স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: তৃণমূল কংগ্রেসের মতোই কি গেরুয়াতঙ্কে ভুগছে সিপিএম-ও? কেন্দ্রীয় কমিটির দুদিনের বৈঠকের পর বুধবার দিল্লির গোপালন ভবনে সাংবাদিক সম্মেলন করেন দলের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি৷ সেখানে তিনি জানান, গত দুদিনের বৈঠকে একাধিক বিষয়ে আলোচনা হয়েছে৷ এর মধ্যে যা নিয়ে সবচেয়ে বেশি চর্চা হয়েছে তা হল, ধর্ম নিয়ে দেশজোড়া বিজেপি ও সংঘ পরিবারের রাজনীতি৷ ইয়েচুরির মতে, এই বিদ্বেষমূলক প্রচারের লক্ষ্য মূলত সংখ্যালঘু ও দলিত সম্প্রদায়ের লোকেরা৷ তাই কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে স্থির হয়েছে, এঁদের স্বার্থেই আগামী দিনে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে৷

 আরও পড়ুন: আদবাণীকে নারদের ‘এথিক্স’ খোঁচা সেলিমের

মাত্র ক’বছরে এ রাজ্যে বিজেপির উত্থানে সিপিএম যে শঙ্কিত, সে কথা বিভিন্ন সময়ে রাজ্যের মার্কসবাদী নেতাদের কথাতেই ঘুরেফিরে এসেছে৷ এ প্রসঙ্গে রাজ্য কমিটির সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র থেকে শুরু করে বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তীর বক্তব্য, বিজেপির উত্থান মানেই রাজ্যে দাঙ্গার পরিস্থিতি তৈরি হওয়া৷ তাঁদের রক্তচাপ আরও বাড়িয়ে মাত্র কয়েকদিন আগেই প্রকাশিত হয় দক্ষিণ কাঁথি বিধানসভার উপনির্বাচনের ফল৷ যা থেকে পরিষ্কার, তৃণমূল জমানায় এ রাজ্যের বিরোধী ভোট সন্তর্পণে বিজেপির ঝুলিতে চলে যাচ্ছে৷ যে রাজ্যকে এক সময় বাম রাজনীতির দুর্গ বলা হত সেখানেই যখন এই পরিস্থিতি তখন অন্যান্য রাজ্যে আগামী দিনে দলের কী দশা হবে সেটা খুব ভালোমতোই টের পাচ্ছেন সিপিএম নেতারা৷ আর তাই বিজেপির বিরুদ্ধে বামেদের আরও বেশি সংঘবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানালেন সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক৷

আরও পড়ুন: গেরুয়া শাসনে এই রাজ্যেও বন্ধ হল মদের দোকান

শুধু সিপিএম নয়, রামনবমীর মিছিল দেখে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল এ রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসও৷ মিছিলের পরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, ‘‘আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে’’৷ যদিও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশাসন মিছিল হওয়ার আগে কেন বাধা দেয়নি তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন এ রাজ্যের সিপিএম তথা বাম নেতারা৷

আরও পড়ুন: নারদ কাণ্ডে অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবিতে ফের পথে বামেরা

সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রস্তাব থেকে পরিষ্কার— বিজেপি-র হিন্দুত্ববাদী প্রচারের বিরুদ্ধেই পালটা প্রচার ও আন্দোলন কর্মসূচিতে জোর দিতে চাইছে তারা৷ এই কর্মসূচির জন্য তাদের আরও বেশি অক্সিজেন জুগিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক রায়৷ যেখানে বাবরি মসজিদ ধ্বংসের দায়ে লালকৃষ্ণ আদবানি, মুরলিমনোহর জোশি, উমা ভারতী সহ বিজেপি তথা সংঘ পরিবারের ২১ জনের বিরুদ্ধে নতুন করে মামলা করতে বলেছে সুপ্রিম কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ৷

আরও পড়ুন: ‘অধিকারী দুর্গে’ সিপিএম ভোটে গেরুয়া থাবা!

সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকের আগে ভুবনেশ্বরে দুদিনের কর্মসমিতির বৈঠকে বসে বিজেপি-ও৷ সেখানে দলের সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ বলেন, নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে এখন বিজেপি-র স্বর্ণযুগ চলছে৷ সেখানেই না থেমে আরও একধাপ সুর চড়িয়ে তিনি দাবি করেন, ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে বাংলা, বিহার ও ওড়িশা থেকে কম করে ১০০ আসন পাবে বিজেপি৷ অমিত শাহ-র এই হুংকারের পর স্বাভাবিকভাবেই গোপালন ভবনে সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে বিজেপি-বিরোধী পালটা কর্মসূচির উপর আরও বেশি করে জোর দেওয়া হয়৷

শুধু সিপিএম নয়, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি-র উত্থানে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসও যে ত্রস্ত তা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বুধবারের তৎপরতায় পরিষ্কার৷ দিন কয়েক আগে যে রাজ্যে বিজেপির কর্মসমিতি বৈঠকে বসেছিল সেখানেই এদিন সে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়েকের সঙ্গে একান্ত বৈঠক করেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী৷ তার আগের দিন পুরীর জগন্নাথ মন্দির পুজো দেন তিনি৷ ঠিক পরের দিনই দুই প্রতিবেশী রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর এই সাক্ষাৎকার৷ এর পিছনে কি আঞ্চলিক কোনও জোট সমীকরণের রাজনীতি কাজ করছে? কিন্তু যে সমীকরণই থাক, সেখানে তো সিপিএম তথা বামেদের ঠাঁই হবে না৷ সেই ভয়টাই কি এই মুহূর্তে আরও বেশি করে তাড়া করছে মার্কসবাদী পার্টিকে? এই প্রশ্নটাই তুলছে ওয়াকিবহাল রাজনৈতিক মহলের বিভিন্ন অংশ৷

----
--