কংগ্রেস-সমঝোতা নিয়ে সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় কমিটিতে, সিপিএমের কাঁটা বাম শরিকরা

দেবময় ঘোষ, কলকাতা: অক্টোবরে কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকেই রাজ্যে কংগ্রেসের সঙ্গে আসন সমঝোতা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে সিপিএম৷ তবে বামফ্রন্টের বাকি শরিকরা ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে কংগ্রেসের সঙ্গে আসন সমঝোতার বিষয়টি কীভাবে চাইছে তা এখনও পরিষ্কার নয়৷ তবে যাই হোক, লোকসভা নির্বাচনের অনেক আগে থেকেই রাজ্য জুড়ে প্রচার জোরদার করতে চাইছে সিপিএম৷ আসন সমঝোতার বিষয়টি চূড়ান্ত করে প্রচারে দ্বিধাহীন মন নিয়ে নামতে চাইছে সিপিএম৷ তবে তার জন্য অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় নেই৷

সিপিএমের বেশ কিছু সূত্র থেকে খবর, রাজ্য কমিটির বৈঠকে সংখ্যাধিক্য সদস্য কংগ্রেসের সঙ্গে আসন সমঝোতার পক্ষেই মতামত দিয়েছেন৷ তবে রাজ্য কমিটির সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত নয়, তা তাঁদের জানিয়ে দিয়েছেন রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র৷ একমাত্র কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকেই এই সিদ্ধান্ত হতে পারে৷

চলতি বছরের এপ্রিল মাসে হায়দরাবাদে ২২ তম পার্টি কংগ্রেসে পলিটিকাল ট্যাকটিকাল লাইন (পিটিএল) ঠিক করেছিল সিপিএম৷ সেখানে সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি এবং প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ কারাতের দুই বিবদমান গোষ্ঠীর পিটিএল নিয়ে লড়াইয়ের সুযোগই ছিল না, কারণ সেখানে হাত তুলে ভোট দেওয়ার বদলে গোপন ব্যালটে ভোট দান চেয়েছিলেন প্রায় ৭৮৬ জন কমরেড৷

- Advertisement -

এখানে মনে রাখা প্রয়োজন, পার্টি কংগ্রেসের আগে কলকাতায় কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে বিবাদমান দুই পক্ষ, প্রকাশ কারাট এবং সীতারাম ইয়েচুরি আলাদা-আলাদা ভাবে দুটি খসড়া রাজনৈতিক অঙ্গীকারপত্র পেশ করেন৷ শেষ ৫০ বছরে সিপিএমে দুটি দুটি খসড়া রাজনৈতিক অঙ্গীকারপত্র পেশের নজির ছিল না৷ ধর্মনিরপেক্ষ শক্তির সঙ্গে আসন সমঝোতার (এক্ষেত্রে পড়ুন কংগ্রেস) প্রশ্নেই বর্তমান এবং প্রাক্তনের মতামত আলাদা হয়ে যায়৷

কারাটের পেশ করা খসড়া রাজনৈতিক অঙ্গীকারপত্র, যা পার্টির আগামী দিনের পলিটিকাল ট্যাকটিকাল লাইন নির্ধারিত করে, ভোটাভুটির মাধ্যমে তা অনুমোদিত হয়েছিল৷ তবে পার্টি কংগ্রেসে শেষ পর্যন্ত গোপন ব্যালটে ভোট হয়নি৷ কারণ পার্টি নেতৃত্ব গোপন ব্যালটে ভোট হোক, তা চায়নি৷ বরং খসড়া রাজনৈতিক অঙ্গীকারপত্র সংশোধন করে ধর্মনিরপেক্র শক্তির সঙ্গে Electoral Understanding কে মান্যতা দেওয়া হয়৷

রাজ্য পার্টি সূত্রে যা খবর, কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকের আগেই সেপ্টেম্বরের ২৬ তারিখ পলিটব্যুরোর বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে৷ ইতিমধ্যেই সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি রাজ্য কমিটিগুলিকে নিজস্ব পলিটিকাল স্ট্র্যাটেজির রিপোর্ট পেশ করতে বলেছেন৷ প্রতিটি রাজ্যের বিষয় আলাদা ভাবে আলোচনা হবে৷ বাংলা থেকে কেন্দ্রীয় কনিটির এক প্রবীণ সদস্যের কথায়, ‘‘জাতীয় ক্ষেত্রে বিজেপিকে আটকানোই আমাদেক মূল লক্ষ ৷ কিন্তু রাজ্যের ক্ষেত্রে, তৃণমূল এবং বিজেপি, এই দুই পক্ষের সঙ্গেই আমাদের রাজনৈতিক মোকাবিলা চলবে৷ পলিটিকাল ট্যাকটিকাল লাইন হবে সেই রকমই৷ কংগ্রেসের সঙ্গে আসন সমঝোতার বিষয়টা চূড়ান্ত নয়৷’’

তবে বাম শরিকরা কাঁটা হয়ে দাঁড়াবে, তা প্রায় ঠিক৷ সিপিআই এবং ফরওয়ার্ড ব্লকের শীর্ষনেতারা যেমন পরিষ্কার বলছেন, ‘‘২০১৬ সালে (রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে) সিপিএমের সঙ্গে কংগ্রেসের জোট হল৷ ওরা সেঠা বাকি বাম দলগুলির ওপর চাপিয়ে দিল৷ এবার সেটা মেনে নেব না৷ যা হবে বামফ্রন্টগত ভাবে ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে হবে৷ সিপিএম সমঝোতা করতে পারে কংগ্রেসের সঙ্গে৷ কিন্তু শরিকদের আসনের বিনিময়ে নয়৷’’

Advertisement ---
-----