জনতার পালস বুঝতে ব্যর্থ সিপিএম

প্রতীকী

গোবিন্দ দেবনাথ- সুজয় পাল, আগরতলা ও কলকাতা: ‘‘জনতার পালস বুঝতে পারিনি’’- অকপট স্বীকারোক্তি বাম নেতার!

নাহ্, ত্রিপুরার সদ্য প্রাক্তন হওয়া মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারের বয়ান নয়৷ প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে নারাজ অন্য নেতারাও৷ তবে একান্ত আলাপচারিতায় অকপটে একথা মেনে নিয়েছেন সিপিএমের আগরতলার একাধিক শীর্ষ নেতা৷

২৫ বছর ত্রিপুরায় ক্ষমতায় রাখার জন্য ভোটারদের ধন্যবাদ দিয়েছেন সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি। গোটা দেশের মত ত্রিপুরাতেও বামেদের বিজেপি-বিরোধিতা জারি থাকবে বলে এদিন ট্যুইট করেছেন তিনি।

শনিবারের বারবেলায় মেলার মাঠ সংলগ্ন সাততলা ‘লাল’ ভবনের সামনে দাঁড়িয়ে আক্ষেপ করছিলেন সিপিএমের আর এক প্রবীণ শীর্ষ নেতাও৷ তাঁর অকপট স্বীকারোক্তি, ‘‘আমাদের ধারণা ছিল অন্তত ৪০ টি আসন পাব৷ কিন্তু ফলাফল থেকেই স্পষ্ট আমরা জনতার মন বুঝতে ব্যর্থ হয়েছি৷’’ তাঁর কথায়, ‘‘বাংলার পর যেভাবে ত্রিপুরা থেকেও আমরা কার্যত মুছে গেলাম, তাতে এটা শুধু লজ্জার নয়, যথেষ্ঠ ভয়াবহও৷’’ পশ্চিমবঙ্গেও একই অবস্থা। আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে দলের রাজ্য দফতরে ঢোকা ও বেরনোর সময় মিডিয়ার হাত থেকে কার্যত পালিয়ে বাঁচলেন একাধিক নেতা।

ওই নেতার আরও সংযোজন, ‘‘আদিবাসী মানুষ আমাদের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে৷ আমরা বিজেপিকে আন্ডারএস্টিমেট করেছিলাম৷ হাতে নাতে তার ফল পেতে হল৷’’ স্বভাবতই মেলার মাঠে সিপিএমের বহুতল পার্টি অফিসটা শনিবারের বেলায় কার্যত শ্মশানে পরিণত হয়েছে৷ কমরেডদের চোখ, মুখ ভীষণভাবেই থমথমে৷ আক্ষেপের সুরে তাঁরা বলছেন, ‘‘টানা ২৫ বছর ক্ষমতায় থাকার পরও আমরা জনগণের মন বুঝতে ব্যর্থ হয়েছি৷ এর থেকে লজ্জার কি বা হতে পারে!’’

বাংলার পথে হেঁটে ত্রিপুরাও কার্যত লাল-শূন্য৷ অন্যদিকে গেরুয়ার উচ্ছ্বাসে সিঁদুরে মেঘ দেখছেন বঙ্গের তৃণমূল নেতারা৷

----
-----