্তব্যের সঙ্গে হুবহু মিল পাওয়া গেল সিপিএম নেতা মহম্মদ সেলিমের কথাতেও৷ এদিন সেলিমকে ফোন করা হলে তিনি বলেন, ‘‘বাম আমল থেকেই মাওবাদীদের সঙ্গে গোপনে ঘর বেঁধেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ এক সময় যারা মাওবাদী ছিল তারাই এখন তৃণমূলে ভিড়েছে৷ ফলে রাজ্যে মাওবাদী নেই বলেই একাধিকার দাবি করা হচ্ছে৷’’

এদিকে সোমবার মাও-দমনে ‘ইউনিফায়েড কম্যান্ড ফোর্স’ গঠন নিয়ে মাও-অধ্যুষিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং৷ সূত্রের খবর সেই বৈঠকে যোগ দেবেন না এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী৷এপ্রসঙ্গে সেলিমের বক্তব্য জানতে চাওয়া হলে স্পষ্ট করে কিছু বলেননি তিনি৷বরং তাঁর কথা অনুযায়ী, এর আগেও মাওদাবদীদের নিয়ে নাটক করেছেন মমতা৷এইবারও করছেন৷মাওবাদীদের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক গড়ায় তৃণমূলনেত্রী আসলে নিজেই নিজের ফাঁদে পড়েছেন৷

কাদের ছত্রছায়ায় রাজ্যে মাওবাদীদের বাড়বাড়ন্ত তা নিয়ে সিপএম ও তৃণমূল দরকষাকষি নতুন কিছু নয়৷ একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল যেমন রাজ্যে মাওবাদীদের বাড়বাড়ন্তের জন্য সিপিএমকে দোষারোপ করে গিয়েছে, অন্যদিকে তৃণমূলকেও এরজন্য কাঠগড়ায় তুলেছে সিপিএম৷ কিন্তু এরই মাঝে সিপিএমের সুরে যেভাবে সুর নিলিয়ে সেলিমের পাশে দাঁড়ালেন রাহুল সিনহা, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা

Advertisement
----
-----